somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেখেছো? আকাশে মস্ত বড় একটা চাঁদ।

০৫ ই জুন, ২০২৩ রাত ১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবিঃ প্রথম আলো


চাঁদ পূর্ণিমার প্রতি আগ্রহ হারিয়েছি বহুবছর আগে। বরং ঘৃনা জন্মেছে তাতে। জানালার ফাঁক গলে চাঁদের ঝলমলে আলো ঢেকে দেই জানালার পর্দা দিয়ে। সেদিন আকাশে বড় একখানা চাঁদ উঠেছিল। তুমি বললে, দেখেছো আকাশে মস্ত বড় একটা চাঁদ!
আমি নিজের ঘরে কম্পিউটারের এজ অফ এম্পায়ারে মগ্ন। সবে মাত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এমন সময় তোমার ফোন। একটেল জয়ে ইনজয় করছে প্রেমিক প্রেমিকারা। তোমার ফোন রিসিভ করার কথা ছিলো না। সারাদিন বহুবার ইগনোর করেছি তোমাকে। সম্পর্ক এগোনোর চেয়ে ব্যবধান বাড়াতে চলেছি। চেয়েছি ব্যবধান বারতে বারতে আলোকবর্ষ দুরে চলে যাবো একসময়।
কিন্তু তুমি নাছোরবান্দা। আমাকে নাকি তোমার চায়ই চায়। যদিও আমরা দুজনেই দুজনকে চেয়েছিলাম। কিন্ত আমার যা অবস্থা তাতে অবস্থানের পরিবর্তন হচ্ছিলো না কোন ভাবে। স্থায়ী কোন রোজগার নেই। তবে না খেয়ে থাকতাম না। তোমাকেও না খাইয়ে রাখতাম না। কিন্তু কেন জানি মনে হচ্ছিল তোমার সাথে অন্যায় করা হচ্ছে। আর তোমার পরিবারও একেবারেই আমাকে পছন্দ করে না। তোমার বাবা আমার ভবিষ্যত দেখেননি, বর্তমান টা দেখেছিলো শুধু। আর বর্তমানটা আমার ছিল যাচ্ছে তাই। অন্তত তোমাকে চালাবার মত নও।
তুমি অংকে ভালো ছিলে, চমৎকার ফিজিক্স পারতে। একবার ধরিয়ে দিলে ভুলতে না। আমি সাক্ষী। আমি তোমার টিউটর। আমার চেয়ে কে ভালো জানবে?

আমাদের রসায়ন কবে ঘনীভূত হয়েছিল ঠিক মনেই নেই। অনেক কিছুই ভুলে গেছি। ভুলে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। কিন্তু দেখো, আকাশের চাঁদ আর জোসনার আলো থেকে তোমাকে আবার মনে পড়লো। আজ ইচ্ছে হলেও কেন জানি জানালার পর্দা টানালাম না। আসুক আলো আসুক। সেদিনও হয়তো এমন মস্ত একটা চাঁদ উঠেছিল। তুমি চুপিচুপি কথা বলতে উঠলে ছাদে। বললে, দেখেছো আকাশে মস্ত বড় একটা চাঁদ । আমি কোন কথা বলিনি। আমি জানি এই চাঁদের আলোয় আমি তোমাকে ছুঁতে পারবোনা। কিন্তু তোমাকে বড্ড ছুঁতে ইচ্ছা হত। কানের পাশের চুল ছড়িয়ে দিতে ইচ্ছা হতো। কিন্তু আমি বর্তমানের কাছে হেরে গিয়েছিলাম। অপরাধী মনে হতো খুব।

দেখেছো? আকাশে মস্ত বড় একটা চাঁদ। কথাটা আমি মগজে নিয়ে বেড়াচ্ছি আজীবন। এটাই তোমার শেষ কথা ছিল। খবরটা দিয়েছিল রাসেল। তখন বাজে রাত তিনটা। তোমার বাড়িতে যাওয়া আমার নিষেধ। তবুও গেলাম। মূর্তি হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। তোমাকে ওরা দেখতে দিলো না। তোমার মুখ নাকি থেঁতলে গিয়েছিল। তিনতলা ছাদ থেকে পড়েছিল নিচের নির্মানাধীন ইটের উপর।


আজ ৫ই জুন। তোমার জন্মদিন। আকাশের চাঁদ দেখে হঠাৎই তোমাকে মনে পড়লো। যখন খুব বেশি মনে পড়ে, যখন আর সহ্য করতে পারিনা তখন ওরা আমাকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। লেখাটা লিখছি ওখান থেকেই।


সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০২৩ রাত ১:৪৬
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গার্মেন্টসের ভিতরে লুকানো বাস্তবতা—যা আমরা কখনো দেখি না

লিখেছেন Sujon Mahmud, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৫২



সকাল ৬টা। ঘুম ভাঙার আগেই যেন জীবন তাকে টেনে তোলে। রহিমা চোখ খুলেই কিছুক্ষণ ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। মনে হয়—
আরেকটা দিন, আবার সেই একই লড়াই।

রহিমা একজন গার্মেন্টস কর্মী। বয়স মাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?
--------------------------------------------
আজ বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে উত্তেজনা ইরান বিভিন্ন আরব রাষ্ট্র, ইসরায়েল,মার্কিন সংঘাত নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাদের দেশের সেই কথিত “তৌহিদী জনতা”, যারা সামান্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইস্টার ফ্রাইডে এবং যিসাসের শেষ যাত্রা: জেরুজালেমের স্মৃতিবিজড়িত পথে

লিখেছেন সৈয়দ নাসের, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




দিলু নাসের
আমার এই তিনটি ছবির সঙ্গে পৃথিবীর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বেদনাবিধুর ইস্টার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ছবিই যেন এক একটি অধ্যায়, একটি যাত্রার, যা শুরু হয়েছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ঘটনা নয়, এগুলো আগে থেকেই তৈরি করা মৃত্যু

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:০৫

চারপাশ থেকে কালো ধোঁয়া ঘিরে ধরছে। দুই চোখ প্রচণ্ড জ্বলছে । সুন্দর করে সাজানো হলরুমের প্লাস্টিক, ফোম, সিনথেটিক সবকিছু পুড়ে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে বিষাক্ত গ্যাসে। ঘরের অক্সিজেন প্রতি সেকেন্ডে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×