একদা বুদ্ধ তার কয়েকজন
অনুসারীদের নিয়ে এক শহর
থেকে অন্য শহরে হেটে যাচ্ছিল।
এটা ছিল ভ্রমনের প্রথম দিকের
কিছু দিন। একসময়
তারা একটি ছোট লেক অতিক্রম
করছিল। তারা সেখানে থামল
এবং বুদ্ধ তার এক অনুসারী কে বলল,
“আমি তৃষ্ণার্ত, যাও লেক
থেকে আমার জন্য
পানি নিয়ে আস”।
অনুসারী হাটতে হাটতে লেকের
দিকে গেল, যখন সে পৌছল তখন
সে দেখতে পেল যে কিছু লোক
সেখানে কাপড় ধৌত করছে, আর
একটি গরুর গাড়ি সেই লেকটি পার
হচ্ছে। যার
কারনে পানি একেবারে
কর্দমাক্ত
এবং নোংরা দেখাচ্ছিল।
অনুসারী ভাবল, আমি কিভাবে এই
ধরনের নোংরা কাঁদাময়
পানি বু্দ্ধকে দিব।
সে ফিরে এসে বুদ্ধকে বলল,
ওখানে পানি অনেক
নোংরা এবং কর্দমাক্ত
যা খাবার উপযোগী নয়।
প্রায় আধাঘন্টা পর বুদ্ধ সেই একই
অনুসারী কে বলল ওই লেকে যাও
আর আমার জন্য কিছু খাবার
পানি নিয়ে আস।
অনুসারী বাধ্যগত
ভাবে লেকে চলে গেল আর এবার
সে দেখতে পেল যে লেকের
পানি একেবারে পরিস্কার
এবং স্বচ্ছ।
কাঁদাগুলো থিতিয়ে নিচে
জমা হয়ে গেছে আর উপরের
পানি একেবারে স্বচ্ছ
হয়ে গেছে।
সে পানি নিয়ে বুদ্ধকে দিল।
বুদ্ধ পানির দিকে তাকাল,
এবং অনুসারীর দিকে তাকাল আর
বলল, “দেখ এই পানি পরিস্কার
করার জন্য তুমি কি করছে?
তুমি একে নিভৃতে ছেড়ে দিয়েছ
আর কাঁদা নিজে নিজেই
নিচে পড়ে গেছে আর
তুমি পরিষ্কার স্বচ্ছ
পানি পেয়ে গেছ। তোমার মন-ও
অনেকটা একই রকম, যখন
সেটা বিক্ষিপ্ত বা বিরক্ত
থাকে তখন তাকে ওভাবে-ই
থাকতে দাও। মন
টাকে কিছুটা সময় দাও।
এটা নিজে নিজে-ই ঠিক
হয়ে যাবে। তোমাকে এর জন্য
কোন কিছু করতে হবে না।
এটা এমনিতে-ই শান্ত হয়ে যাবে।
এটা অবশ্যই হবে। এটা একেবারে-ই
কষ্টহীন।
এখানে বুদ্ধ কোন
জিনিসকে গুরুত্ব দিয়েছেন?
সে বলেছে, এটা কষ্টহীন।
মানসিক শান্তি পাওয়া কোন
কষ্টসাধ্য কাজ নয়। এটা একেবারে-
ই কষ্টহীন। যখন তোমার মনের
ভিতর শান্তি থাকবে, সেই
শান্তি তোমার মনের বাইরেও
প্রভাব ফেলবে। এটা তোমার
চারপাশে ছড়িয়ে পড়বে এমনকি
পরিবেশে-ও। আর এভাবেই
চারপাশের মানুষ শান্তি এবং সুখ
অনুভব করতে পারবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



