উচ্চশিক্ষায় ৭.৫% ভ্যাট প্রত্যাহার হতে না হতেই এইবার প্রযুক্তিখাতে ৪% ভ্যাট। একখানা মাউস কিনতে গেলেও ভ্যাট দিতে হইতে পারে। চল্লিশ হাজার টাকায় ল্যাপটপ কিনতে পারলে মাত্র ১৬০০ টাকা ভ্যাটও দিতে পারবেন, এ আর এমন কি কঠিন।
এইবার সাথে যোগ হচ্ছে টিকফা চুক্তির প্রয়োগ......... এই চুক্তির আওতায় আমাদের কর্তৃপক্ষ মার্কিন কোম্পানীগুলোর ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি রাইটস (IPR) বাস্তবায়নে বাধ্য থাকিবেন, যদিও এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ২০২১ সাল পর্যন্ত একটা অবকাশ পেয়েছিল। একইভাবে ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পে এই অবকাশ ছিল ২০১৬ পর্যন্ত। এই সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগও ছিল, কিন্তু তা না করে আমরা মনোযোগ দিয়েছি কিভাবে আগেভাগেই মার্কিন কর্পোরেট জায়ান্টদের ব্যবসা মজবুত করা যায়।
সহজ বাংলায়, এখন থেকে 'চোরাই' পাইরেটেড সফটওয়্যার না চালিয়ে হাজার দশেক টাকা দিয়ে অরিজিনাল উইন্ডোজ সহ অন্যান্য সকল সফটওয়্যার ন্যায্যমূল্যে খরিদ করিতে বাধ্য থাকিবেন। বিদেশের প্যাটেন্ট করা ঔষধ উচ্চমূল্যে কিনে খেতে হবে। কৃষিক্ষেত্রে বহুজাতিক বীজ কোম্পানীগুলোর আগ্রাসনে কৃষকেরা তাদের স্বাধীনতা হারাবে, আর পয়সার জোরে আমাদের চিরায়ত কৃষিজ সম্পদগুলোর স্বত্ব নিয়ে নেবে সেইসব কোম্পানী।
সর্বশেষ বিনোদন, টিকফা চুক্তির ১৫ নম্বর প্রস্তাবনা অনুসারে - মার্কিন বিনিয়োগকারীদের অর্জিত মুনাফা বা পুঁজির ওপর বাংলাদেশ কোন কর আরোপ করতে পারবে না এবং বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নেয়া হলে তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এর আগেও ভিনদেশকে ট্র্যানজিট বা করিডোর দেওয়া হয়েছে, অসভ্যতা বা বেয়াদবি হবে বলে সেখানে কোন শুল্ক রাখা হয়নি। মোবাইল কোম্পানীগুলো দুই হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকি দিয়েছে। যাবতীয় ভ্যাট-ট্যাক্স শুধুমাত্র বাঙ্গাল জনগোষ্ঠীর জন্য।
এখনকার তারুণ্যের মধ্যে একটা প্রবণতা প্রায়ই দেখি, মার্কিন বিলিয়নিয়ারদের আইকন বানিয়ে তাদের জীবন-দর্শন পূজা করা। চকচকে পোশাকে বহুজাতিক কোম্পানীর দাসত্ব করবার চেয়ে উদ্যোক্তা হওয়া অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু উদ্যোক্তা হয়ে যদি দেশে ব্যবসাই না করা যায়, তাহলে লাভ কি?
ইকোনমিক সাম্রাজ্যবাদের এই দাসত্ব গলায় নিয়ে নিচ্ছি আমরা, জেনে কিংবা না জেনেই।
খেসারত দিতে হবে আমাদের সবাইকেই।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৪:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




