জামিন অর্থ কোন মামলায় গ্রেফতার ব্যক্তিকে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আটকাবস্থা থেকে সাময়িক মুক্তি দেয়া।বাংলাদেশে যে সব দেণ্ড সংক্রান্ত আইন বিদ্যমান তাদের মধ্যে বেশ কিছু আইন আছে যা জামিনযোগ্য, আবার বেশ কিছু আইন আছে যা জামিন অযোগ্য।
কোন ব্যাক্তির বিরুদ্ধে যদি জামনিযোগ্য ধারায় অভিযোগ আনা হয় তাহলে তাকে আদালত জামিন দিতে বাধ্য।
আর যে সব ধারা জামিন অযোগ্য সেসব ধারায় জামিন দেয়া আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতার উপরঅ তবে অবশ্যই আদালত এ ইচ্ছাধীন ক্ষমতা ইচ্ছামতো প্রয়োগ করতে পারে না, একটি জামিন অযোগ্য ধারায় কোন আসামী অভিযুক্ত হলে আদালত তারে জামিন দিলে মামলা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, কিংবা আসামী জামিন পেলে সাক্ষীদের সাক্ষ্য প্রদানে বাধা দেবে না, নিয়মিত আদালতে হাজির থাকবে, পালিয়ে যাবে না, আরামত নষ্ট করবে না ইত্যাদি কারনে সে জামিন পারে।
কোন কোন ধারা জামিনযোগ্য, আর কোন কোন ধারা জামিন অযোগ্য তা সংশ্লিষ্ট আইনে বলা আছে। যেমন, দণ্ডিবিধির কোন কোন ধারা জামিনযোগ্য বা অযোগ্য তা ফৌজদারী কার্যবিধির ২য় তফসিলে বর্ণনা করা আছে। এছাড়া বিভিন্ন বিশেষ আইনেও কোন ধারা জামিনযোগ্য আর কোন ধারা জামিনযোগ্য নয় তা বলা আছে।
আবার একটা মামলায় একাধিক ধারা থাকে যাদের মধ্যে কিছু জামিনযোগ্য আর কিছু জামিন অযোগ্য। ঐ মামলায় একাধিক আসামী থাকলে যাদের অপরাধ জামিনযোগ্য ধারায় তারা জামিন চাইলে জামিন পাবেন।তাই যাদের অপরাধ জামিনযোগ্য তারা উকিলকে ফি ছাড়া কোন অতিরিক্ত টাকা দিবেন না। জামিনযোগ্য অপরাধে অপরাধী ব্যক্তি নিজে গিয়েও জামিন চাইলে আদালত জামিন মঞ্জুর করতে বাধ্য।
একটি উদাহরনঃ ধরুন কোন ব্যাক্তি কাউকে দা দিয়ে তার হাতের পেশীতে আঘাত (কোপ) করলো এবং ঐ ব্যক্তির হাতের পেশীতে ৮টা সেলাই লাগলো, আইনের ধারা হলো দণ্ডিবিধর ৩২৪, যা জামিনযোগ্য এবং ঐ অপরাধী আদালেত আত্মসমর্পন করলে জামিন পাবে। এটা আইনের বিধান। সাধারন মানুষ যিনি রাগের বশে হয়তো কাউকে আঘাত করে ফেলেছেন, কিন্তু তিনি আইন না জানার ফলে কোন আইনজীবীকে ধরলে ঐ আইনজীবী তাকে অপরাধের মাত্রা এবং আইনের বিধান না বুঝিয়ে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রাথমিকভাবে দেখলে যিনি অপরাধটি করেছেন তার কাছে এবং যারা প্রত্যক্ষ করেছেন তাদের কাছে বড় অপরাধ হলেো আইন বলছে ঐ ব্যক্তি জামিন পাবে। এখন প্রশ্ন হলো, এই অপরাধের ধারা েকন জামিনযোগ্য হলো? কেন একজন অপরাধী এভাবে দিনেদুপুরে প্রকাশ্যে দা/ছুরি দিয়ে মানুষকে আঘাত করবে আর আদালতে গেলেই জামিন পেয়ে যাবে, এটা কি মগের মুল্লুক। সহজ উত্তর হতে পারে, আইনপ্রণেতারা/আইন পরিষদ/সংসদ যে আইন যেভাবে করে সেটাই সবাইকে মেনে চলতে হয়। কেন এটা জামিনযোগ্য হিসেবে আইন করা হলো এটা আইন প্রনেতারাই ভালো বলতে পারবেন। এ ধরনের আরো অনেক আইন আছে অপরাধ করলে বিচার শেষ না হোয়া পর্যন্ত জেলে যাবার সুযোগ নাই।
বিঃদ্রঃ জামিন পাওয়া বা না পাওয়া/জেল হাজতে থাকাই অপরাধের প্রমাণ নয়, বিচার শেষে রায় না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক ব্যক্তি নির্দোষ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



