সময় :সেপ্টেম্বর ৫, ১৯৮৬ --২.৩০ a .m , স্থান: মুম্বাই এর সাহার ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট
এই মাত্র Pan Am Flight 73 -- মার্কিন যুক্তরাষ্ট এর একটি Pan American World Airways Boeing 747-121 বিমান মুম্বাই এর সাহার ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে উড়ান শুরু করলো Newyork এর জন.এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এর উদ্দেশ্যে। চার ইঞ্জিনের এই বিশাল বিমান টিতে রয়েছে ১৪ টি দেশের ৩৬০ জন যাত্রী এবং ১৯ জন কেবিন ক্রু । এরাও বিভিন্ন দেশের নাগরিক। কেবিন ক্রু দের টীম লিডার ২৩ বছর বয়সী নীরজা ভানট -মডেলিং ছেড়ে কয়েক বছর আগে হয়েছেন বিমান সেবিকা। নীরজা আদতে চন্ডিগড় এর অধিবাসী হলেও তার পড়াশুনো মুম্বাই এ। বিমান টির মুখ্য বৈমানিক ক্যাপ্টেন উইলিয়াম কিয়ানকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর নাগরিক। তাঁর সাথে ককপিট এ আছেন এক সহযোগী বিমান চালক এবং এক ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার। Newyork যাত্রা পথে বিমান টি থামবে পাকিস্তানের করাচী এবং জার্মানি এর ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমান বন্দরে। দু ঘন্টার মধ্যে বিমান টির করাচী এয়ারপোর্ট এ অবতরণ করার কথা।
সময় :সেপ্টেম্বর ৫, ১৯৮৬ --৬.০০ a .m , স্থান: করাচী এয়ারপোর্ট ,পাকিস্তান
Pan Am Flight 73 তৈরি হচ্ছে উড়ানের জন্য। এর আগে বিমানটি যথা সময়ে করাচি তে অবতরণ করে ছিলো , কিছু পাকিস্তানি যাত্রী নেমে গেছেন এবং সমসংখ্যক যাত্রী বিমান টিতে আরোহন করেছেন। বিমান টির সিঁড়ি সরিয়ে নেবার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। .......হঠাত গুলির শব্দ। চার জন সন্ত্রাসবাদী দখল নিল বিমান টির দুটি গেট , হাতে তাদের অটোমেটিক এসল্ট রাইফেল , গ্রেনেড এবং প্রত্যেকের পরনে explosive জ্যাকেট। সন্ত্রাস বাদী দলের নেতা যাত্রী দের নির্দেশ দিল তাদের যেন মাথা নিচে এবং হাত ওপরে থাকে। প্রথমে কেউ বুঝতে পারে না কেন বিমান টি hijack করা হয়েছে , সন্ত্রাসবাদী রাই বা কারা এবং তারা কি চায়। বিমানের ভিতর সবাই ভীত এবং সন্ত্রস্ত ,বাচ্ছারা কান্না জুড়ে দিয়েছে , এক অসম্ভব ভয়ের পরিস্থিতি কেবিনের ভিতরে।

এই মুহুর্তে বিমান সেবিকা দলের নেত্রী নীরজা ভানট ছুটে গেল সবথেকে কাছের ইন্টারকম টির দিকে এবং সাঙ্কেতিক ভাষায় ককপিট এ বসা পাইলট কে জানালো বিমান ছিনতাই এর খবর এবং অনুরোধ করলো ককপিট এর দরজা যেন ভিতর থেকে বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু হায় তখন সে কি জানত যে পাইলট , সহকারী পাইলট এবং ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার বিমানের ৩৬০ জন যাত্রী এবং ১৯ জন কেবিন ক্রু কে ছেড়ে কাপুরুষের মতো ককপিট ছেড়ে পালিয়ে যাবে?
মধ্য প্রাচ্যের আবু জিন্দাল গোষ্ঠির চার জন সন্ত্রাসবাদী চায় বিমানটিকে সাইপ্রাস এ উড়িয়ে নিয়ে যেতে যেখানে নাকি তাদের কিছু সহযোগী বন্দী জেলে আছে। সেখানে বিমানের যাত্রী দের মুক্তিপণ হিসাবে ব্যবহার করে সহযোগীদের মুক্তি এবং অর্থ চায়।
সন্ত্রাসবাদী রা যখন জানতে পারল বিমানটির পাইলট গেছে পালিয়ে তখন তারা রুদ্র মূর্তি ধারণ করলো , বিমান সেবিকা দের আরবী তে গালিগালাজ শুরু করলো এবং বিমানের ভিতরে চালালো এলোপাথারি গুলি। তারা দাবি করলো পাইলটের ততক্ষনাত ফেরত আসার এবং তারা যে সিরিয়াস তা বোঝানোর জন্য রাকেশ কুমার নামী এক যাত্রী কে হত্যা করে বিমানের বাইরে ফেলে দিল। তারা নীরজা ছাড়া বাকি সব বিমান সেবিকার হাত বেঁধে দিলো এবং নিরজা কে হুকুম করলো সব যাত্রীর পাসপোর্ট একসাথে করতে।
এ ছাড়াও নীরজা কে মুক্ত রাখার আরো একটা কারণ ছিল , পাইলট এর অবর্তমানে তারা চাইছিল নিরজা PAN Am বিমান এবং করাচী এয়ারপোর্ট এর আধিকারিকদের অনুরোধ করে যেন পাইলট কে ককপিট এ ফেরত পাঠানো হয়।
নীরজা যাত্রীদের পাসপোর্ট জমা করার সময় বুঝতে পারল সন্ত্রাসবাদীরা মূলত আমেরিকান পাসপোর্ট ধারীদের আলাদা করে তাদের হত্যা করতে চায়। সে অধিকাংশ মার্কিন পাসপোর্ট বিমানের ভিতর একটি জায়গায় লুকিয়ে ফেলে।
ছিনতাই হওয়ার ১৭ ঘন্টা পরে বিমানটির জ্বালানি শেষ হয়ে যায় , তার ফলে বিমানটির ভিতর সমস্ত লাইট বন্ধ হয় এবং ঘন অন্ধকার নেমে আসে। এই সুযোগে নীরজা একজন যাত্রী কে বিমানের অপাত্কালীন দরজা খোলার একটি নির্দেশিকা একটি মাগাজিনের ভিতরে ভরে হস্তান্তর করে। যাত্রী টি ওই নির্দেশিকা পরে দরজাটি খুলে ফেলে যদিও দরজার সাথেসাথে chute টি খোলে না। অনেক যাত্রী ওই দরজা দিয়ে ১৫ ফিট নিচে ঝাঁপিয়ে পরে। অন্ধকারের সুযোগে নীরজা অন্যদিকের একটি দরজাও খুলতে সক্ষম হয় এবং সৌভাগ্য ক্রমে এই দরজার chute টি ঠিক মত খুলে যায়। অনেক যাত্রী সে দরজা দিয়ে পালাতে সক্ষম হয়।
সে মুহুর্তে নীরজা যখন শিশুদের বার করছিল তখন সন্ত্রাসবাদী রা পুরো ঘটনা বুঝতে পারে এবং বিমানের ভিতর এলোপাথারি গুলি চালাতে শুরু করে।
এক জন সন্ত্রাস বাদী নিরজার কাছে এসে তার চুলের মুঠি ধরে এবং পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তার মাথায় গুলি করে। নিরজার প্রাণহীন রক্তাক্ত দেহ বিমানের ভিতর লুটিয়ে পড়ে। এর ঠিক এক মিনিট আগে নীরজা তিন টি শিশু কে দরজার বাইরে বার করে ছিল।
ঠিক সেই সময় পাকিস্তানি কমান্ডো রা বিমানের ভিতর ঢুকে এটিকে মুক্ত করে। কিন্তু ততক্ষণে নিরজা সহ ২০ জনের হত্যা হয়েছে এবং ১০০ জনের ও অধিক যাত্রী সাংঘাতিক ভাবে জখম হয়েছেন ।
নীরজাও পারত কোনো এক সুযোগে বিমানটি থেকে যাত্রী দের আগে নিজে পলায়ন করতে , যেমন টি বিমানটির পাইলট , কো-পাইলট এবং ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার করে ছিলো কিন্তু ....তাহলে এই কাহানি লেখা হত না। নিরজার biopic তৈরী হত না। সে হত না ভারতের কনিষ্ঠ তম অশোক চক্র recipient . অশোক চক্র ভারতের সর্বোচ gallantry পুরস্কার । ...."Her loyalties to the passengers of the aircraft in distress will forever be a lasting tribute to the finest qualities of the human spirit" ----মরণোত্তর তাকে দেয়া পদকে এই কথাগুলি স্বর্ণ অক্ষরে লেখা আছে।
পাকিস্তান সরকার তাকে দেয় Tamgha-e-Insaniyat (pakistan) , মার্কিন সরকার দেয় Justice for Crimes Award (America).
নীরজা ভানট এর biopic Neerja এ অভিনয় করেছেন সোনাম কাপূর।


সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ২:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




