somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আশ্বিনের একটি বিষন্ন দুপুরে (জীবন গদ্য)..

০২ রা নভেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১২:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
©কাজী ফাতেমা ছবি


সবুজ মাঠ জুড়ে রোদ্দুর খেলে যাচ্ছে। আশ্বিনের এই মধ্যাহ্নে উদাস কে ই বা না হয়। বারান্দায় দাঁড়িয়ে উদাস দৃষ্টি রোদ্দুরের খেলা দেখে যাই... সুন সান নিরবতা... কেউ কোথাও নেই, কাকের সভাও নিরব। কেমন বিষন্নতা চারিদিকে।নেই সুরাসুর-নেই প্রাণ চঞ্চলতা কোথাও। ছুটির দিনগুলো তবে এমন কেনো। কেনো এত উদাসীনতা প্রকৃতি জুড়ে।রোদ্দুর ঝরে পড়ে একাকি গাছের পাতায় পাতায়। ঝিরিঝিরি হাওয়ায় দুলছে পাতারা সাথে আমার মনও।

শহুরে জীবন বুঝি এমনই-মাঠ আছে গরু নেই-রাখাল নেই-আচ্ছা সেই দিনগুলো হারালো কেনো। উদাস দুপুরে দূর থেকে ভেসে আসতো মিষ্টি সুরের বাঁশির সুর। রাখাল’রা বাজাতো বাঁশি... হৃদয়ের অথৈ হতে সুর তুলে আহা-শুনলেই মন প্রাণ ভরে যেতো আবেগে। আমার এখনো মনে আছে স্মৃতির পাতা থেকে উঠিয়ে নিয়ে আসি-তোমরা শুনবে- শুনো-বাঁশির সুর শুনে একদা আমারও বাঁশি বাজাতে ইচ্ছে হতো। মেলা থেকে কে আমায় বাঁশি কিনে দিবে-মুলি বাঁশ কেটে নিজেই লোহা আগুনে গরম করে ছিদ্র করে বাঁশি বানিয়েছিলাম। এক দুই নয় রোজ রোজই বাঁশি বানাতাম-তবে আমি তাতে সুর দিতে পারিনি। ফেঁ ফুঁ ছাড়া আর কিছুই হয়নি-হয়তো তখন সুর আমায় ছেড়ে পালিয়েছিল। আমি সেদিন মধ্যাহ্নেও বিষন্নতায় ডুবেছিলাম। মনের সুর কেটে সেদিনও বেসুরো সুরের উদাস দুপুর আমাকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল অকারণেও।আজও রোদ্দুরের খেলা দেখি আনমনে দাঁড়িয়ে।ফাঁকা রোদ্দুর জ্বলা মাঠের মতই যেনো বুকটা খাঁ খাঁ প্রেমহীন বিরানভুমি। সাইমুম ঝড় কখন এসে আমায় উড়িয়ে নিয়ে যাবে যেনো ।ফেরিওয়ালার হাঁক শুনে আচম্বিতে ধ্যান ভেঙ্গে যায়।

রোদ্দুর’রা মেঘের ছায়ায় লুকিয়েছে.....মাঠজুড়ে মেঘের ছায়া-আহা আরো কত বিষন্নতা ঝরে পড়ছে চারিদিক। ঝরা বকুল ফুলগুলো হয়তো শুকিয়ে ইট সুড়কির বিছানায় তাদের সলিল সমাধি হয়ে গেছে।সবুজ হরিতকিগুলো চুপসে গিয়ে ধূলায় লুটিয়ে পড়েছিল সেই সকালে। এতক্ষণে শুকিয়ে কাষ্টরূপে শুয়ে আছে বিষন্নতার চাদরে।সবুজ গাছপালাগুলো থিরথির কাঁপছে কখনো রোদ্দুর তাপে কখনো মেঘরঙ হাওয়ায়।আচ্ছা পৃথিবীটা এত মায়াময় কেনো? উফ-বিষন্নতা,নিরবতা, উদাস তবুও এত ভাললাগা ছড়িয়ে আছে আনাচে কানাচে। চোখ রাখলেই মুগ্ধতায় খুন হই। বিষন্ন মন আনমনে মুগ্ধতায় পরিপূণ।

ভাল লাগে আমার সব ভাল লাগে। ভালবাসি হুম বিষন্নতাকেও ভালবাসি-নিরবতা-সুরাসুর-উচ্ছ্বাস-উল্লাস- কাকেদের কাকা সুরও ভালবাসি...একটু পরেই ভেসে আসবে আযানের মিষ্টি মধুর ধ্বনি, সেই ধ্বনি মনে অনুরণনের বেজে উঠে স্রষ্টার রূপের মহিমায় মন নত হয় মুহুর্তেই।বেলা পড়ে এলো-এই-রে-এখনো দুপুরের খাওয়া সারা হয়নি। খেতে হবে আমায়-তৃপ্তি করে মুগ্ধতায় খাবো স্রষ্টার দেয়া রিযিকদানা-ছুটির দিনের দুপুর-আহ্ বিছানায় গা এলিয়ে বালিশের স্তুপে মগজ ঢুকিয়ে দিলেই ঘুম’রা আসবে স্বপ্নরূপে। আমি আবারো মুগ্ধ হবো-আবারো আযানের ধ্বনিতে জেগে উঠবো ওযুমে মগ্ন হয়ে স্রষ্টার প্রাথনায় রত হবো-বিকেল আমায় দিবে আবারো একরাশ ছায়ামাখা মিষ্টি মুগ্ধতা।

হুম, ভালবাসতে জানতে হয়-বুঝতে হয় অন্তর দিয়ে-মন দিয়ে অনুধাবন করতে হয় স্রষ্টার দেয়া এই ছোট জীবন। ভালবাসার সুর শুনতে হয় গভীর মগ্নতায়। ভালবাসতে হয় হুম সৃষ্টির সবকিছুকেই ভালবাসতে হয়।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১২:১৬
২২টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গণজাগরণের ১৩ পেরিয়ে আজও অনিশ্চিত বাংলাদেশ ‼️ প্রজন্মের ভুল পথে চলা .....!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৪৫


গণজাগরণ মঞ্চের শুরুটা খুবই অকল্পনীয় ছিল/ ব্লগারদের অতি ক্ষুদ্র একটি অংশ হঠাৎ করেই ডাক দিয়েছিলো। মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের বিচার সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সংকটের কারণেই ছিলো এই জাগরণ।আমারও সৌভাগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামাত কি আদতেই বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার রাখে?

লিখেছেন এমএলজি, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

স্পষ্টতঃই, আসন্ন নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি এবং জামাত। দুই পক্ষের কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে যেমন সক্রিয়, একইভাবে ফেইসবুকেও সরব।

বিএনপি'র কিছু কর্মী বলছে, জামাত যেহেতু ১৯৭১-এ স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শতরুপা

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২

তুমি কি কোন স্বপ্ন রাজ্যের পরী?
কিভাবে উড়ো নির্মল বাতাসে?
ঢেড়স ফুলের মতো আখি মেলো-
কন্ঠে মিষ্টি ঝড়াও অহরহ,
কি অপরুপ মেঘকালো চুল!
কেন ছুঁয়ে যাও শ্রীহীন আমাকে?
ভেবে যাই, ভেবে যাই, ভেবে যাই।
তুমি কি কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূমি-দেবতা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৪৩


জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্বে ভাইয়ে ভাইয়ে
মারামারি-কাটাকাটি-খুনোখুনি হয়;
শুধু কি তাই? নিজের বোনকে ঠকিয়ে
পৈতৃক সম্পত্তি নিজ নামে করে লয়।
অন্যদের জমির আইল কেটে নিয়ে
নিজেরটুকু প্রশস্ত সময় সময়;
অন্যদের বাড়ি কব্জা- তাদের হটিয়ে
সেখানে বানায় নিজেদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×