somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছেলেবেলা, কৈশোর ও একটি ঝাপসা আয়না! (৩)

০৫ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১০:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছেলেবেলা, কৈশোর ও একটি ঝাপসা আয়না! (১)
ছেলেবেলা, কৈশোর ও একটি ঝাপসা আয়না! (২)
ছেলেবেলা, কৈশোর ও একটি ঝাপসা আয়না! (৩)
ছেলেবেলা, কৈশোর ও একটি ঝাপসা আয়না! (৪)
ছেলেবেলা, কৈশোর ও একটি ঝাপসা আয়না! (৫)

(পূর্ববর্তী অংশের পর...)
প্রাক-অধুনা এবং অধুনা'র এক বিব্রত সময়ে কেটেছে ছেলেবেলাটা। তাই, ইলেকট্রিক বাতির পাশাপাশি হারিকেন কিংবা হ্যাজাকের পরিচয় ছিলো আমার। আর একটা আবশ্যিক জিনিস ছিলো- 'গ্লোব' মশার কয়েল। কখনো কখনো ধূপ জ্বলত ঘরে-আহ! কি মিষ্টি ঘ্রাণ! ওর'ই মাঝে ডুবে ডুবে চলতো আমাদের পড়ালেখা। আব্বা টিভির ভ্যলিউম কমিয়ে দিয়ে ৮টার খবর শুনতেন, আর আমরা তখন ব্যস্ত ওয়ার্ডবুকে। আসলে সময় পার করে দেবার ফন্দি! কারণ, আমাদের মফস্বলে রাত নামত সন্ধ্যাতেই। সুতরাং, রাতে খাবার পরেই ঘুমের ভিসা পেয়ে যেতাম। মাঝে মাঝে যখন ইলেকট্রিসিটি থাকতনা, বাসার সামনের বিশাল মাঠে (তখন বিশাল'ই লাগত; এখন হেঁটে পার হতে লাগে মোটে ২৫ সেকেন্ড) চলতো আড্ডা। আমরা শিশুর দল যেন স্বাধীনতা পেয়ে যেতাম, কারণ, তখন শাসনের মাত্রাটা অনেকটা শিথিল থাকত। পুরো পাড়া ভেঙ্গে পড়তো তখন ওই মাঠ'টিতে। আর আমরা তখন শব্দের উৎস ধরে খুঁজে বের করতাম ঝিঁঝিঁ পোকার বাসা; পেলেই পানি ঢেলে দিতাম! জোছনারাতে কখনোবা টুক-পলান্তি (লুকোচুরি) খেলতাম, মাঝে মাঝে বরফ-পানি। ও হ্যাঁ আরেকটা খেলা ছিল-'কুমির তোর জলে নেমেছি'। এটা খুব উত্তেজনাকর খেলা ছিলো। সে যাই হোক, এরকম হৈ-হল্লার মধ্যেই কখন যে বেরসিকের মতো ইলেকট্রিসিটি চলে আসত! আমরা মুখ ব্যাদান করে ঢুকে পড়তাম মশারির ভেতরে ওত পেতে থাকা ঢালাও বিছানায়।
ওই সময় আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দদায়ক ঘটনা ছিল গ্রামের বাড়ি যাওয়া। যদিও খুব কাছেই, কিন্তু ওই বয়সে আমার সাহসে'র বাইরে ছিল গ্রামের বাড়ি। যাবার সময় আব্বা টিভিটা সাথে করে নিয়ে যেতেন, কারণ রাত ৮টার সংবাদ ছিল তার ৬ নম্বর মৌলিক চাহিদা। যেজন্য একটা ব্যাটারি'ও কেনা হয়েছিল টিভি চালানোর জন্য। যাই হোক, গ্রামের বাড়ি আমার জন্য ছিল চারণভূমি, কারণ, ওখানে কেউ বাধা দেবার ছিলনা। কখনও পুকুরে নেমে চোখ লাল করার আগে উঠিনি। একটু দূরেই নদী। শীতের সময় যখন সত্যি সত্যি'ই জল হাঁটুর নিচে নেমে যেতো, তখন চলত কাদার মধ্যে আমাদের মাছ ধরা, নিজের উপার্জিত মাছ খেতে গিয়ে গর্বে বুক ফুলিয়ে থাকতাম।
আসলে আমার ছেলেবেলাটা গাঁয়ের আর দশটা সাধারণ ছেলের মতই কেটেছে। তখন কোন দর্শন ছিলোনা, ছিল বৈচিত্র। শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠতাম শুধু সর্ষেক্ষেতের এপার-ওপার দৌড়ে যাবার জন্য, কারণ, শিশিরে ভেজা সর্ষেফুলের হলুদ রং-এ পুরো পা হলুদ হয়ে যেতো। আমার খুব স্পষ্ট মনে পড়েনা, কিন্তু এটুকু মনে পড়ে, এই সুন্দরের দিকে আমার গেঁয়ো চোখটা যেন আশ্রয় খুজে পেত! আমি তখন'ও 'অমল' কে চিনিনা, কিন্তু এখন বুঝতে পারি, সব শিশুর মধ্যেই একজন করে 'অমল' বাস করে। নইলে কেন, এই বাংলাদেশের অখ্যাত একটা গ্রামের ক্ষুদ্র একটা শিশুর ভাবনার সাথে মিলে যাবে অমলের দইওয়ালা হবার স্বপ্নটা! আমি হতে চেয়েছিলাম ফেরিওয়ালা...।
তারপর একসময় আমরা ফিরতাম গ্রামের বাড়ি থেকে। সবাই ভাবে ছুটি কাটিয়ে ফিরলাম। আর আমি ভাবতাম বুঝি ছুটি মেখে ফিরলাম! আমার ছোট্ট মনের কোল জুড়ে কেবল উঁকি দিত সহজিয়া দিনগুলোর টুকরো টুকরো ছবি। আমার আয়নাটা তখনও ঝাপসা হয়ে যায়নি। আমার গোপন বিলাসে তখন ভাবনাগুলো কে নিরলস সংগ দিত আমার আয়না।
আর আমি তখন শৈশবের পুকুরে ডুবসাঁতারে পাড়ি জমাচ্ছি কৈশোরের পথে...। (চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ২:৫১
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পিনাকী ভট্টাচার্য কেন দেশে আসে না, জানেন?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯


Pinaki Bhattacharya - পিনাকী ভট্টাচার্য তিনিঞ্চি কেন দেশে আসে না জানেন? তার পাসপোর্টই তাকে সে অনুমতি দেয় না। Meghna Alam থেকে প্রাপ্ত এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে তার পাসপোর্টে স্পষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের সেই এন্টিনিয়ার।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৮

কিছু স্বপ্ন, কিছু স্মৃতি এবং নানীর বাড়ি



আমি বেশ কিছুদিন ধরে একটি বিশেষ ধরনের স্বপ্ন দেখছি। স্বপ্নের কথায় যাওয়ার আগে কিছু পেছনের গল্প বলা প্রয়োজন।

ক্লাস নাইনে পড়ার সময় থেকে অনার্স... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×