somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সত্যপথিক শাইয়্যান
অন্যদের সেভাবেই দেখি, নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই। যারা জীবনকে উপভোগ করতে চান, আমি তাঁদের একজন। সহজ-সরল চিন্তা-ভাবনা করার চেষ্টা করি। আর, খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারি।

আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য কাহিনী উল্লেখ করেছেন। আমার নানা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক ছিলেন। শোনা যায়, যেদিন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়, শুনতে পেরে তিনি সিলেটের নিজের বাসা থেকে নিজের লাইসেন্স করা বন্দুক নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন।

১) আমা নানা অন্যকে সাহায্য করতে ভালোবাসতেন।
বালাগঞ্জের সমস্ত মানুষ তা জানতেন। তাই তো রাস্তাঘাটে আমার নানাকে থামিয়ে তারা সাহায্য চাইতেন। নানা তাঁদেরকে নিজের পকেট খালি করে সাহায্য করতেন। অনেক সময় এমন হতো যে, বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় মানুষের প্রয়োজন মেটাতে মেটাতে দুপুরের খাবারের সময় পার করে নানাকে বাসায় ফিরতে হতো!

২) আমার নানা মরহুম মাহমুদ জায়গীরদার একজন আধ্যাত্মিক মানুষ ছিলেন। তাঁর আধ্যাত্মের লেভেল এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছিলো যে, ভারতের খাজা বাবা’র দরবারের খাদিমরা পর্যন্ত তাঁকে সম্মান করতেন। তিনি যখন খাজা বাবা’র দরবারে জিয়ারতে যান তাঁকে সেখানে গিয়ে কোন খরচ করতে দেন নাই সেখানকার খাদিমরা। এখানে উল্লেখ্য, খাজা বাবার দরগাহের অতিথি হয়ে থাকাটা অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। ‘দশ রূপী’ নিয়ে ভারত সফর করা এবং তা খরচ না করে দেশে ফেরা আমার নানার আধ্যাত্মিকতাই প্রমান করে।

৩) নানা ছোটদের স্নেহ করতেন। কাপড়ের ব্যবসায়ী হিসেবে সিলেটের বন্দর বাজারে তাঁর একটি দোকান ছিলো। তাঁর ছোট ভাই, অর্থাৎ আমার সেঝ নানা’র বন্ধুরা যখন তাঁর কাছ থেকে বাকিতে কাপড় কিনে পড়তেন, তিনি সেই পাওনা টাকার জন্যে ছোট ভাইয়ের বন্ধুদের পিছু পিছু ছুটতেন না। এতে অর্থের প্রতি তাঁর লোভহীন মনের পরিচয় মিলে।

৪) নিজের বাবার আদেশ আমার নানা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে শিরোধার্য করেছিলেন। একটি ঘটনা থেকে তা বুঝা যায়। আমার নানার আব্বা যখন একদিন হঠাৎ আমার নানাকে বললেন যে - জমির ধান কেটে ফেলতে। যদিও জমির ধান তখনো পাকা হোয় নাই, আমার নানা বাবার আদেশ মেনে তাঁর শ্রমিকদের সেগুলো কেটে ফেলার নির্দেশ দেন। যদিও পরে সেগুলো কাটা বন্ধ করা হোয়। নিজের বাবাকে কতটা সম্মান করতেন আমার নানা তা থেকে বুঝতে পারা যায়। এটা অত্যন্ত শিক্ষনীয় ব্যাপার যা আজকের জমানায় খুব একটা দেখতে পাওয়া যায় না।



৫) আমার নানা মানুষকে খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারতেন। এখানে নানা’র সাথে আমার খুব মিল!!! আমিও খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারি। বালাগঞ্জে নানাদের যে রাইসমিল ছিলো তা আমার নানা’র বুদ্ধিতেই খোলা হয়েছিলো।

৬) আমার নানা মানুষকে বিশ্বাস করতে ভালোবাসতেন। একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে ঠকাতে পারে এটা তাঁর মাথায় আসতো না। সেজন্যেই তো তাঁর চাচা যখন আমার নানাকে বুঝালেন যে, রাইস মিলের ম্যানেজার তাঁকে ঠকাতে পারে, আমার নানা খুব অবাক হয়েছিলেন!

৭) আগেই বলেছি, আমার নানা মানুষকে সাহায্য করতে ভালোবাসতেন। তিনি ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দাবা চ্যাম্পিয়নদের একজন। তাই তো, তিনি যখন লন্ডনে দাবা খেলতে যাওয়ার আমন্ত্রণ পেলেন, কিন্তু, তাঁর কাছে হেরে যাওয়া খেলোয়াড় তাঁকে বললো যে সে লন্ডনে সেটেল হতে চায় আর নানা যেন যেন নিজের অসুস্থতার কথা বলে লন্ডনে যাওয়ার আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দেন, আমার নানা সেই লোকের কথা মেনে নেন। তিনি আর লন্ডনে যান নাই।

৮) আমার নানা দূর্নীর্তিগ্রস্থ ছিলেন না। এর প্রমাণ পাওয়া যায়, বালাগঞ্জ থানার কাউন্সিলের অন্যান্য সদস্যরা যখন সরকারের দেওয়া খাদ্য সামগ্রী মেরে দেন, কিন্তু, তারপরও বালাগঞ্জের মানুষ আমার নানাকে বিশ্বাস করে পরেরবার চেয়ারম্যান পদে পুনঃনির্বাচিত করেন। নানা তাঁদের আস্থার প্রতিদান দিয়েছিলেন বলেই এমন ঘটেছিলো।

৯) আমার নানা খুব ভোজনরসিক ছিলেন। বালাগঞ্জের বিভিন্ন দাওয়াতে নানাকে নিমন্ত্রন জানানো হতো। নানাও যেতেন।

১০) মানুষের ডাক ফিরিয়ে দিতেন না আমার নানা। তাই তো অসুস্থ্য থাকা সত্ত্বেও তিনি মানুষের বাসায় যাওয়ার নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়েছিলেন। সেটাই ছিলো তাঁর শেষ নিমন্ত্রণে যাওয়া। বাড়ি ফেরার পরে তিনি যে ঘুম দিলেন, সেই ঘুম আর ভাঙ্গে নাই!

১১) বালাগঞ্জের মানুষ তাঁকে ভালোবাসতেন। তাই তো তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর দাফন বালাগঞ্জেই হোক তা এলাকার মানুষ চেয়েছিলেন। তাই তো তাঁরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেছিলেন - “তোমরা কীভাবে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবলে? তাঁর শেষ ঠিকানা তো এখানেই!”

খোদা আমার নানাকে বেহেশত নসীব করুন।


সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৯
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কেউ জানেনা

লিখেছেন অপ্‌সরা, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৪২


কেউ জানেনা
আমার একটা জগৎ আছে,
খুব গহীনে, সংগোপনে,
বুকের ভেতর লুকিয়ে থাকা
একটা জগৎ....
নিজের জগৎ, নিজের মত
আমার একটা জগৎ লাগে।

রোজ বিকেলে কাজের পরে
একটু যখন অবসরে,
একটু সময় চায়ের কাপে
নিজের মত, নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সালমান মুক্তাদীরের জুলাই আন্দোলন: কারণটা কি একান্ত ব্যক্তিগত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০১


সালমান মুক্তাদীর বাংলাদেশের কনটেন্ট ক্রিয়েশন জগতের পথিকৃৎ। তার হাত ধরে এদেশে কনটেন্ট ক্রিয়েশনকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে কত তরুণ, তার কোনো হিসাব নেই। তার ভক্তের সংখ্যা অগণিত। তবে কাজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে পর্ণ এটাকের জনককে পাওয়া গিয়েছে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৮



ব্লগার চারাগাছ সামুতে মডারেটর নেই বলে সন্দেহ করছেন। নিজের ধারণা পাকাপোক্ত করতে সামুতে পর্ণ এটাকের প্ল্যান করছেন। ইহা কি ব্লগার?

সামুতে পর্ণ এটাকের কারণে পর্ণ সাইটের ধুয়া তুলে বিগত সরকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেউ জানে না.....অপ্‌সরাপু মেইড মাই ডে!!!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১২

গানঃ কেউ জানে না
গানের লিংক - https://on.soundcloud.com/t6S1rpHbzq62HoSW98



হয়নি বলা হয়নি বলা...
সবচে' আপন যে জন ছিলো
সবচে' দূরের মানুষ সেও।
হঠাৎ কোথা হারিয়ে গেলো!
একটা অজান সূর।
কোন সুদূরে কোন অপারে
কোন সে অচিনপুর!


==========
কবিতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



যে কেউ যে কোনো ধরনের পোশাক পরে যে কোনো সমাজে যেতে পারেন, সাধারণত কেউ বাধা দেয় না। তবে সর্বসাধারণের ক্ষেত্রে “দৃষ্টিকটু” বলে একটি বিষয় উল্লেখ্যযোগ্য। যা সময় স্থান কাল পাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×