অনেকক্ষণ ধরে টং এর দোকানে বসে, ক্যাম্পাসের বড় ভাইদের দেয়া এক কাপ পলিটিক্যাল চা আর সিগ্যারেটের ধোঁয়া উড়াচ্ছিলাম হঠাৎ নিঃস্ত্বধতা ভাঙলো কিছু কলেজ পড়ুয়া ছেলেদের চেচাঁমেচিতে। দেখতে ভালই, হ্যান্ডসাম, বেসরকারি কলেজগুলোর হবে হয়তো,
.
-- দোস্ত তনুরে পটাইয়া ফেলছি।
-- ব্যাটা পার্টি দে, তাইলে মেঘলার কি হল?
-- আর বলিস না, বেশি ভাব নেয়, গায়ে হাত দিলেই চিৎকার করে উঠে । শুধু কিস কইরা আর টিপা-টুইপা ছ্যাইরা দিছি। ওর চাইতে নিশাত ভালো ছিল, ওইটারে তো একটু আকটু....চলতো, দুই একবার করছিও
-- ব্যাটা তুই একটা চিজই, তো এইটারে কতদিন রাখবি?
-- দোস্ত তুই তো জানিস, আমার আবার এক তরকারি বেশিদিন খাইতে ভালো লাগে না, নতুন নতুন তরকারীর স্বাদ নেয়া আমার নেশা। চিন্তা করেছি, তনুর সাথে টি-টোয়েন্টি ফাইনাল ম্যাচ খেলে ছেড়ে দিব।
-- তোর যশ আছে রে, এতগুলা মেয়েরে কি করে এমনে পটাস? তুই তো পুরা রোমিও হয়ে গেলি, আমাদেরও একটু করতে দিস্ মাঝে মাঝে।
-- হুম কাল রাত্রে চলে আসিস্ রিশাত আসবে তখন পেলে পেতে পারিস, দোস্ত তন্বী ফোন দিছে, তোর সাথে পরে কথা হবে।
-- এইটারে আবার কবে পটালি?
-- গতকাল,বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে।
.
একজন বিজয়ীর মত হাসি দিয়ে চলে যায়। এই টাইপের ছেলেগুলোকে প্লে বয় বলা হয়। এরা অনেকটা গায়ের ময়লা টি-শার্টের মত মেয়ে বদলানো এদের কাজ। এরা একসাথে কলোনি,ক্যাম্পাস, আশে-পাশে কয়েকটা রিলেশন করে, উদ্দেশ্য হাসিল হলেই ছেড়ে দিয়ে আরেকটা ধরে। এদের উদ্দেশ্যটাই এমন
.
এদেরকে এই যুবতী/রমণী সমাজ উপাখ্যান দিয়েছে আধুনিক ছেলে, হাতে ব্রেসলাইট, চুলে জেল,মোটরবাইক নিয়ে সারাদিন স্কুল/কলেজের গেটের আশেপাশে,মেয়েদের পিছন পিছন ঘুরাই এদের কাজ। একটু চোখাচোখি হলেই বাইকের পেছনে নিয়ে ঘুরা আর শেষকালে #লিটনের ফ্ল্যাট।
.
প্রত্যেকটা মানুষের জীবনের ১৫-২১ বছর সময়টা হল অদ্ভুত একটা সময়। এই সময়ে যা দেখে তাই ভালো লাগে, প্লে বয় টাইপ ছেলেরা একটু হিরো টাইপের হয় বলে মেয়েরা তাদের জালে খুব তাড়াতাড়ি ফেসে যায়। আবেগের বশবর্তী হয়ে রিলেশন করে, নিজের সতীত্বটুকু নিজ হাতে হিংস্র কুকুরের কাছে তুলে দেয়। অন্যদিকে নিতান্ত ভালো ছেলেগুলোদের দিকে কুকুরের মত আচরণ করে জমে থাকা জ্বালাগুলোর বহিঃপ্রকাশ করতে থাকে।
.
প্রাকৃতিক চক্রের মত কুকুরের কাজ কুকুর করে নেয়,কুকুরটা সব চেটেপুটে খেয়ে চলে যায়।
দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, বেশীরভাগ মেয়েরাই এদের প্রেমে পরে তারপর একটা এক্সিডেন্ট ঘটিয়ে দুনিয়ার সকল ছেলেদের একরকম মনে করে, ঘরের এক কোনায় নিশ্চুপে কেঁদে কেঁদে রাত পার করে দেয়, কেউবা আবার সমাজে নিজের অবস্থানের কথা ভেবে নিজের জীবনকে চিরবিসর্জন দিয়ে দেয়।
.
আপু/মেয়েদেরকে বলছি, ভালোবাসো কোন সমস্যা নেই, কিন্তু অন্ধভাবে বিশ্বাস করে নিজের সতীত্বটুকু দিয়ে আসবেন না, একটা কথা মনে রেখ, যদি কোন ছেলে ভালবাসার দোহায় দিয়ে ভোগ করতে চায়, তবে সে তোমাকে নয়, তোমার দেহকে ভালবাসে।
প্লে বয়দের কাছ থেকে দূরে থাকার প্রতি সবাইকে অনুরোধ,আপনার মূল্য ছেলেটার কাছে ততদিন যতদিন না আপনার সতীত্ব অক্ষুন্ন থাকে। এক হাতে তালি বাজে না এটা
আমরা সবাই জানি, তুমি না চাওয়া পর্যন্ত কেউ তোমার গায়ে ফুলের টোকাও দিতে পারবে না। আবেগ দ্বারা নয়, বিবেগ দ্বারা সিদ্ধান্ত নাও, কোন কাজ করার আগে দশবার ভাবো। হতে পারে তুমিও ওকে খুব ভালোবাসো কিংবা ছেলেটা তোমাকে খুব ভালোবাসে তবুও এ কাজটা করোনা।
.
একটা জিনিষ কি জানো, মেয়েটা তোমার পুরো মূল্যই কিন্তু তোমার সতীত্ব। তোমার দেহ, তোমার সতীত্ব, তোমার সম্পদ একে হেফাজত করার দায়িত্ব তোমার। তোমার জীবন অন্য কারও জীবনের পরিপূরক নয়,
কারণ জীবন একটাই। জীবনে চলার পথে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার
আগে নিজের ফ্যামিলিকে জানাও, তোমার বাবা-মায়ের বিবেক-বুদ্ধি তোমার থেকে বেশি, তোমার অমঙ্গল হোক এমন কিছুই তারা
বলবেন না। প্রেম কর, ভালোবাসো কোন সমস্যা নেই, কিন্তু
নিজের মূল্যবান জীবনটা অন্য কারো জন্য অবহেলায় নষ্ট করে দিও না।
.
একটা কথা মনে রাখবে, মৃত্যুই সবকিছুর শেষ নয়। তোমার রেখে যাওয়া কলঙ্ক পুরো পরিবারকেই বইতে হবে সারাজীবন,
.
"মানুষ মরে গেলেই পচেঁ যায় কিন্তু বেঁচে থাকলেই বদলায়"
.
-------
অন্ধকার আকাশ্
-------
.
#অভ্র

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


