somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফাউন্টেন পেন আর কালির দোয়াত... (জীবন গদ্য)

২৩ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ফাউন্টেন পেন আর দোয়াতের কালিতে আমরা কত সুখি ছিলাম। কত উচ্ছ্বল শিক্ষাজীবন,হই হুল্লোড় আর সুখ আনন্দে ভরা ছিল জীবন। নীল সাদা স্কুল ড্রেস,কালির ছিটার কালো নীল রঙ ছাপ,আহা আমাদের সেই স্কুল জীবন।

দোয়াত উল্টে কালি ধুলায় গড়ানো প্রহরগুলো সত্যিই বড় মধুময় ছিল। দিস্তা কাগজের সেলাই খাতা-তার উপর পলিথিনে মুড়িয়ে হতো আমাদের নিত্য লেখার খাতা। কত আল্পনায় সাজানো খাতার বুক, তাকালেই হেসে দিতো আলতো। বুকে জড়িয়ে বইখাতা স্কুল ব্যাগবিহীন আমরা ছুটে চলতাম ধানক্ষেতের আলের পথ মাড়িয়ে।

বর্ষা যখন ঝমঝম করে ঝরতো আমরা দল বেঁধে দৌঁড়াতাম। কার বাড়ির চালের নিচে মাথা গুঁজি, কার ঘরের কোণায় বুকে বই নিয়ে দাঁড়াই সে হিসেব কখনো করিনি। মানকচুর ছাতা মাথায় আহা আমাদের সেই স্কুল জীবন। কি শরত কি চৈত্র রোদ্দুর মাথায় নিয়ে আমরা আনন্দের ঢেউয়ে ভাসতে ভাসতে চলে যেতাম স্কুল প্রাঙ্গনে। হেমন্ত শীতের কুয়াশায় আচ্ছন্ন সকাল, ভেজা সালোয়ার, ধানক্ষেতের দোল দোলানো শীষে ভেজা ওড়নার প্রহরগুলো বড্ড মধুময় ছিলো। না তোমাদের মত এত সুযোগ সুবিধা আমদের ছিলো না।

তোমাদের মত এত অঢেল খাতা পেন্সিল বলপেন ছিল না। তোমাদের মত আমরা বেহিসেবীও ছিলাম না। আমরা নতুন বই হাতে খুব কমই পেয়েছি। পুরাতন বইয়ের ঘ্রাণেই পার করে দিতাম এক একটি ক্লাস। আর তোমরা কত রঙবেরঙের রঙধনু রঙ কলম হাতে। কত রঙবাহারী খাতা। কত মনোহারী পেন্সিল। শত রঙের রঙপেন্সিল হাতে নিয়ে সময় অবহেলায় থাকো মেতে। তোমাদের হাতে হাতে মোবাইল। তোমরা একমিনিট বইয়ে চোখ রাখো পাঁচ মিনিট চোখ রাখো মোবাইলে। তোমরা বড্ড ঔদ্ধত্যপূর্ণ ব্যবহারে বড় হচ্ছো।



তোমরা মানো না শাসন, মানো না বারণ। শাসনে বলো আমার চেয়ে কি বেশী বুঝো তুমি। আহা কত বেতের বাড়ি পিঠে কত বকুনির ফুলজুড়ি মনে নিয়ে আমরা পার করে দিয়েছি জীবন উচ্ছ্বাসে উল্লাসে। আমাদের কত গল্প আছে। কত গান গল্প কবিতা নাটক আছে। আর তোমাদের কোন গল্প নেই । তোমরা তোমাদের প্রজন্মের কাছে কি গল্প বলবে শুনি। তোমরা বড় হচ্ছো স্ব-অধিনতায়। নিজেদের খেয়াল খুশির জীবন সে আনন্দের হতে পারে তবে বড্ড বেপরোয়া । তোমরা ফেঁসে যাবে দেখে নিয়ো সময়ের হাতে ফেঁসে যাবে। তখন বুঝবে শাসন বারণের কি গুন। তোমরা চোখে বেঁধে রাখো মনোলোভা কলম রঙ। আর মনে এঁকে রাখো শত রঙ রঙপেন্সিল রঙ-তোমরা রঙ দেখো দুনিয়া দেখো না।



তোমরা প্রকৃতির কাছে যাও না। তোমরা মুঠোফোনে ঘুরে বেড়াও ভার্চূয়ালী পুরো দুনিয়া। তোমাদের সাথে আমাদের কোন মিল নেই। আমরা জীবন অনুধাবন করি, জীবন বুঝি আর তোমরা জীবনকে হেলাফেলা ভেবে নিজেকে ছুঁড়ে ফেলো বিষন্নতার ডাস্টবিনে। তোমরা হলে আবেগ হারা। আমরা ছিলায় মায়া মমতা একতায় অথৈ আবেগী। এক সমুদ্দুর আবেগ পুষে রাখতাম বুকে। তোমাদের আবেগ নেই। বন্ধুকে করতে পারো নিমেষেই রক্তাক্ত স্বার্থের আঘাতে।

সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ২:৫০
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরম শ্রদ্ধায় ও স্মরণে ড. সলিম আলি !

লিখেছেন নেক্সাস, ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১৪

ছোটবেলা থেকে আমি পাখি প্রেমিক। তখন অবুঝ মনের এই পাখি প্রেম ছিল অনেকটাই পাখির প্রতি অমানবিক এবং ক্ষতিকর। কারণ তখন আমরা গ্রামের দস্যি ছেলেরা মিলে পাখির বাসা খুঁজতাম, পাখির বাচ্চা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মাদ্রাসা জীবন-০৪

লিখেছেন হাবিব স্যার, ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩৬



আমার মাদ্রাসা জীবন-০৩

ষষ্ঠ থেকে সপ্তম শ্রেণিতে উঠলাম। ক্লাসের মধ্যে প্রথম হওয়া কেউ ঠেকাতে পারলো না। শুধু নিজের ক্লাশ নয়, পুরো প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত মেধা তালিকাতেও প্রথম হওয়ার সুবাদে সবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার চাদগাজী ,আপনি ভাল আছেন নিশ্চই ?

লিখেছেন নতুন বাঙ্গাল, ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৮



আমি চাদগাজী সাহেবকে চিনি বিগত ৭ বছরের বেশি সময় ধরে। পরিচয়টা 'আমার ব্লগে' যেখানে উনি 'ফারমার' নিকে লিখতেন। আমি উনার লিখা নিয়মিত পরতাম কারন উনার চিন্তাধারায় একটা ভিন্নতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পিয়াজ কথন

লিখেছেন জুন, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:১৫

.

একটু আগে কর্তা মশাই বাজার থেকে ফোন করলো "শোনো পিয়াজের কেজি দুইশ টাকা, দেশী পিয়াজ আধা কেজি আনবো কি"?
'না না না কোন দরকার নাই বাসায় এখনো বড় বড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝলমলে সোভিয়েত শৈশব: বিপদ তারণ পাঁচন

লিখেছেন স্বপ্নবাজ সৌরভ, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:০৪



শুভ অপরাহ্ন। এই দুপুরে ঘুমঘুম চোখে খুব সহজেই কিন্তু শৈশবে ফিরে যাওয়া যায়। আমার দিব্যি মনে আছে দুপুরের খাওয়ার পর রাশিয়ান বই পড়তে পড়তেই ঘুমিয়ে যেতাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×