
গরিবের ঘরে সুন্দরী কন্যা আর মেধাবী সন্তানের অন্তহীন যন্ত্রণা। কন্যা যতটা রূপ পায় ততটা মর্যাদা পায় না আর মেধাবীর যতটা মেধা ততটার বিকাশ ঘটে না। সমাজে কন্যাদায়গ্রস্থ পিতা-মাতার মত মেধাদায়গ্রস্থ পিতা-মাতার সংখ্যাও কম নয়। দারিদ্র্যদেবীর রুদ্ররূপের সামনে এদের স্বপ্ন, রূপ-রস আর মেধা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে বালিতে মিশে যায়। পরিণত হওয়ার আগেই এদের করুন পরিণতি ঘটে। এ সমাজ সংসারে আমাদের চোখের সামনে এরকম বহু করুন পরিনতির মর্মান্তিক দৃশ্য আমরা প্রতিনিয়ত উপভোগ করি। এতে আমাদের যতটা করুনা হয় ততটা কর্তব্যবোধ জাগে না।
দরিদ্র পিতা-মাতারা এ রূপের ও মেধার মূল্য-মর্যাদা না দিতে পেরে এদেরকে বড় ধরনের আপদ মনে করেন। তাঁরা আক্ষেপ করে বলেন, এসব একান্তই বড় ঘরের সম্পদ। স্রষ্টা তাঁর খেয়ালের বশে এদের গরিবের ঘরে পাঠিয়ে সৃষ্টিরহস্য জাহির করেন আর গরিবেরা এই দুর্ভেদ্য রহস্যের বেড়াজাল ছিন্ন করতে না পেরে বেঘোরে প্রায়শ্চিত্ত করেন।
বরাবরের মতো এবারও কৃতিত্বপূর্ণ ফললাভ করে আনন্দ করছে সবাই। সরকারও এটাকে অনেক বড় সাফল্য মনে করছে। বহু মেধাবী গরিব ছেলেমেয়ে না খেয়ে না পরে, কামলা খেটে মানবেতর জীবনযাপন করে পরীক্ষায় ভাল ফল অর্জন করেছে। পত্রিকার পাতা ভরে যাবে এসব অদম্য ছাত্রদের দুখের কাহিনিতে। তারপর সব থিতিয়ে যাবে।
কেউ কি ভেবেছে কত মেধাবী ছেলেমেয়ে সরকার তথা সবার সামনে মেধার বলিদান করবে নির্মম ভাবে! টাকার অভাবে তারা উচ্চশিক্ষার ধারেকাছেও যেতে পারবে না। অকালে ঝরে যাবে তাদের সোনালী ভবিষ্যৎ।
সবার আগে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে এ সব প্রকৃত মেধাবীদের মেধার লালন তথা তাদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা। । ভাল ফল করার আনন্দজোয়ারের তলে পড়ে যেন তারা অতলে হারিয়ে না যায় তা দেখার দায়িত্ব সরকারের।
এ কাজে অর্থের চেয়ে উদ্যোগ আর আয়োজনের দরকার বেশি।
আশা করি এ বিষয়ে সরকার অগ্রাধীকার ভিত্তিতে একটি কর্মসূচি ঘোষণা করে গরিব মেধাবীদের উচ্চশিক্ষার দুয়ার খুলে দিবে। তাদের এ নিশ্চয়তাটুকু দিন, `টাকার জন্য তোমাদের ভাবতে হবে না; এ ভাবনা আমাদের।'
আর এ কাজে শরীক হবে দেশের অগুনতি মানুষ।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৫:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



