
আমাদের ৩ টি সেকশনে ১৬৫ জন ছাত্র। আমার রুল নম্বর ২। যতই পড়ি না কেন, মনিরের সাথে পড়ালেখায় কুলিয়ে উঠতে পারি না। মনে মনে খুব হিংসা করি তাকে। কিন্তু আজ আনন্দ লাগছে না; খুব খারাপ লাগছে মনিরের জন্য।
পরীক্ষা শেষে রনি ও শুভকে নিয়ে আমি মনিরের খোঁজ নিতে বের হয়ে গেলাম।
মনির একটা বস্তিতে থাকে। বস্তিটি পানিতে ভাসছে। ছোট ছোট খুপড়ি ঘর। মনে হলো ঢেউগুলো বস্তির ঘরগুলোকে ঠেলে ফেলে দেয়ার চেষ্টা করছে।
ঘরে চুপি দিয়ে দেখি, খুঁটির উপর জোড়াতালি দেওয়া কাঠের ওপর বসে আছে মনির। কপালে হাত দিয়ে দেখি তার প্রচন্ড জ্বর। সে কাঁপছে। ঠোঁট-মুখ শুকিয়ে গেছে। তার সামনে একটা টিনের বাসনে চাল ভাজা ও পাউরুটির কিছু অংশ পড়ে আছে। তার বাবা নেই। তার মা ঝি-এর কাজ করতে গেছে। ঘরে সে একা। মনির লজ্জায় ছোট হয়ে বলল, “ভাই আমি তোদের বসতেও বলতে পারছি না। তোরা কেন খালি খালি কষ্ট করছিস? পরীক্ষা কেমন হলো রে বলেই সে ফুপিয়ে কাঁদতে লাগল সে।
বৃষ্টি ও বন্যার জলে সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে তার। ঘরের কোণায় দেখলাম তার খাতা, বই ভাসছে। এসব দেখে আমাদের চোখও ভিজে গেল। আমরা চিন্তাও করতে পারি নি, আমাদের ক্লাশের ফার্ষ্টবয় মনির এতটা গরিব।
আমরা চট করে বুদ্ধি পেয়ে গেলাম। আমরা তিন জন একত্রে তিনজনের বাসায় গিয়ে বাবা-মাকে সব খুলে বললাম। তাঁরা আমাদের কিছু টাকা দিলেন। আমরা মনিরের বাসায় রওনা হয়ে গেলাম। যাওয়ার পথে একটা চকি, স্যালাইন, ফিটকিরি ও পথ্য নিয়ে গেলাম। আমাদের হাতে ওসব দেখে তার মার চোখ ছানাবড়া। শেষে আমরা মনিরের হাতে কিছু টাকা দিয়ে চলে এলাম।
স্কুলে এসে স্যারদের কাছে মনিরের বিষয়ে সব বললাম। স্যারেরা বললেন, ‘ভালো কাজ কখনও হারিয়ে যায় না রে।
পরীক্ষা শেষ হওয়ার তিন দিন পরে মনির দুর্বল শরীর নিয়ে স্কুলে এলো। তার বিষয়টি নিয়ে স্যারেরা জরুরি মিটিং করলেন। পরে বিশেষ ব্যবস্থায় মনিরের পরীক্ষা নেয়া হলো।
পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন সবার চক্ষু ছানাবড়া। এবারও ফার্ষ্ট হয়েছে মনির!
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০২০ দুপুর ১:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



