somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জনমাসটমি--একটি রচনা !!

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১২:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(লেখাটি সংগৃহীত।একটি রম্য রচনা-- কিন্তু যাদের অনুভুতি দূর্বল তারা পড়বেন না। )

কোসচেনটা কমোন পড়েনি স্যার।
তাই রচনাটা তেমন ঘ্যাম হবে না।

আসলে কী হয়েচে জানেন স্যার, আপনি যদি সরসোতি পুজো নিয়ে রচনা দিতেন, আমি প্যান্ডেল, মাইক, ওনজুলি, ওই ভিজে ভিজে ডাল মাখা লুচি, বাঁদাকপি, বোঁদে, তার ওপর হলুদ সাড়ি পরা মেয়ে ইস্কুলের ডালিংরা, এমনকি নোমনিত্তং মনত্র – এ সব নিয়ে জমিয়ে লিখে দিতাম I
দুগগো পুজো দিলেও চলত, কি কিসমাসও I
কিন্তু জনমাসটমির কোনও সোয়াদই আমার জিভে নেই স্যার I
যাকগে, জনমাসটমি বিসয়ে যা জানি তা লিখছি I
আগস্ট মাসে জনমাসটমির দিন সিকিসনো, বোধ হয় বড় দেবতা ছিলেন, তাঁর নিজের বংসে জনমো নেন I
কিন্তু তাঁর এক ভিলেন মামা, হেভি মিনিসটার ফিনিসটার হবে, নাম কংস, জোতিসী করে জেনেছিলেন যে, এই ভাগনে তাঁকে দুনিয়া থেকে সাফ করে দেবে I
তখন তিনি নিজের গুন্ডা নিয়ে আসেন তাঁকে মারতে I
কিন্তু আমাদের হিরো সিসুটিকে তার আগেই রাতারাতি পাচার করে দেওয়া হয়েছিল অন্য কারোর বাড়িতে I
বোধ হয় নন্দী বা নন্দ কেউ হবে I
সেখানে তার বউ জসোদার কাছে তিনি বড় হতে থাকেন I
ভিলেন কংস খালি হাতে ফিরে গেলে আনন্দে সবাই মিলে ঝুলন উতসব করে I
ছেলেবেলা থেকেই সিকিসনো খুব চালু ছিলেন I
রান্নাঘরে তিনি মায়ের ফ্রিজ থেকে আমুল মাখন চুরি করে এককোনে লুকিয়ে লুকিয়ে খেতেন I
চেলারাও ভাগ পেত I
ধরা পড়লে বলতেন ম্যায়নেহী মাখন খায়া I কি বিচচূ ছেলেরে বাবা ! খেয়েছি কি খায়নি, কি বলছে বোঝার উপায় নেই।

জসোদার কাছে গাঁয়ের মেয়েরা প্রায়ই নালিশ জানাতো সিকিসনোর নামে I
ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের পেছনে লাগার সভাব ছিল তাঁর I
ইতিমধ্যে সেই সিসু নানান রকম মারপিটে জড়িয়ে পড়ে।
ইস্কুল থেকে ডপ আউট হয়ে মাঠে গরু ফরু চরায় I তখন মিড-ডে মিল চালু ছিল না তো, ফলে ইস্কুলে যাবার ইনটারেসও ছিলনা I

সিসুটি ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটা গুন্ডাদের ঠেঙিয়ে হেভি জনোপিয় হয়ে ওঠেন,
বিসেস করে কালীয়া নামে একটি খতরনাক গুন্ডাকে লেকের জলে চুবিয়েছিলেন বলে এলাকার জনসাধারণ তাঁকে নিজেদের পাড়ার দাদা বানিয়ে দেয় I
সেকালেও দাদাগিরি ছিল স্যার I আপনি সোলে দেখেছেন নিশ্চই I মনে পড়ে গব্বর সিং এর দলেও কালিয়া নামে একটা ডাকাত ছিল I

যাইহোক এই সময় খুব সম্ভবত তিনি ভুল করে একটা কাছিমও মেরেছিলেন।
কিন্তু পরবত্তি কালে তিনি বিপন্নো জানোয়ারদের আর খুন করেননি।
যদিও ময়ূরের পালক ব্যাপারটা একটু গোলমেলে I ওটা বোধ হয়ে নাচতে নাচতে ময়ূরের গা থেকে খসে পড়া পালক হবে, তিনি কুড়িয়ে নিয়েছিলেন I
যাই হোক, সিসুটি যতো বড় হতে লাগলো, তত তার জানবার ইচছে বাড়তে লাগলো I
স্যার আপনারাই বলেন জানবার ইচছে না থাকলে শেখা যায় না, গ্যান বাড়েনা I
তখনকার দিনে ইস্কুলে জিবনবিগ্যান পড়ানো হোত না তো I
তাই নদিতে গয়লানীদের চান করা দেখার ইচছে জাগলো তাঁর I
আর জলের মধ্যে পুরোটা দেখা যায় না বলে গয়লানীদের জামাকাপড় লুকিয়ে রেখে চুপি চুপি গাছে চড়ে তাদের চান দেখতে লাগলেন I
সুরু থেকেই একটু মেয়ে ঘেসা ছিলেন I
উঠতি বয়েস তো, এ রকম ইচছে জাগা সাভাবিক I
যাই বলুন স্যার, তখনকার দিনের দেবতা বলে পার পেয়ে গেছেন তিনি I
আজকের দিনে আমরা অমন ভাবে দেখলে গোয়ালারা এসে আড়ং ধোলাই দিত I

মামা কংসের হাত থেকে বাঁচবার জন্নে এই ছেলেটি রাজ বংস থেকে গোয়ালা বংসে চলে আসায়, ওর এক দূর-সম্পর্কের মামিমাও গোয়ালার বউ হয়ে ওঠেন।
সেই মামিমার নাম ছিল স্রিমতি রাধারাণি ঘোস, তাঁর সোয়ামীর নাম ছিল স্রি আই,এন ঘোস I
ওই বয়েসে কোনো কোনো ছেলে স্যার মহিলাদের সঙ্গে একটু আধটু ইনটু-মিনটুতে জড়িয়ে পড়ে,
মানে ওই গোঁপ গজানোর সময়টায়, বুঝতেই পারছেন স্যার I আপনারও তো সে বয়েস একসময় গেছে I সে সব এখানে লেখা যায় না I
কেননা লিখলেই তো আপনি নম্বর কাটবেন । তবে সুনেছি সিকিসনোর অনেকগুলো বউ ছিল I
তখনকার দিনে আইনের বালাই তো ছিল না I যে যটা পারত বিয়ে করত I
রামচন্দকে দেখুন, একটা বউকে নিয়েই কত ঝামেলা না পোয়াতে হয়েছিল জিবনে,
সে জায়গায় সিকিসনো অতগুলো বউকে শুধু ম্যানেজ করেছিলেন বললে ঠিক হবে না, একেবারে টাইট করে রেখে দিয়েছিলেন I
গুরু লোক, সরি দেবতা, পায়ের ধুলো নিতে হয় I

যাই হোক, সিকিসনোর এক সময়ে সংসারের পতি বেরাগ্য জাগে, ঠিক করেন চলে যাবেন উত্তরে হিমালয়ে I
কিন্তু ট্রেনে যেতে যেতে ভুল করে কুরুখেততোরে নেমে পড়েন I
তখন সেখানে মহাভারত বইটার সুটিং এর তোড়জোড় চলছিল I
ইচছে হলো তাঁর টিভি সিরিয়াল এ নামার I আমাদের কিসনোর গায়ের রঙ ময়লা ছিল বলে হিরো হতে পারেননি I
হিরোর ডেরাইভার হয়ে যান I হেভি আওয়াজ দিয়ে সুটিং সুরু করেও যুধদো সুরু হলো না I
কারণ কোনো লেখা হাতে না নিয়ে, কারোকে কিছু না জানিয়ে হটাত তিনি এমন হেভি ডায়লগ শুরু করে দেন যে সকলে বোম মেরে যায় I
যতদূর জানি, যুধদের মাঠে অনেকখন ধরে ডায়ালগ দিয়েছিলেন I
সেই ডায়লগগুলো সব নিয়ে পরে নাকি একটা বইও ছাপা হয় I
পোডিউসার ডিরেকটার ভালো লোক ছিলেন আর সিনেমার মাঠ বলে সে যাত্রায় সিকিসনো বেঁচে গিয়েছিলেন I
ক্রিকেট মাঠ হলে আমপায়ার খেলা ডিলে করার দরুন আই সি সির আইন দেখিয়ে টিমের ম্যাচ ফী কেটে নিত I
শুনেছি সিরিয়ালটা নাকি খুব হিট হয়েছিল I আপনি নিশ্চই দেখেছেন স্যার I আমার আবার ওসব পুরানের গাঁজাখুরি গপ্পোতে তেমন ইনটারেস নেই I

শোনা যায় যে, ওই হিরোদের ফ্যামিলিতে বউ নিয়ে পোবলেমেও আমাদের সিকিসনো জড়িয়ে পড়েছিলেন I
মেয়েছেলের ব্যাপার আর সিকিসনো থাকবেন না, হতেই পারে না I সেই সব নিয়ে আমি বেশি লিখছি না I
পাচটা ভাইয়ের একটা বউ, আবার সকলের সামনে তার শাড়ি নিয়ে টানাটানি I
ফ্যামিলির কেচ্ছা স্যার, না ঘাঁটাই ভালো ।
সিকিসনো, যিনি হিরোকে অত গ্যান দিলেন আর সেটা আলাদা বই হয়ে বেরুলো, কিন্তু সিকিসনোর বদলে গীতা নামে ছাপা হলো কেন জানিনা I
গীতা কার নাম ছিল স্যার? গীতা কি তবে মামিমা রাধার ছোট বোনের নাম ? তাহলে তো খুব হেভি হবে I
এবার ব্যাপারটা বোঝা গেল, কারণ সিকিসনোর সব ব্যাপারেই মেয়েছেলে থাকে কিনা I
দেখেন নি স্যার,
আজও জনমাসটমিতে পাড়ার ছেলেরা বারানদায় দাড়ানো মেয়েদের সামনে সিকিসনোর মত হিরো হবার জন্নে
একে অপরের কাধে চেপে উচুতে বেধে রাখা দইয়ের হাড়ি ফাটায় I
কতলোক ভীড় করে তা দেখে I
সে এক ফাটাফাটি ব্যাপার স্যার I
যাই হোক জনমাসটমি ব্যাপারটা সিকিসনোর বাথডে, সারা দেশ খুব ধুমধাম করে মানে I
ইস্কুল কোলেজ সব ছুটি থাকে সেদিন I পাড়ায় পাড়ায় ছেলেরা দোয়ের হাঁড়ি ভাঙ্গে I
আর কিছু লেখার নেই, এখানেই শেষ করি I

বানান দু একটা তাড়াতাড়িতে ভুল হতে পারে I খমাঘেন্না করে পাস করিয়ে দেবেন স্যার ।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১২:৫০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×