
আমরা উঠেছিলাম স্বর্ণশীলা তে। নন এসি ৮০০ টাকা, এসি কাপল ১৫০০ টাকা। মশার উপদ্রপ থাকলেও হোটেল টা ভালো।
বান্দরবান বাস থেকে নেমে হোটেল এর জন্য ১ টি অটো নিলাম। ৫-৭ মিনিট পর আমাদের নামিয়ে দিলো। হোটেল এ উঠে ফ্রেশ হয়ে আবার বের হলাম। নাস্তা সেরে আবার গেলাম বাসস্ট্যন্ড এ। শহরের আশে পাশে কিছু জায়গা আছে সেগুলো ঘুরে দেখবো। সেখানে আমরা পেয়ে গেলাম আর ১টা গ্রুপ। ৬ বালক। ৬ বালক আর আমরা ৪ জন। এবার হল আমাদের ১০ জন এর গ্রুপ। মহেন্দ্রা ভাড়া করতে লাগলাম। মহেন্দ্রা হল সি এন জি থেকে আর একটু বড়। ৫-৬ জন বসা যায়। তবে যে কেউ চাইলে সি এন জি নিতে পারে। ভাড়া একি পরে।
কয়েকটি স্পট আমাদের কে ঘুরিয়ে দেখাবে।
১। রামজাদী মন্দির বা রাম মন্দির-১ টি মন্দির। কেউ হাফ প্যন্ট পরা থাকলে সেখানে ঢুকতে পারে না। লুঙ্গি বা ফুল প্যান্ট পরা থাকতে হবে। তবে কেউ চাইলে সেখান থেকে লুঙ্গি ভাড়া নিতে পারে। ভাড়া ২০ টাকা। আর মন্দিরে ঢুকার ভাড়া ১৫ টাকা।
২। মেঘলা পার্ক ঃ শহর থেকে ৪ কিলো দূরে একটি পার্ক। এর প্রধান আকর্ষণ ঝুলন্ত ব্রীজ এবং ক্যবল কার। ভাড়া ঢুকতে ৪০ টাকা, আর ক্যাবল্কার এর ৫০ টাকা।
৩। প্রান্তিক লেক ঃ শহর থেকে একটু দূরে একটি শান্ত লেক। অপরূপ প্রকৃতির সাথে ঘনিষ্ঠ ভাবে মিশে আছে নীল পানি। ঢুকতে খরচ হবে ৫০ টাকা। তবে যাবার সময় কাপড় নিয়ে যাওয়া উচিত। কারন ইচ্ছে করলেই গোসলটা সেড়ে নেয়া যায়।

৪। ন্যশনাল পার্ক ঃ আহামরি কিছু নাই। জঙ্গল এ কিছু প্রানী আছে।
৫। নীল আঁচল ঃ এই ১ টা জায়গা আমার অনেক পছন্দের। সূর্য ডোবার আগে সেখানের আকাশ ২ রঙ দেয়। উপরে সাদা, নিচে নীল। তাই এর নাম নীল আঁচল। সন্ধাটা পার করলাম সেখানে।


পরদিন ভোর ৫ টায় আমরা রউনা দিলাম নীলগিরি এর পথে।আমরা ছিলাম ৯ জন। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ আর আমাদের গাড়ির চালক মনে হয় পাল্লা দিচ্ছিলো রাস্তার সাথে। গাড়ি পাহাড় বেয়ে কেবল উপড়েই উঠতে লাগলো। ঘন্টাখানেক পর আমরা চিম্বুক এ নেমে চা টা সেরে আবার রউনা দিলাম। ২ঘন্টার মধ্যে চোখে পড়লো নীলগিরি। টিকিট ৫০ টাকা করে। কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে ফেরার পথ ধরলাম।

আবারো সেই অদ্ভুত সুন্দর আর ভয়ঙ্কর সেই রাস্তা। নীলগিরি এর চেয়ে রাস্তার সৌন্দর্য টাই আমার বেশি মনে হয়েছে। আসার পথে থামলাম শৈল প্রপাত। ১টি ঝর্না। সাধারনত বর্ষা কালে এর আসল রুপ বের হয়ে আসে। এই সময় তাকে কেমন যেন বুড়ি বুড়ি লাগলো।
ফিরলাম শহরে। হোটেল এ ফিরে আবার বের হলাম। এবার শুরু হলো পানি ঢালা। বালতির বালতি পানি আমাদের কে এমন ভাবে ভেজালো যে আমরা গরম টেরই পেলাম না। হাঁটছি আর ভিজছি। এর পর আমরা ১টা অটো নিলাম। হোটেল থেকে বালতি করে পানি নিলাম, সাথে কিছু বোতল। নে, বাবা আমরাও শুরু করলাম পানি খেলা। শহর ঘুরলাম আর পানি দিলাম মানুষের গায়ে। এই দিন গুলোতে কেউ রাগ করে না। কারন এটাই তাদের উৎসব। বিকেল পর্যন্ত এভাবে পানি খেলা খেলে, রাজার মাঠের পানি উৎসব উপভোগ করলাম।
তারপর আবার ফিরে এলাম নীলাচল কটেজ এ। আগের দিন কটেজ টা ভাড়া করে গিয়েছিলাম। ৩০০০ টাকা ভাড়া। তবে একসাথে অনেকে গেলে ১ রুম এ অনেকে থাকতে পারে। এক্সট্রা বেড নিতে হয় শুধু। যার ভাড়া পরে ১০০০ টাকা। সন্ধায় আবারো নীলাচল গায়ে দিয়ে আমরা ঘুমের রাজ্যে হাড়িয়ে গেলাম।
পর দিন ভাড়া চুকিয়ে বের হয়ে শহর এ ফিরলাম। নীলাচল থেকে যাওয়া আসা সি এন জি ভাড়া ৫০০ টাকা। তবে শুধু যাওয়া বা আশা ২৫০ টাকা। এবার হোটেল এ ফেরার আগে ন্সাঙ্গু নদির পাশ দিয়ে অনেক্ষন হাটলাম। দুপুর নাগাদ আবার সেই আগের হোটেল এ। এবার এসি রুম। বিকেলে আবার গেলাম রাজার মাঠে উৎসব এ। আবারো ভিজলাম। সন্ধায় খেয়ে দেয়ে আবার ঘুম। সকালে ঢাকায় ফেরার বাস। সেন্টমারটিন পরিবহন। ১৫০০ টাকা ভাড়া জনপ্রতি। পরদিন সকাল ১১ টায় বাস ছাড়ল, সন্ধ্যা ৮ টায় নামিয়ে দিলো আবার সেই যান্ত্রিক শহরে।


সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ৯:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



