somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোঃ জাহিদুল ইসলাম (অভ্র)
মহান সৃষ্টিকর্তার নশ্বর পৃথিবীতে আমি একজন ঠুনকো ছায়া। হয়তো একদিন চলে যাবো,চলে যাবে আমার সব চাওয়া-পাওয়া কিংবা পদরেখা। তবে, রেখে যেতে চাই নিজের তৈরী করা কিছু কীর্তি। যাতে, আমার প্রতি ভালোবাসা কারো কমে না যায়। ভালোবাসুন ভালো থাকুন....

হারানো দিনের সেই ল্যান্ডফোনের ধারে কাটানো সময়

১১ ই এপ্রিল, ২০১৫ রাত ৮:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জীবনের প্রতিটি ঘটে যাওয়া ঘটনা সাময়িক অসহ্য লাগলেও, একসময় সে অসহ্য নামক যন্ত্রনাটাই বারবার পেতে ইচ্ছে করে।
ঘরের একদম কোণার সোফায় বসে আনমনে ম্যাগাজিনের পাতা উল্টাচ্ছিলো অনুপমা। হঠাৎ করে ল্যান্ডফোনটার বিকট শব্দে সম্বিত ফিরে পেলো।
সেদিনের পর থেকেই ল্যান্ডফোনটায় প্রতিদিন কেন যেনো বিকালে ৫:৩০ এ একটা আননোন নাম্বার থেকে কল আসতো। অনুপমাও ফোনটা ধরতো নিয়ম করে। শুধু ওপাশে একজন মানুষের নিঃশ্বাসের শব্দ ছাড়া আর কিছুই শোনা যেত না। কেউ কখনো কথা বলতো না। ফোনটা অনুপমা নিজে না কাটা পর্যন্তও কেউ ওপাশ থেকে ফোনটা কাটতো না। কাল্পনিক হলেও বাস্তব যে অনুপমা ড্রয়িং রূমে ঘুরে ঘুরে বিকেল সাড়ে পাঁচটেয় আসবে আর ফোনটাও ঠিক সে সময়টাতেই আসবে
.
প্রথম প্রথম অনুপমা মনে মনে ভাবতো হয়তো প্র্যাঙ্ক কল,কেউ হয়তোবা মজা করার জন্য ফোন দিচ্ছে। এজন্যই বোধহয় হ্যালো
বলে কে কে করেছিল অনেকক্ষণ। উত্তর পায় নি।
বেশ কয়েকদিন পর যখন বুঝলো প্রতিদিন সাড়ে পাঁচটেয় কল আসবে, অনুপমা কয়েকদিন খুব গালাগালি করেছিল এমনকি তার ছোট ভাই আর বন্ধুদের দিয়েও। তাতেও কেন জানি ফোন আসা বন্ধ হয়নি।
.
একদিন অনুপমার মন অনেক বেশি খারাপ ছিলো কোন এক অজানা কারণে; ঠিক প্রতিদিনকার মত কল এলো।
.
-- “হ্যালো!”
-- উত্তর নেই ওপাশের, থাকার কথাও না।
-- “আচ্ছা আপনি তো উত্তর দিবে্ন না। জানি তো। তাও প্রতিদিন হ্যালো বলি। খুব বিরক্তিকর লাগে। কিন্তু আজকে আমি অনেক কথা বলব। কারন আজকে কথা শেয়ার করার মত কাউকে পাচ্ছি না…”
-- দীর্ঘ দু'ঘন্টা অনুপমা কথা বলা শুরু করে। বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে গেলে ফোনটা রেখে দেয়। এরপর
থেকে প্রায় প্রতিদিনই অনুপমা এভাবে ফোনে কথা বলে। আর
ফোনটাও কখনো এক মিনিট আগে পিছে হয় না।
.
অলস বিকালে অনুপমা একা একা কথা বলেই যায় গোধূলি পর্যন্ত ফোনের অজানা
সাথে।তারপর হঠাৎই একদিন, সাড়ে পাঁচটায় ফোন বাজে না। অনুপমা অপেক্ষা করে,
ল্যান্ডফোনের ধার । ফোনটা সেদিন আর বাজে না। পরদিনও না তার পরদিনও না। অনুপমাও অপেক্ষা করে ল্যান্ডফোনের পাশে। বসে বসে
অস্থির হয়ে পা ঝাকায় কখনো নখ খুঁটে। ফোনটা আর আসে না
একমাস অপেক্ষা করে অনুপমা এভাবে, ফোনের ধারে, ঠিক
সাড়ে পাঁচটায়। সারাদিন ফোনের আসেপাশে থাকে না, ঠিক সাড়ে পাঁচটায় যেয়ে বসে ল্যান্ডফোনের ধারে।
.
একদিন দুদিন হঠাৎ অনুপমার মা খেয়াল করে ব্যাপারটা। জিজ্ঞেস করে, কি রে ফোন করবি? অনুপমা বলে, না একটা ফোন আসার কথা। মা বলে, ও আগে বলবি না? ফোন তো নষ্ট গত একমাস ধরে। লাইন নেই!
.
.
পাঁচ বছর পর,
.
অনুপমা আর #অভ্র বিকেলে ছাদের উপরে বসে গল্প করছে,নিতান্তই তাদের বিয়ের আগের কিছু স্মৃতিময় অংশ নিয়ে । দুজনের হাতে ধোঁয়া উঠা গরম চা। বিবাহিত জীবন কাটিয়ে এসেছে বহু বছর হল। কি একটা কারনে হঠাৎ ল্যান্ডফোনের প্র্যাঙ্ক কলের প্রসঙ্গ চলে আসে।
.
অভ্র অনেকটা হাসিমুখে বললো, “ঠিক পাঁচ বছর আগে আমি একটা নাম্বারে ফোন দিতাম। ঠিক সাড়ে পাঁচটায়। একটা মেয়ে নিয়ম করে ফোন ধরতো। আমি কখনো উত্তর দিতাম না! কিন্তু সেই মেয়ের
সব কথা শেয়ার করতো…”
অনুপমা অবাক হয়ে জিঙ্গেস করে, “তারপর?”
“তারপর আর কিছু না। একদিন মেবি ওই ফোনটা ডেড হয়ে যায় বা
কিছু একটা, অনেকবার কল দিয়েও কাওকে পাইনি। একসপ্তাহ পর কল করি কিন্তু একসময় সে চেষ্টাও বন্ধ করে দেই।”
.
অনুপমা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে অভ্রর দিকে, ঘড়িতে তখন বিকেল সাড়ে পাঁচটা।
.
অনুপমার মনে পড়ে যায় সেই হারানো বিকেল গুলোর কথা, হারিয়ে যায় সেই গোধূলি বিকেলের অজানা একজনের সাথে মোবাইলে কথা বলার স্মৃতিপটে.....
.
---------
অন্ধকার আকাশ্
---------
.
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×