somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার দেখা সবচেয়ে সেরা মুভি!অনেকেই এটা দেখেছেন।যারা দেখেন নি তারা দেখে নিবেন :)

২১ শে জুন, ২০১৬ বিকাল ৫:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকে এমন একটা মুভির সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিবো যেটা দেখলে আপনি থমকে যাবেন আর শুধু একটা শব্দ মুখ থেকে বের হয়ে আসবে………… ‘অসম্ভব’!
কেন?
দেখে ফেলুন মুভিটা ……..আমি মুভি স্পয়েল করবোনা।শুধুমাত্র কাহিনী একটু পরিষ্কার করে দিবো আপনাদের কাছে।

‘INCENDIES’ শব্দটি একটি ‘ফ্রেন্স’ শব্দ । যার অর্থ আগুন। এটি একটি গা এর লোম দাঁড় করে দেবার মত মুভি ।
‘INCENDIES’ একটি কানাডিয়ান মুভি । মুভিটি মূলত ফ্রেন্স ভাষার,আরবি ও ব্যবহার হয়েছে এতে । এটি মুক্তি পায় ২০১০ এ সেপ্টেম্বর এ । মুভি এর পরিচালক ছিলেন ‘Denis Villeneuve’ . মুভিটি এর কাহিনী নেওয়া হয়েছে ‘Wajdi Mouawad’ এর নাটক ‘Scorched’থেকে। মুভিটি ৮টি এওয়ার্ড পায় ৩১তম ‘জেনি এওয়ার্ড’ এ । এটি ২০১১ সালে ‘বেস্ট মুভি ইন ফরেইন ল্যাঙ্গুয়েজ’ বিভাগে ‘একাডেমী এওয়ার্ড’ এর জন্য মনোনয়ন পায়। তা ছাড়া ‘নিউইয়র্ক টাইম্‌স’ এর মতে এটি ২০১১ এর সেরা ১০টি মুভি এর একটি। মুভিতে আপনি দেখতে পাবেন যে দুই ভাই-বোন কিভাবে তাদের মৃত মা এর জীবনের অজানা ভয়াল কাহিনী খুজে বের করে ।
এবার মূল কাহিনী তে আসা যাক। Simon এবং Jeanne হল দুই ভাই-বোন। একদিন কমিউনিটি সুইমিং পুল এ গিয়ে তাদের মা Nawal Marwan স্ট্রোক করেন। পরে তাদের মা মারা গেলে, তারা তার মা এর শেষ ইচ্ছে সম্পর্কে একটি চিঠি পায় । যাতে লেখা ছিল যে তারা যেন তাদের বাবা এবং তাদের আরেক হারানো ভাই কে খুজে বার করে তাদের হাতে চিঠি গুলো দেয়, যা সে লেখে গিয়েছিল । Simon রাজি না হলেও Jeanne তার মা এর শেষ ইচ্ছাপূরণ এর দায়িত্ব নেয়। এভাবেই মুভিটির শুরু ।
নাওয়াল ছিল একজন খ্রিষ্টান নারী যে মধ্যপ্রাচ্য এ থাকত । নাওয়াল এক মুসলিম ছেলে ‘ওয়াহাব’ এর সাথে ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলে । কিন্তু নাওয়াল এর ভাইরা তাদেরকে পালানো এর সময় ধরে ফেলে এবং ওয়াহাব কে গুলি করে মেরে ফেলে। তারপর নাওয়াল তার দাদী এর কাছে জানায় যে সে প্রেগন্যান্ট। পরে মুখ রক্ষা করার জন্য দাদী বিষয়টা গোপন করে এবং ছেলেটি জন্মানোর পর তার পা এ একটি চিহ্ন দিয়ে তাকে এতিমখানা তে দিয়ে দেয়। এরপর নাওয়ালকে তার চাচা ‘ছারবেল’ এর কাছে পাঠিয়ে দেয় তার দাদী পড়াশুনা করার জন্য যে কিনা ‘দারেশ’ নামক শহরে থাকত। কিন্তু এই সময় দেশে গৃহযুদ্ধ লেগে যায় । তখন নাওয়াল আবার তার গ্রামে ফিরে আসে তার হারানো ছেলে কে নিয়ে যেতে কিন্তু ‘কাফার কুট’ এর সেই এতিমখানা তে গিয়ে সে দেখে যে যুদ্ধে তা ধ্বংস হয়ে গেছে । তারপর সেইখান থেকে সে জানতে পারে যে বাচ্চাদেরকে দারেশ এর এক ক্যাম্প এ নিয়ে যাওয়া হয়েছে । কিন্তু সে ঠিকানাটা জানত না বলে পথে এক মুসলিম বহনকারী বাস এ উঠে ঐ ক্যাম্প এ যাবার জন্য। কিছুদুর যাবার পর পথে তাদের বাস কে খ্রিষ্টানরা আক্রমন করে। সেই খান থেকে সে খ্রিষ্টান পরিচয় দিয়ে ছাড়া পায়। বাকি সবাইকে গুলি করে মেরে তারা বাস এ আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে সে এই জঘন্য হত্যা এবং তার ছেলে হারানো এর প্রতিশোধ নেবার জন্য খ্রিষ্টান নেতা এর বাড়িতে তার বাচ্চা এর ফ্রেন্স ভাষা এর শিক্ষক হিসাবে চাকরি নেন । তারপর একদিন নাওয়াল সুযোগ মত সেই নেতা কে গুলি করে হত্যা করে । হত্যা এর শাস্তি হিসাবে তাকে ‘কফার র্যাসত’ এর জেল এ পাঠানো হয়। তার ১৫ বছর এর জেল হয়। তার নাম্বার ছিল ৭২। ‘The Woman Who Sings’ হিসাবে নাওয়াল জেল এ পরিচিত ছিল। কিন্তু একদিন আবু তারেক নামে এক নির্যাতনকারী নাওয়াল কে ধর্ষণ করে । পরে জেল এ নাওয়াল দুটি যমজ সন্তান এর জন্ম দেয়। নাওয়াল কে সন্তান জন্ম দেবার জন্য এক নারী সেবিকা সাহায্য করে। আবু তারেক সন্তান দুটিকে মেরে ফেলতে চাইলেও সেবিকা তাতে বাধা দেয় ।
পরবর্তীতে Jeanne আস্তে আস্তে এই সত্যগুলো উন্মোচন করতে থাকে। প্রথমে simon এই কাজ এ রাজি না থাকলেও পরে সে তার বোন কে সাহায্য এর জন্য একসাথে তাদের বাবা ও হারানো ভাই কে খুজতে লাগে। কিন্তু এইসব কি? প্রতিটি জায়গায় তারা নতুন নতুন তথ্য পাচ্ছে । এইভাবে মুভিটি তার প্লট ধরে সামনে এগোয় এবং দর্শক এর মনে ঐ দুই হারানো মানুষ এর পরিচয় জানার আগ্রহ তৈরি করতে থাকে। কিন্তু শেষ এ গিয়ে আপনি ঠিক আমার মতই চুপ হয়ে যাবেন কাহিনী দেখে। আর সিমন এর সেই ডাইলগ “ One plus One does it make One? ” তো আমাকে নির্বাক করে দিল ঠিক Jeanne এর মত । নির্বাক হবার দায়িত্বটা এবার আমি আপনার উপর ছেড়ে দিতে চাই । মুভিটা দেখার আমন্ত্রন রইল । আর আমি এতটুকু নিছচয়তা দিতে পারি যে এই টাইপ মুভি আপনি আগে কখনও দেখেন নি ।

মুভিতে নাওয়াল মারওয়ান এর চরিত্রে দেখা গেছে বেলজিয়ান অভিনেত্রী Lubna Azabal কে। তা ছাড়া ‘mélissa désormeaux-poulin’ ও ‘Maxim Gaudette’ কে দেখা গেছে যথাক্রমে Jeanne ও Simon চরিত্রে


ডাওনলোড লিংক সরিয়ে নেয়া হলো নিয়ম বহির্ভূত হওয়ায়।
Torrent এ যেয়ে মুভির নাম লিখে সার্চ দিয়ে মুভির প্রিন্ট পছন্দ অনুযায়ী নামিয়ে নিন।

ধন্যবাদ :)
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:২৭
১২টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×