বিশ্বায়নের যুগে উন্নয়ন একটি চলমান বা ধারাবাহিক চলমান প্রক্রিয়া। কিন্তু শুধু উন্নয়ন আর এখন কোন হিসেবে আসেনা। এখন উন্নয়ন শব্দটির সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ সংযুক্ত আছে। তা হল টেকসই উন্নয়ন(Sustainable Development)। মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলস বা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এখন বদলে গিয়ে টেকসই উন্নয়ন(Sustainable Development) প্রতিস্থাপিত হয়েছে। কারণ খুব পরিষ্কার বিশেষ করে অন্নুনত এবং উন্নয়নশীল দেশ গুলো উন্নয়নের নামে যা করছে তা আসলে কার্যত আই ওয়াস বা বলতে পারেন ধোঁকাবাজি ছাড়া কিছুই না। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫ সালে বিশ্ব নেতারা জাতি সঙ্ঘের নিউইয়র্ক দপ্তরে বসে আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত বিশ্ব অগ্রগতির এক দিকনির্দেশনা তৈরি করেছে। ১৭টি এজেন্ডা নিয়ে টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা করেছে তারমধ্যে একটি হল ডিসেন্ট ওয়ার্ক অ্যান্ড ইকোনোমিক গ্রোথ। কিন্তু আমরা কোন পথে? আমরা উন্নয়নের নামে জাতিকে কেমন ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনৈতির মুখে ঢেলে দিচ্ছি তা কি আমরা একটু ভাবছি? মোটেই না।
শুধু উন্নয়নের কথা বলে জনগণকে হয়ত সাময়িক ধোঁকা দেওয়া যাবে কিন্তু তারপর কি হবে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইদানীং খুব পদ্মা সেতু নিয়ে প্রোপ্যাগান্ডা করছেন। নিজেদের অর্থে সেতু করতে যাচ্ছে বেশ বড়াইয়ের সুরে বিশ্ব ব্যাংকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাল। তা আপনি দেখান কোন সমস্যা নেই কিন্তু উন্নয়নের নামে যে হারে টাকা লুট হচ্ছে এবং সময়মত পদ্মা সেতু প্রকল্প শুরু এবং শেষ করতে যে পারলেন না তার জন্য যে হাজার হাজার কোটি টাকা গচ্ছা যাচ্ছে তার জবাব কে দিবে জনগণকে?
২০০৭ সালে একনেক সভায় ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। তখন মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকা। এরপর এক দফা উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) সংশোধন করে ব্যয় ধরা হয় ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। আবার ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সেতু বিভাগ। এর ফলে প্রকল্পটির ব্যয় দাঁড়াল ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকায়। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় গোপনে আপনি সভার মূল নোটিশের বাইরে এই প্রকল্প এর আরও অতিরিক্ত ৮ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা এবং সাথে আরও দুই বছর সময় বাড়িয়ে আপনি অনুমোদন করেছেন।
নির্ধারিত ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকা থেকে প্রথম দফায় এক লাফে বাড়িয়ে ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা করেছেন যা প্রায় দিগুণেরও বেশি। তাতেও আপনার হয় নাই দ্বিতীয় দফা আবারও বাড়ালেন অতিরিক্ত ৮ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা। আপনি আর কতবার বাড়াবেন? আর কত টাকা আপনার চাই? সময় যেহেতু বাড়িয়েছেন দুই বছর হয়ত কিছুদিন পরে আবারও গোপনে বাড়াবেন টাকার পরিমাণও কারণ সময়ের সাথে দ্রব্যমূল্যের দাম তো বাড়বেই।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি ধরে নিলাম হয় নাই! কিন্তু এত এত সময় নষ্ট করে যে আপনি প্রকল্পের ব্যয় ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকায় সেতু করতেছেন যা প্রকৃত ব্যয় থেকে ১৮ হাজার ৬৩২ কোটি বেশি। এই সব টাকা দিয়ে তো তিনটি পদ্মা সেতু হওয়ার কথা ছিল।
এই বাড়তি টাকার হিসেব আপনি কিভাবে দিবেন? জানি এর জবাব আপনার কাছে নাই থাকলে তা একমাত্র ক্রসফায়ার! ই আছে।
সঠিক সময়ে,সঠিক বিকল্প থেকে সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত যিনি নেন তিনিই হলেন আসন নেতা। আপনি কেমন নেতা তা এখানেই প্রতীয়মান।
প্রকল্পের নির্ধারিত ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকা থেকে প্রথম দফায় এক লাফে বাড়িয়ে ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা করেছেন যা প্রায় দিগুণেরও বেশি ছিল, যদি আপনি সেই সময়ও সিদ্ধান্ত নিতেন যে পদ্মা সেতু দেশের অর্থায়নে করবেন তাতেও অতিরিক্ত ৮ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা জনগণের ঘাড়ে চাপত না।
পদ্মা সেতু যেহেতু সময়ের দাবী ছিল এটা অবশ্যই হত কারণ উন্নয়ন হল চলমান প্রক্রিয়া। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ স্বৈরাচার ছিল মানুষ তার বিরোধিতা করেছে কিন্তু উন্নয়নের কথা বলতে গেলে মানুষ কিন্তু হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সাহেব কে বাদ দিয়ে বলতে পারবে না। সে সময় পেয়েছিল করেছে, আপনিও তো সময় পেয়েছেন অন্তত জবাদিহিতামূলক কাজ করুন যদি নিজেকে গণতান্ত্রিক মনে করেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ৮:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


