somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি হতভম্ব, এই আমাদের স্বাধীন দেশ?

১৩ ই জুলাই, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ওয়েট ওয়েট…………
আমার লিখা পড়ার আগে ভালো করে পিক্স দুটা দেখুন, আর একটাবারের জন্য ভাবুন ছেলেটা আপনার আপনজন কেউ। না না হয় নাই……… আরেকটু ভালো করে দেখুন।
শেষ দেখা?
এর নাম সামিউল আলম রাজন। সিলেট এর কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডে চোর অপবাদ দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় শেখ সামিউল আলম রাজন নামে ১৩ বছরের এক শিশুকে। বুধবার এ ঘটনার পর হত্যার ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে চারদিকে সমালোচনার ঝড় উঠে।
কথা হইলো সমালোচনা কি ভাই? আর আলোচনাটা কি?
ভিডিওতে যা যা ছিলো এইবার তাতে আসি……
ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছিলো দুজন ভদ্রলোক (হ্যা হ্যা অবশ্যই এই পিশাচগুলি ভদ্রলোক)রোলার দিয়ে রাজনের মাথা থেকে পা পর্যন্ত থেমে থেমে আঘাত করছিল।আর বলছিলো ::::
‘এই ক (বল) তুই চোর, তোর নাম ক... লগে
কারা আছিল...’ ইত্যাদি বিষয়ে জানতে চেয়ে মারধর করা হয়।
ভিডিওতে বলতে শোনা গেছে,
‘কোন সিস্টমে তরে মারতাম খ, আমরার হখল সিস্টম জানা আছে’। (তোকে কীভাবে মারব বল, আমরার সব পদ্ধতি জানা আছে)। এক পর্যায়ে ঘাতকরা রোল দিয়ে রাজনের
পায়ে পেটাতে থাকে আর জিজ্ঞেস করে সে ‘খুশি’ কিনা। এসময় রাজন কাতর সুরে বলে, ‘আড্ডিত মাইর না রেবা, এখটা মারছ খুশি অইছি’(হাড্ডিতে মেরো না,একটা মারছো খুশি হইছি)। তখন একজন বলে, ‘এখটা খাইছ খুশি, দুইটা খাইলে ডবল খুশি’! পরে উল্লাসে ফেটে পড়ে।
ভিডিও চিত্রের মাঝামাঝি সময় দেখা যায় ভদ্রলোকের বাচ্চারা বারবার কিশোর রাজনের পুরষাঙ্গে রোলার দিয়ে খোঁচাচ্ছে।
সেখানে রোলার দিয়ে গুতা দিচ্ছে, আঘাত করছে। যন্ত্রণায় চিৎকার করছে রাজন আর ঘাতকরা অশ্লীল মন্তব্য করে উল্লাস করছে।
একনাগাড়ে প্রায় ১৬ মিনিট রাজনকে অনেকটা খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে রোল দিয়ে পেটানো হয়। একপর্যায়ে মাটিতে নিস্তেজ হয়ে পড়ে পানি খাওয়ার আকুতি জানায় রাজন। কিন্তু পানির বদলে ‘ঘাম খা’ বলে মাটিতে ফেলে রাখা হয় তাকে।
কয়েক মিনিটের জন্য রাজনকে হাতের বাঁধন খুলে রশি লাগিয়ে হাঁটতে দেওয়া হয়।ঘাতকরা এত নির্যাতনের পর
তার আর হাটার শক্তি নেই। সে মাটিতে ধপ করে পড়ে যাবার কথা । কিন্তু ভয়ে হাটতে থাকা শিশুটিকে উদ্দেশ করে তখন তারা বলে, ‘আড়গোড় (হাড়গোড়) দেখি এখনো ঠিক আছে, ইগুরে (ওকে) আরও মারো…’। এরপর রাজনের বাঁ হাত খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে আরেকদফা পেটানো হয়। এসময় রাজনের শরীর ও চোখ-মুখ বেশ ফোলা দেখা গেছে।এইভাবে দফায় দফায় শিশুটির নখে, মাথা পেট ও উড়োসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রোল দিয়ে আঘাত করা হয়। এক সময় বাঁ হাত
ও ডান পা ধরে মোচড়াতেও দেখা যায়।ভিডিওটি এতটাই নির্মম আর পৈশাচিক, যদিও আমার জন্মগতভাবে মন বলে কিছু নাই,কিন্তু আমার বুকের ভিতরটা দুমরাইয়া মুচরাইতে থাকে। কিন্তু এতটুকু ঠিক এতটুকু দয়া হয়নি ভদ্রলোকের বাচ্চাদের্। তারা তাকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়েছে।
এরা আরোও বলেছিলো , ‘তরে এমন শিক্ষা দিমু,
হালার হালা (শালার শালা) জীবনে আর
চুরি খরতে (করতে) ফারতে (পারবি) নায়
(না)’।
তখন তাঁর চোখ-মুখ বেয়ে অঝোরে ঘাম ঝরছিল। সে বলছিলো: আমি মরি যাইয়ার, কেউ বাঁচাও রে বা!’ ‘আমারে পানি খাওয়াও!’
তাঁকে বলা হলো ‘পানির বদলা ঘাম খা!’ না রাজনকে ঘাম খেতে হয়নি। ততক্ষণে মৃত্যুই তাকে খেয়ে ফেলেছে।
এরপর যা হয়েছে তা ভিডিওতে নাই। হয়তো সিনেমার সাথে শেষের ঘটনার মিল আছে। "হ্যান্ডসয়াপ,আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না। "
সবাই বলেন হিপ হিপ হুররে ……
আমাদের দাবি আমরা আশরাফুল মাখলুকাত!
ধিক্ক ………থুউউউউ
আমি মানি না।
আমরা মানুষ সব মুখশধারী শয়তান।
বন্ধু আমি সরি তোদের ট্যাগ করায়। আজ আমরা যা করছিলাম তা যদি ঐদিন রাজনের কাছে পৌছাতো হয়তো রাজনের চুরি করতে হত না। যাই চুরি করূক তা কি জীবনের চেয়ে বেশি মূল্যবান ছিলো?
কি চুরি করেছে রাজন ? কি চুরি করতে পারে রাজন ? কি চুরি করার ক্ষমতা আছে রাজনের ? এই আমরা জনগণ রাজন কি চুরি করল জানতে পারলাম না কিন্তু রাজনকে মেরে ফেলা হল। কিন্তু যারা হাজার হাজার কোটি টাকা চুরি করছে কই তাদেরতো আমরা জনতা কিছুই করতে পারছি না ।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:২১
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১০



বিএনপির সামনে অনেক কঠিন সব চ্যালেঞ্জ...

তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে দ্বিমুখী বিরোধী-দলীয় রাজনীতি বা কর্মকাণ্ড (যেটা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি)।

জামাত-এনসিপি যতই লীগের ফিরে আসার বিরুদ্ধে বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৫



আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×