
এটি একটি প্রতীকী ছবি মাত্র।
আমরা অনেক মহাসড়কের নাম শুনেছি। যেমন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, ঢাকা- বগুড়া মহাসড়ক, ঢাকা-চট্রোগ্রাম মহাসড়ক ইত্যাদি। বর্তমানে আরও একটি মহাসড়ক আবিস্কার করেছে সরকার আর সেটা হল উন্নয়নের মহাসড়ক। ঢাকা- বগুড়া মহাসড়কে যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ থেকে সিরাজগঞ্জ কড্ডার মোড় চৌরাস্তা পর্যন্ত খুবই বিপদজনক জায়গা। প্রায়ই এখানে বাস,ট্রাক দুর্ঘটনায় পতিত হয়। হতাহতের সংখ্যা উদ্বেগজনক। অত্র এলাকার মানুষের প্রাণের দাবী সিরাজগঞ্জ কড্ডার মোড় এলাকায় মানুষের নিরাপদ পারাপারের জন্য একটি ওভার ব্রিজ!! এখানে ঢাকা- বগুড়া মহাসড়কে প্রচণ্ড দ্রুতগামী দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল করে। যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ স্থলে অনেক দুর্ঘটনা ঘটত, এখনও অনেক ঘটে। কথিত আছে ঐ জায়গায় গেলে গাড়ির চালক নাকি একাধিক রাস্তা দেখতে পায়! যার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। কথিত যায় থাকুক আসলে চালকের অসাধানতা ও অদক্ষতা এবং প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চালানোর কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে। সিরাজগঞ্জ শহর থেকে কামারখন্দ, বেলকুচি, অথবা জেলা শহরের সাথে জেলার দক্ষিণাঞ্চলে যোগাযোগ রক্ষার জন্য এই বিপদজনক মহাসড়ক পারাপার হতে হয় প্রাণ হাতের মুঠোয় নিয়ে দুই অংশের মানুষের। ঝুঁকিপূর্ণ এই মহাসড়ক অত্র অঞ্চলের মানুষের জুজুর ভয়। এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে একপাশের অটো সিএনজি অন্য পাশে যাওয়া বন্ধ। শহর থেকে আজকে অটো সিএনজিতে চড়ে যাচ্ছিলাম কড্ডার মোড়, গন্তব্য কামারখন্দ উপজেলা। উল্লেখ্য গাড়িভাড়া এতই বেশি যে বেশির ভাগ মানুষ শেয়ার করে শহর থেকে কড্ডার মোড় অথবা কড্ডার মোড় থেকে শহরে যাতায়াত করে। এক অটো সিএনজিতে পাঁচজন!অটো চালক বেশ দক্ষতার সাথেই সিএনজি চালাচ্ছে। তার সাথে কথার এক পর্যায়ে নাম জানালো আমীন। সংসারে ছেলে মেয়ে আর বেগম। ভালই চলছে সংসার,লোকটার কথা শুনে মনে হল একটু বেশি সাদাসিধে। তেমন ঘোড় প্যাচ বোঝেনা। কথায় কথায় বলে ফেলল তার বউ নাকি খুব কড়া, বলে দিয়েছে মনের ভুলেও যেন মহাসড়কে না উঠি। কয় তুমি বোকা, কিছু নাকি বুঝিনা, বলল চালক । তার ইচ্ছা অন্যকোন কাজ করবে, গাড়ি চালান রিস্ক আছে। এখানে এই মহাসড়ক মৃত্যু ফাঁদ, দুর্ঘটনা, যেকোনো সময় মৃত্যু। সিরাজগঞ্জে বর্তমান সরকারের অনেক বড় বড় নেতা নেত্রী আছে। পাল্লা দিয়ে এখান থেকে এক এক নেতা ট্রাক বোঝায় করে লোক নিয়ে যাচ্ছে নিজের অবস্থান জানান দেওয়ার জন্য। ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ট্রাকে ট্রাকে মানুষ নিয়ে যাচ্ছে ঢাকায়। রাস্তায় খুবই যানজট। আমাদের পাঁচজনের মধ্যে ছিল এক স্থানীয় সরকার দলীয় নেতা। প্রচণ্ড গরম আর যানজটে নাভিশ্বাস, সেই নেতা চালককে বারবার বলছে তাড়াতাড়ি চালাও কড্ডার মোড়ে লিডারের ট্রাক অপেক্ষা করতেছে, আমাকে ট্রাক ধরতে হবে। দেরী হলে আমি ট্রাক মিস করব। এদিকে প্রচণ্ড যানজট অন্যদিকে রাস্তার বেহাল অবস্থা কিছুতেই সামনে যাওয়া যাচ্ছেনা। সিএনজি চালক জিজ্ঞেস করে ভাই আজকে কিসের জন্য ট্রাক বোঝায় মানুষ। উফ এত যানজট! উক্ত নেতা ধমক দিয়ে বললেন নেত্রী (হাসিনা) দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলেছে। তুমি কিছুই জাননা, যত সব! এই তাড়াতাড়ি চালাও। নেত্রীর সংবর্ধনা আছে ঢাকায়। সিএনজি চালক জ্যামে থেমে থেমে প্রায় চল্লিশ পঞ্চাশ মিটার সামনে গিয়েই বামে গাড়ি ঘুরিয়ে গ্রামের দিকে পথ ধরল। সবাই বলল এই এই তুমি ওদিকে যাচ্ছ কেন? গজগজ করে কিছু দূর গিয়ে সবাই যখন জোর করে বলছে এই তুমি এরকম করছেন কেন? তখন সে রাস্তার সাইটে থামিয়ে সবাইকে নামতে বলল। সে কিছুতেই আর কড্ডার মোড় যাবেনা।তার এককথা সে মহাসড়কে যে রকম প্রতিদিন এক্সিডেন্ট হয় দেশকে যেহেতু উন্নয়নের মহাসড়কে উঠানো হয়েছে তাই তার দাবী যেকোন সময় দুর্ঘটনার শিকার হবে দেশ। তার বউয়ের বারণ মহাসড়কে যাবেনা। যাবেনা সে গেলোই না আর।
বুঝলাম বেচারা একটু অন্যরকম কিন্তু তার আশঙ্কা তো ফেলবার নয়।
আসলে কি দেশ দুর্ঘটনার বাইরে একটি মুহূর্তও আছে। ব্যাংক ,বিমা, রিজার্ভ, সোনা এমনকি কয়লাও আর অবশিষ্ট নেই। সব খেয়ে শেষ।
হায়রে মহাসড়ক! হায়রে উন্নয়নের মহাসড়ক!!!!!!
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুলাই, ২০১৮ সকাল ৮:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


