somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বান্দরবান এ পহেলা বৈশাখ

১৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ৯:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৩ এপ্রিল রাতে শ্যমলি বাস এ করে বান্দরবান এর উদ্দ্যেশ্যে যাত্রা করলাম। বাস এর টিকিট এসি ৯৫০ টাকা অথবা নন এসি ৬৫০ টাকা। আমরা এসি বাস এর টিকিট পেয়েছিলাম। সকাল ৭.৩০ এর মধ্যে পৌঁছে গেলাম শহরে। আমাদের হোটেল আগেই বুক করা ছিল। কারো ঠিক করা না থাক্লেও সেখানে গেলেই পেয়ে যাবে সাধ্য অনুযায়ী হোটেল। সময় এর উপর ভিত্তি করে ভাড়া পরবে ৫০০ থেকে ৩০০০ পর্যন্ত।
আমরা উঠেছিলাম স্বর্ণশীলা তে। নন এসি ৮০০ টাকা, এসি কাপল ১৫০০ টাকা। মশার উপদ্রপ থাকলেও হোটেল টা ভালো।
বান্দরবান বাস থেকে নেমে হোটেল এর জন্য ১ টি অটো নিলাম। ৫-৭ মিনিট পর আমাদের নামিয়ে দিলো। হোটেল এ উঠে ফ্রেশ হয়ে আবার বের হলাম। নাস্তা সেরে আবার গেলাম বাসস্ট্যন্ড এ। শহরের আশে পাশে কিছু জায়গা আছে সেগুলো ঘুরে দেখবো। সেখানে আমরা পেয়ে গেলাম আর ১টা গ্রুপ। ৬ বালক। ৬ বালক আর আমরা ৪ জন। এবার হল আমাদের ১০ জন এর গ্রুপ। মহেন্দ্রা ভাড়া করতে লাগলাম। মহেন্দ্রা হল সি এন জি থেকে আর একটু বড়। ৫-৬ জন বসা যায়। তবে যে কেউ চাইলে সি এন জি নিতে পারে। ভাড়া একি পরে।
কয়েকটি স্পট আমাদের কে ঘুরিয়ে দেখাবে।
১। রামজাদী মন্দির বা রাম মন্দির-১ টি মন্দির। কেউ হাফ প্যন্ট পরা থাকলে সেখানে ঢুকতে পারে না। লুঙ্গি বা ফুল প্যান্ট পরা থাকতে হবে। তবে কেউ চাইলে সেখান থেকে লুঙ্গি ভাড়া নিতে পারে। ভাড়া ২০ টাকা। আর মন্দিরে ঢুকার ভাড়া ১৫ টাকা।
২। মেঘলা পার্ক ঃ শহর থেকে ৪ কিলো দূরে একটি পার্ক। এর প্রধান আকর্ষণ ঝুলন্ত ব্রীজ এবং ক্যবল কার। ভাড়া ঢুকতে ৪০ টাকা, আর ক্যাবল্কার এর ৫০ টাকা।
৩। প্রান্তিক লেক ঃ শহর থেকে একটু দূরে একটি শান্ত লেক। অপরূপ প্রকৃতির সাথে ঘনিষ্ঠ ভাবে মিশে আছে নীল পানি। ঢুকতে খরচ হবে ৫০ টাকা। তবে যাবার সময় কাপড় নিয়ে যাওয়া উচিত। কারন ইচ্ছে করলেই গোসলটা সেড়ে নেয়া যায়।


৪। ন্যশনাল পার্ক ঃ আহামরি কিছু নাই। জঙ্গল এ কিছু প্রানী আছে।
৫। নীল আঁচল ঃ এই ১ টা জায়গা আমার অনেক পছন্দের। সূর্য ডোবার আগে সেখানের আকাশ ২ রঙ দেয়। উপরে সাদা, নিচে নীল। তাই এর নাম নীল আঁচল। সন্ধাটা পার করলাম সেখানে।


এই ৫ জায়গায় ঘুরতে আমাদের কে গুন্তে হয়েছে ১৬০০ টাকা। তবে অফ সিজনে আরো কম নিবে। তবে বলে রাখা ভালো এই সব গুলা জায়গা আমারা ঘুরেছি ভেজা কাপড় নিয়ে। কারন বৈশাখ এর ১,২,৩ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় বৈসাবি উৎসব চলে। তাই রাস্তায় পানি নিয়ে সবাই দাঁড়িয়ে থাকে এবং জাকে পায় তাকেই পানি ঢেলে দেয়। আমরাও বাদ যাই নি। তবে আগে থেকে জানতাম বলে সব কিছু পলিথিন এ করে রেখেছিলাম। রাতে খাবার শেষ করে আবার গেলাম বাসস্ট্যন্ড এ। এবার পালা চান্দের গাড়ি ভাড়া করার। যেহুতো বন্ধের দিন তাই সবাই দাম বেশি চাচ্ছিলো। প্রায় ঘন্টা ২ মুলামুলি করার পর নীলগিরি যাওয়ার জন্য রাজি করালাম এক ভাই কে। ভাড়া ৪৩০০। । ১ গাড়ি তে প্রায় ১৪-১৬ জন উঠতে পারে। তাই এসব জায়গায় গ্রুপ না গেলে অনেক বেশি খরচ পরে যাবে।
পরদিন ভোর ৫ টায় আমরা রউনা দিলাম নীলগিরি এর পথে।আমরা ছিলাম ৯ জন। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ আর আমাদের গাড়ির চালক মনে হয় পাল্লা দিচ্ছিলো রাস্তার সাথে। গাড়ি পাহাড় বেয়ে কেবল উপড়েই উঠতে লাগলো। ঘন্টাখানেক পর আমরা চিম্বুক এ নেমে চা টা সেরে আবার রউনা দিলাম। ২ঘন্টার মধ্যে চোখে পড়লো নীলগিরি। টিকিট ৫০ টাকা করে। কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে ফেরার পথ ধরলাম।



আবারো সেই অদ্ভুত সুন্দর আর ভয়ঙ্কর সেই রাস্তা। নীলগিরি এর চেয়ে রাস্তার সৌন্দর্য টাই আমার বেশি মনে হয়েছে। আসার পথে থামলাম শৈল প্রপাত। ১টি ঝর্না। সাধারনত বর্ষা কালে এর আসল রুপ বের হয়ে আসে। এই সময় তাকে কেমন যেন বুড়ি বুড়ি লাগলো।
ফিরলাম শহরে। হোটেল এ ফিরে আবার বের হলাম। এবার শুরু হলো পানি ঢালা। বালতির বালতি পানি আমাদের কে এমন ভাবে ভেজালো যে আমরা গরম টেরই পেলাম না। হাঁটছি আর ভিজছি। এর পর আমরা ১টা অটো নিলাম। হোটেল থেকে বালতি করে পানি নিলাম, সাথে কিছু বোতল। নে, বাবা আমরাও শুরু করলাম পানি খেলা। শহর ঘুরলাম আর পানি দিলাম মানুষের গায়ে। এই দিন গুলোতে কেউ রাগ করে না। কারন এটাই তাদের উৎসব। বিকেল পর্যন্ত এভাবে পানি খেলা খেলে, রাজার মাঠের পানি উৎসব উপভোগ করলাম।
তারপর আবার ফিরে এলাম নীলাচল কটেজ এ। আগের দিন কটেজ টা ভাড়া করে গিয়েছিলাম। ৩০০০ টাকা ভাড়া। তবে একসাথে অনেকে গেলে ১ রুম এ অনেকে থাকতে পারে। এক্সট্রা বেড নিতে হয় শুধু। যার ভাড়া পরে ১০০০ টাকা। সন্ধায় আবারো নীলাচল গায়ে দিয়ে আমরা ঘুমের রাজ্যে হাড়িয়ে গেলাম।
পর দিন ভাড়া চুকিয়ে বের হয়ে শহর এ ফিরলাম। নীলাচল থেকে যাওয়া আসা সি এন জি ভাড়া ৫০০ টাকা। তবে শুধু যাওয়া বা আশা ২৫০ টাকা। এবার হোটেল এ ফেরার আগে ন্সাঙ্গু নদির পাশ দিয়ে অনেক্ষন হাটলাম। দুপুর নাগাদ আবার সেই আগের হোটেল এ। এবার এসি রুম। বিকেলে আবার গেলাম রাজার মাঠে উৎসব এ। আবারো ভিজলাম। সন্ধায় খেয়ে দেয়ে আবার ঘুম। সকালে ঢাকায় ফেরার বাস। সেন্টমারটিন পরিবহন। ১৫০০ টাকা ভাড়া জনপ্রতি। পরদিন সকাল ১১ টায় বাস ছাড়ল, সন্ধ্যা ৮ টায় নামিয়ে দিলো আবার সেই যান্ত্রিক শহরে।

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ৯:৩৮
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×