মজা লস পেইজ-এর অ্যাডমিন রেফায়েত আহমেদকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার অভিযোগ রয়েছে। রাষ্ট্র বিরোধী কোন প্রচারণা আজ পর্যন্ত আমার চোখে পড়েনি। তবে সরকারের নানা অসঙ্গতির সমালোচনা ট্রল আকারে বরাবরই প্রকাশ পেতো এই পেইজে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতেও মজা লস সোচ্চার ছিল। যেমন বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর মজা লস তাকে নিয়ে প্রতিবাদী পোস্ট দেয়। হরতাল, সহিংসতা, সন্ত্রাসসহ প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের বিবাদও নিয়ে মজা লস 'মজা' করত।
২০১৪ সালে পেইজটি একটি ভিডিও প্রকাশ করে। এই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মেয়ে রিকশায় করে যাচ্ছে। সেই রিকশা থামিয়ে একটি ছেলে তাকে থাপ্পড় মারছে। মজা লস পেইজ এই ভিডিওটি প্রকাশ করে নির্যাতনকারী ছেলেটিকে ধরিয়ে দেওয়ার আহবান জানায়। এই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে, নির্যাতনকারী ছেলেটিকে শনাক্ত করা হয়। চলতি বছরের পহেলা বৈশাখে টিএসসিতে ঘটে যাওয়া নারী নির্যাতনের ঘটনায় মজা লস শক্ত অবস্থান নেয়। সিসিটিভির ফুটেজ ঘেঁটে তারা কয়েক জনের ছবি প্রকাশ করে দেয়। এই ইস্যুতে পুরো ফেইসবুক একাই কাঁপিয়েছিল পেইজটি।
গণজাগরণ মঞ্চের ইমরান এইচ সরকারের সাথেও বাকযুদ্ধ হয়েছিল পেইজটির। সেদিনও জনমত মজালসের পক্ষে ছিল।
আরেকটা বড় সমস্যা করেছে যখন, গুলশানে আওয়ামীলীগের সাবেক সংসদ সদস্য এইচ বিএম ইকবালের ভাতিজা ফারিজ কার রেসিং করতে গিয়ে নিরীহ মানুষ চাপা দিয়ে মারে আর পুলিশ তাকে মোটর সাইকেল দিয়ে রক্ষা করতে যায়। সেই ছবি প্রকাশ করে দেয় এই পেইজ। পেইজটির কারণে ঘটনাটি পুলিশ আর ধামাচাপা দিতে পারেনি।
পেইজটি ফেইসবুক বন্ধ থাকায় তারানা হালিমকে নিয়ে ট্রল করেছে। এর আগে সাহারা খাতুনকে নিয়েও ট্রল করতো।
এতো বছরে যা দেখেছি, এই হলো মজা লসের অপরাধ। আজকের রিমান্ড শেষে হয়তো আইএস এর সাথে সম্পৃক্ততার প্রমাণও মিলবে।
পেইজের কারো সাথে আমার ব্যক্তিগত কোন পরিচয় নেই। কাউকে চিনিনা আমি। তবে এতোদিনে এদের প্রতি আরো অনেকের মতো আমারও একটা ভালবাসা জন্মে গিয়েছিল।
বাক স্বাধীনতা যদি অন্যায় হয়, তবে রেফায়াতের আগে আরো অনেকেই গ্রেফতার হওয়ার কথা ছিলো।
বিঃদ্রঃ এক ভাইয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেওয়া ।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





