somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোর্ট ম্যারেজ ও তালাক সংক্রান্ত কিছু ভুল ধারণা

১৪ ই নভেম্বর, ২০১২ দুপুর ২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোর্ট ম্যারেজঃ
প্রকৃতপক্ষে কোর্ট ম্যারেজ এর কোন আইনগত ভিত্তি নাই, এমনকি এ ধরনের কোন আইনও বাংলাদেশে প্রচলিত নাই। এখন প্রশ্ন হলো, তাহলে এতদিন যা শুনে এসেছি তা সবই কী ভুল? আমি বলবো হ্যাঁ, ভুলই জেনে এসেছেন। আর আপনি আপনার প্রিয়তমাকে নিয়ে সবার অজান্তে বিয়ে করবেন এ দূর্লতার সুযোগ নিয়ে আইনজীবীরা আপনাকে কোর্ট ম্যারেজের নামে প্রতারিতই করে মাত্র।

আপনি আপনার প্রিয়তমা গোপনে বিয়ে করতে চান। হয়তো পরিচিত কোন এডভোকেটের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন। খরচ হিসেবে ধরিয়ে দিবেন কমপক্ষে ১০/১২ হাজার টাকা, আপনাকে একটি এফিডেভিট ধরিয়ে দিয়ে বলবে বিবাহ হয়ে গেছে। কিন্তু এতে লাভ কিছুই হয় না, এর আইনগত কোন ভিত্তি নেই।
মুসলিম আইন অনুযায়ী কমপক্ষে দুজন পুরুষের সম্মুখে বা একজন পুরুষ ও দুজন মহিলার সম্মুখে কিছু পবিত্র বাক্য (কোরআনের আয়াত) উচ্চারনের মাধ্যমে পরষ্পরের স্বামী-স্ত্রীরূপে দেনমোহরের বিনিময়ে প্রস্তাব প্রদান ও গ্রহণের মাধ্যমেই বিবাহ সম্পাদিত হয়।কিন্তু কোর্ট ম্যারেজে একটি সাদা স্ট্যাম্পে দুই পক্ষের স্বামী-স্ত্রী রূপে গ্রহণ করেছেন মর্মে কেবলমাত্র ঘোষনা থাকে যা সংশ্লিষ্ট নোটারী পাবলিক আইনজীবী সই করে দেয়। এমনকি কোন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছেও হাজির করিয়ে তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয় না। তাই এ ধরনের বিবাহের আইনগত কোন ভিত্তি থাকে না। বরং মুসলিম আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে মুসলমান নারী-পুরুষের মধ্যে বিবাহ সম্পন্ন হতে হলে অবশ্যই উভয়কে প্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছর) হতে হবে, বিবাহ টি নির্দিষ্ট কাজী দ্বারা নিবন্ধন করতে হবে, যাকে বলে নিকাহনামা বা কাবিন নামা। দেনমোহর নির্ধারিত থাকতে হবে, অবশ্য দেনমোহর পরে নির্ধারন পরে করলেও চলে।
আবারো বলি, নোটারী/এফিডেভিট এর মাধ্যমে বিবাহ (প্রচলিত অর্থে কোর্ট ম্যারেজ) এর আইনগত কোন ভিত্তি নেই। আর এ ধরনের বিবাহ করলেও আপনাকে অবশ্যই নির্দিষ্ট কাজী অফিসে গিয়ে কাবিন রেজিস্ট্রি করতে হবে না হলে শাস্তির বিধান রয়েছে।

তালাক সম্পর্কে ভুল ধারণাঃ

আমরা অনেকেই জানি যে, মেয়ে তালাক দিলে হয়তোবা তাকে বাকি দেনমোহর দিতে হয়না। এটা ভুল, তালাক ছেলে কিংবা মেয়ে যেইই দিক না কেন, মুসলিম আইন অনুযায়ী স্বামীকে বাকী দেনমোহর পরিশোধ করতেই হবে। এটা ইসলামের বিধান। যদি স্বামী মারা যায় তাহলে স্বামীর সম্পত্তি ওয়ারিশেদর মধ্যে ভাগ করার আগে স্ত্রীর দেনমোহর বাবদ সম্পত্তি সবার আগে আলাদা করেত হবে।

শুধু দেনমোহরই নয়, বকেয়া কোন ভরণপোষণ থাকলে তাও পরিশোধ করতে হবে। আর তালাকের পর ৩ মাসের ইদ্দতকালীন সময়ের ভরণপোষণ দিতে হবে।

আবার স্বামী বা স্ত্রী আলাদা হয়ে গেলেও সন্তানের ভরনপোষণ বাবাকেই বহন করতে হবে, সন্তান ছেলে হলে ১৮ বছর পর্যন্ত আর সন্তান মেয়ে হলে তার বিয়ে পর্যন্ত। এক্ষেত্রে সন্তান কার কাছে থাকলো, এটা মূখ্য বিষয় নয়। কারণ মুষলিম আইন অনুযায়ী সন্তানের সমস্ত দায় দায়িত্ব পিতার।

কোর্ট ম্যারেজের মতো তালাকও এফিডেভিটের মাধ্যমে কার্যকর করা যায়না

১৯৬১ সালের পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৭ ধারায় বাধ্যমূলক করা হযেছে যে, যদি কেহ তালাক দিতে চায় তাহলে তাকে স্থানীয় চেয়ারম্যান এবং স্ত্রীকে একটি লিখিত নোটিশ অবশ্যই দিতে হবে। উক্ত নোটিশের ৯০ দিনের আগে কোনভাবেই তালাক কার্যকর হবে না। উক্ত নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে চেয়ারম্যান একটি সালিশী পরিষদ গঠণ করে উভয়পক্ষকে সমঝোতার চেষ্টা করবেন। চেষ্টা ব্যর্থ হলেও ৯০ দিনের আগে তালাক কার্যকর হওয়ার কোন সুযোগ নাই।
সুতরাং নোটিশ ব্যতীত ৯০ দিন আগে তালাক কার্যকর হওয়ার কোন সুযোগ নাই। তাছাড়া কেউ তালাকের নোটিশ না দিলে সে ১ বছর পর্যন্ত কারাদন্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে সন্তান প্রসবের আগে তালাক কার্যকর হয় না।

তবে
যদি ৯০ দিনের মধ্যে তালাকদাতা তালাক প্রত্যাহার করে নিতে চাইলে প্রত্যাহার করে নিতে পারবে। তাহলে তালাকের কোন বৈধতা থাকবে না।
আবার তালাকের পরও যদি তারা পুনঃবিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাইলে কোন বাধা নাই। এক্ষেত্রে মুতা বিবাহের (তৃতীয় একজনকে বিবাহ করার পর পূর্বের স্বামীকে বিবাহ) প্রয়োজন নাই


বিঃদ্রঃ বিয়া হইলো দিল্লী কা লাড্ডু, খাইলেও পস্তাইবেন, না খাইলেও পস্তাইবেন।
১৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×