somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশের ছবি-৮

০৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
(আগের পোস্ট প্রথম পেইজ থেকে নাই হওয়াতে পুরাতন ডিলেট করে নতুন করে দিলাম আবার, সরি ফর দেট)



১। একলা থাকি একলা ভাসি-একলা আমার জলের পুকুর
এসো সাথী পায়ে পরে-ঝলমলানি জলের নুপুর।
একলা মনের একলা আমি-খুঁজি তোমায় নিরিবিলি
তোমার জন্য তুলে রাখছি-স্বপ্ন রঙিন ঝিলিমিলি।

আবারো হাজির হাবিজাবি কিছু দেশের ছবি নিয়ে। আজ বকবকানি কম...... আমার জ্বর-গলা ব্যথা তাই কথা কম হাহাহাাহাহাহা তাই বলে হাসি সেটা থামানো যাবে না । ক্যামেরা ক্যানন ৬০০ ডি।

২।কত সজীব লাগছে-এই তুমি ছুঁয়ে দেখো-এখানে কোনো ফরমালিন জীবন নেই। আছে শুধু শুদ্ধতা-এখানে গাছের ছায়ায় সুখ খুঁজে চড়ুই-আর ডালে ডালে কুহু কুজন-পিউ কাহা গান গেয়ে চলে পাখি'রা। ঘরের চালে লতানো পুঁইয়ের পাতায় পাতায় ভিটামিন করে খেলা-আর স্বাদ যেনো কাছে ডাকে পু্ঁইয়ের পাতা নুয়ে নুয়ে....... এই শহরে পুঁইয়ে ফুলকলিও চলে আসে ফরমালিন জামা পড়ে আর আমরা সব ভুলে খেয়ে নেই ডায়াবেটিস সহ নানা রোগের পুঁই ট্যাবলেট।



৩। যখনই যান্ত্রিক জীবনে হাঁপিয়ে উঠি তখন-এমন মায়াময় দৃশ্যে চোখ রাখি। ক্লান্টি কেটে যাওয়া প্রহর হয় সুখে। ভেবে রাখি-হয়তো কোন এক ফাঁকে চলে যাবো এমন সবুজাভ মাঠপ্রান্তরে। কিন্তু যন্ত্র জীবন ছেড়ে আর যাওয়া হয়ে উঠে না্ বড্ড কষ্টকর জীবন এখানের। কালো ধোঁয়া মুড়ানো প্রহরগুলো আঁকড়ে ধরে রাখে আমায় এখানে। ব্যস্ততার আর ফাঁক বের হয় না। কখনো অাফিস কখনো স্কুল কখনো অসুস্থতা এই করে কেটে যায় বছর শহুরে জীবনে। কাদামাখা প্রহরে খুব ছুটে যেতে ইচ্ছে হয়। সময় ফুলিয়ে সু সময় আসলে চলে যাবো একাই সব ছেড়ে ।



৪। তুমিই বুঝলে না প্রেম কি! আহা! কোথায় নেই প্রেম বলতো- শাখায় শাখায় পাখির প্রেম-দেখো না তাকিয়ে-ঐ যে ঠোঁট ছুয়ে আদর দিচ্ছে কোকিল কোকিলা-কে-এটাকে কি তুমি প্রেম বলো না! পাতায় পাতায় প্রেম উপছে পড়ছে- ফুলে ফুলে মেৌমাছির প্রেম- ফুলের মঞ্জুরি চুয়ে পড়ে প্রেম। এই দেখো -দেখো না নীল বসনে সেজে মাছিরা প্রেমে মত্ত-নীল শাড়ি পরে দুলছে প্রেম পাতায়। কতটা কাছে আসলে প্রেম হয় সে তুমি ওদের কাছ থেকে শিখে নাও প্লিজ। তুমি আমাকে প্রেম রাণী বলতেই পারো নির্দ্বিধায়....... আমি প্রেম খুঁজি প্রেম তুলে আনি শাটারের ক্লিকে-একদিন তোমার আমার প্রেম বন্দি হবে মনের ফ্রেমে-সে শাটার ক্লিকে নয়-তুমি শুধু ছুঁয়ে দিয়ো অধর।



৫। ধানের ক্ষেতের আইলেও যেনো মায়া ছড়িয়ে আছে-এখানে ধান কাটার পরও লেগে থাকে স্নিগ্ধতা। ধানের মৌ মৌ গন্ধ-আহা নাক টেনে নি:শ্বাস নিলে বুকের ভিতরটা প্রশান্তিতে ভরে যায়। ভালবাসার অপর নাম আমার দেশ-আমার মায়া ভরা গ্রামগুলো। সীমাহীন সবুজ দিগন্ত জুড়ে শুধু এলোমেলো বাতাসে দোলা দেয়া স্বপ্নগুলো হুমরি খেয়ে পড়ে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি-আমাদের গ্রামগুলোার ধানক্ষেত মাঠগুলো এখন ইটভাটার দখলে। যেখানে সবুজে ছেয়ে যেতো আকাশের নীল ছুয়ে গেছে যে প্রান্তর সেখান পর্যন্ত। কিন্তু এখন এখানে সবুজের বদলে রক্ত রঙ জায়গা করে নিয়েছে। দিনভর কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন খোলা আকাশ আর ইট বহনকারী যন্ত্র দানবগুলো সাঁই সাঁই করে ছুটে চলা প্রহর-ব্যস্ত দিনমজুর শুধু কাঁধে নিয়ে রক্ত রঙ ইট-তাদের কাঁদে এখন ধানের মুঠা শুভা পায় না। কতটা দু:খজনক সে আমি বুঝি



৬। এমন শান্তির ছায়া চোখে এসে মুগ্ধতা ছড়িয়ে দেয় । সে আর কোথায় পাবো-আমার দেশেই তো। এখানেই এসে হারিয়ে যাই। ভাবি আর কোথাও যাওয়ার কি প্রয়োজন। এখানে আনাচে কানাচে স্বপ্নরা হাতছানি দিয়ে ডাকে। সবুজ ধানের ক্ষেত মনে দিয়ে যায় দোলা। কত পরিশ্রমে ওরা আমাদের স্বপ্ন বুনে যায় কি শীত কি গ্রীষ্ম কোন বাঁধাই স্বপ্ন বুননে বাঁধা হতে পারে না। ওদের দেখলেই শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়। ভালবাসি আমার দেশ আমার দেশের কৃষকদের।



৭। কত স্বাধীনতার খেলা চলে জলের উপর- হইচই চই চই হাঁসেরা হাবুডুবু খেলায় মত্ত-দুপুরে রোদ্দুরে। পাড়ে বসে স্বাধীনতার খেলা দেখতে কার না ভাল লাগে। আমিও যেনো দেই ইচ্ছে সাঁতার ওদের সাথে। নির্মল আনন্দে আত্মহারা হাঁসের খেলে নিত্য জলকেলী। বড্ড আনমান সময় কেটে যায় কিছুটা ক্ষণ। গায়ের ভেজা মাটির সোঁদা ঘ্রাণ-নতুন ধানের খড়ের মৌ ঘ্রাণ এখনো নাকে লেগে আছে। এই তো আমাদের সবুজ মায়াময়ী ছায়াময়ী গাও-বড্ড ভালবাসি



৮। একবার দৃষ্টি পেতে দেখো-এখানে কি নেই, নদী বা খাল যাই বলো-চেয়ে দেখো নৌকা ভাসছে স্বচ্ছ জলে- মিষ্টি হাওয়ার তোড়ে ভাসছে নৌকা ছলাৎ ছলাৎ। মাঝি আপন মনে গাইছে ঢেউয়ের গান-কান পেতে শুনো দিনি এবার। নীল মিশে গেছে সবুজে। দেখো, দিগন্ত জুড়ে মাঠে বিছানো সবুজ চাদর। এই, চলো না আসন পেতে বসি সেই সবুজাভ চাদরে-সোনার বাংলার প্রশংসায় হই মত্ত। একবার তাকিয়ে মুগ্ধ হও তুমি। তোমায় ভালবেসে জীবন পার করে দিবো প্রমিজ। এইতো আমার বাংলা-সর্বত্র বিছিয়ে রেখেছে মায়ার জাল । এ জাল ছিন্ন শুধু মৃত্যুই করতে পারে। জন্মেছি এই দেশে মরবোও এই দেশে আল্লাহ যদি চান। ভালবাসি বাংলাদেশ



৯। মৌনতার সূতায় বুনে রেখেছিলাম তোমার জন্য প্রেমমালা-তুমি আসোনি সূতো বিরহের আগুনে গলে পড়ে যায় কুয়াশা হয়ে। শীত কেটে যায় বসন্তের আগমনে-যায় যায় বসন্ত-চৈত্র খরা নিয়ে হাজির এখনো তুমি মুখ ফিরিয়ে আশ্চর্য্য!!



১০। সবুজের বুকে হলুদ ফুটে থাকে মুগ্ধতায় । কোন এক কুয়াশা ভোরে শিশির লেপ্টে থাকে পাতায় পাতায়। ছুঁয়ে দিলেই স্নিগ্ধতায় মন ভরে উঠে। হালকা সুভাস নাকে এসে ধাক্কা দিয়ে জাগিয়ে দেয় ফের মুগ্ধতা। চোখ জুড়ানো সবুজ হলুদ প্রহরগুলো অন্য ঋতু এসে ভাগিয়ে দেয়। ফের নতুন কিছু সুন্দরের হয় সূচনা। আমার দেশতো এমনি মায়াময় গ্রাম- মেঠোপথ, ছায়াঘেরা গাছের সারি। তোমার মন যখন বিষন্নতার দুয়ারে মাথা ঠেকবে তুমি কিছুটা সময় কাটিয়ে এসো এমন সবুজাভ গ্রামে। দেখবে তুমি হারাবেই প্রকৃতি প্রেমে। মানুষ কি দিবে তোমায় বল-প্রকৃতি যা দেয় তাতে তুমি মুগ্ধ হও। শোকরিয়া জানাও প্রভুর যে তোমাকে সুন্দর দুটো চোখ দিয়েছেন দেখার আর মন দিয়েছেন অনুভব করার।

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:০৮
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×