somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

» আলোকচিত্র » আমাদের গ্রাম (প্রকৃতি)

১৬ ই জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৫:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
০১। সবুজ ধানের গায়ে একটা লাল লেডিবাগ



©কাজী ফাতেমা ছবি
=আমাদের গ্রাম=
যখনই আমার প্রিয় গাঁয়ে পা রাখি, মিহি ঘ্রাণ নাক ছুঁয়ে যায়। অন্তরে সুখের ঢেউ। যেখানে নাড়ী গাঁড়া, যেখানে কেটেছে শৈশব কৈশোর তারণ্য। কী নিষ্ঠুর নিজেকেই ভাবি। তাবৎ দুনিয়ার ব্যস্ততা কাঁধে নিতে যেই পা বাড়িয়েছিলাম যন্ত্র শহরের পথে, সেদিন মনেও হয়নি এখানে বারবার ফিরে আসা যাবে না আর । বছরের কোনো একদিন পা রেখে দিন ছয় সাতেক থেকে চলে আসতে হবে।

ইচ্ছেগুলো ধুলোয় গড়াগড়ি খায়, দীর্ঘশ্বাস মন চুয়ে পড়ে ইট পাথর এই শহরের ইট সুরকির পথে। অথচ কী নিরব নিবিঢ় মিহি হাওয়া সেখানে বইছে নিরবধি, সেখানে সহসাই ইচ্ছে হলেই যায় না বাড়ানো পা। সময়ের অপেক্ষায় কেটে যায় বছর। কোন সুখ নেই আমার গাঁয়ে। উফ ঘাসের উপর পা ফেলে যখন হাঁটি, মনে সুখ শিহরণ দোলা দিয়ে যায়। হাতে ক্যামেরা নিয়ে ছুটি আমার চেনা পথগুলোতে, ঠোঁটে তখন সুস্থতার মৃদু হাসি।

কখনো টলমলে জল পুকুর পাড়ে বসি, হাওয়া গিলি, তাকিয়ে রাস্তার উপর মানুষের চলাচল দেখি। কখনো পা ডুবিয়ে বসি স্বচ্ছ জলের পুকুর ঘাটে। কখনো ক্ষেতের আলে ঘুরে বেড়াই হাতে ক্যামেরা অথবা মুঠোফোন, ক্লিকে ক্লিকে তুলে আনি মুগ্ধতা সব। কখনো লেজঝোলা ফিঙ্গের কাছে গিয়ে বলি ও পাখি লেজঝোলা তোর ডানায় করে আমার দুঃখগুলো নিয়ে যাবি? কখনো ফড়িঙয়ের পিছু ছুটি ছবি করে রাখবো বলে স্মৃতির দেয়ালে।

আমার গাঁয়ের মাটিতে পা রাখলেই আমি উড়ন্ত দুনিয়া ভুলে যাই। ভুলে যাই সেখানেও অজানা অচেনা কত বন্ধু ছিল। কত টেক্সট কত কমেন্ট লাইক আহা! সে মোহ'র গন্ডি পেরিয়ে আমি প্রকৃতির বুকে সঁপে দেই নিজেকে। আমি আর কবিতা লিখি না। খুঁজি না ছন্দ। শব্দের কাছে নিজেকে বন্ধক রাখি না আর। কী যে মনোলোভা সময় আমার, বলে সে যাবে না বুঝানো।

কখনো শুকনো উঠোনে দাঁড়াই, প্রিয় রঙ্গন গাছে প্রজাপতির মধু খাওয়ার দৃশ্যতে চোখ রাখি, দেখি আমার রুপন করা সেই জবা গাছটা আজও আছে দাঁড়িয়ে, দিব্যি পাপড়ির ডানা মেলে ফুটে থাকে অসংখ্য জবা ফুল । আমাকে দেখে কী সুন্দর হাসি হাসে সূর্যের আলোতে। উঠোনের এক কোণে আধার কুটে খাচ্ছে মুরগির ছাও, মায়ের ডানার নিচে কখনো বসে থাকে ওরা আর মা পরম মমতায় ডানায় ঢেকে গলায় তুলে কক কক কক সুর।

হাঁস'রা ক্ষেতের ধানগুলো ঠোঁটে তুলে নিয়ে প্যাক প্যাক করে এগিয়ে যায়, আমি তখনো তাদের পিছু হাঁটি, পায়ের তলায় ভেজা মাটি, দূর থেকে হাওয়ায় উড়ে আসে ধানের ঘ্রাণ। অচেনা ফুলের ঘ্রাণ কখনো নাকে এসে জানান দেয়, আর বলে এই যে শুনো দেখো জীবন সুন্দর, বেঁচে থাকা কী যে সুন্দর। নিঃশ্বাসে তখন টানি শুদ্ধ হাওয়া জোরে। আহা আমার গাঁও আমার মাটি আমার ভালোবাসারা এখানে সর্বত্র ছড়িয়ে আছে।

শহরের ঘরে বসে থাকি আর ভাবি কবে ছুঁবো ঘাস লতা পাতা, কবে ভাঁটফুলের ঘ্রাণে হবো মাতাল। কবে গোবর কুঁড়ানীর সাথে করবো খানিকক্ষণ সুখ দুঃখের আলাপন। এই যে স্মৃতির দুয়ারে দিল হানা, এই যে আমার মেঠোপথ,পথের ধারে ভাঁটফুল। এই যে আমার কচুরীপানায় ঢাকা ডুবা, তার জলে কী সুন্দর সাঁতার কেটে যাচ্ছে হাঁসরা।

গাঁয়ের মাটিতে পা রাখলেই আমি ফিরে পাই আমার শৈশব কৈশোর আর তারুণ্য, আমি ডানপিঠে তখনো ছিলাম, এখনো দৌঁড় দেই এক উঠোন হতে অন্য উঠোনে। হেঁটে বেড়াই গাঁয়ের পথে ঘাটে, দেখি নিবিড়........ ধান গাছের পিঠে ছোট লাল লেডিবাগ উফ, লাল পরীটা আমার ক্যামেরার শাটারে স্মৃতি হয়ে যায়। আর উপরে উঁকি দিয়ে দেখি বাতাবীলেবুর ডালে পিঁপড়েরা বসিয়েছে মেলা। চারিদিকে কত যে মুগ্ধতার ছড়াছড়ি, চারিদিকে কত যে সুন্দর হাওয়া, মন প্রাণ জুড়ে কেবল শীতল অনুভূতি। যে অনুভূতিতে বাসা বাঁধা গাঁয়ের প্রতি অসীম ভালোবাসা।

কখনো হট্টগোলে রাখি চোখ, কী করে মানুষগুলো আলপথ কেটে কেটে নিজের করে নেয়। কী করে ক্ষেত কেটে কেটে নিজের জমি নেয় বাড়িয়ে। একেতো চুরি, তার উপর চিনাজুড়ি দিয়ে ডাকে বৈঠক, বিচার শালিশ শেষে তালগাছ আমার পন্থায় ছিনিয়ে নিতে চায় অন্যের জমি। কী ভয়ঙ্কর স্বার্থপরতা মানুষের বুকে নিয়েছি ঠাঁই। অথচ তার জন্য বরাদ্দ মাত্র সাড়ে তিন হাত জমি। সে জমিতে সে একাকি থাকবে শুয়ে। খাবে তাকে পোকা মাকড়।

মানুষের মন মাকড়শার জালের মত যেন। প্যাঁচালো, অন্যের সম্পদে প্যাঁচ লাগিয়ে দিয়ে সেজে থাকে সাধু। এরা কখনো শিক্ষিত কখনো অশিক্ষিত ...... দু ধরণের মানুষের মনেই কেবল অন্যের জমির প্রতি লোভ থাকে ঝুলে। ভালো আর মন্দ মানুষের ভিড়ে আমি হেঁটে বেড়াই। হাসি আবার কিছু সত্য কথা বলে চলে আসি। কখনো ঘৃনায় নেই মুখ ফিরিয়ে। তর্কাতর্কির বুকে রাখি না ঠোঁট। কারণ আমি মানুষ ভালোবাসি, মানুষের জন্য পুষতে চাই না বুকে এক সমুদ্দুর ঘৃনা।

০২। গ্রামের মানুষ এই ছবিটির মত স্বার্থপর হয়। এই যে গরু রাখতে গিয়ে বাচুর ধান খাচ্ছে সেটার খেয়াল নেই। এমন করে কিনারের সব ধান গরু খেয়ে ফেলে।



০৩। ভাঁটফুলের ফল, কী সুন্দর রক্তিম আভা



০৪। টোপা পানা আর হাঁস



০৫। গলা ছিলা মুরগি আর তার বাচ্চারা



০৬। পুকুর পাড়ে ভাঁটফুল ফুটে আছে



০৭। মাকড়শার বাড়ী, কী নিঁখুত বুনন



০৮। লেজঝোলা ফিঙে



০৯। মুরগির ছাও।



১০।বাতাবী লেবুর ডালে লাল পিঁপড়ে।



১১। গ্রামের রাস্তা কাটা নিয়ে হট্টগোল বিচার শালিশ



১২। স্বচ্ছ জলের পুকুর ঘাট



১৩। আমাদের বাঁশঝাড়, এর ছায়াতলে দাঁ ড়িয়ে কত গল্প গুজব হয়ে যায়।



১৪। মধু ফুল



১৫। শুকনো পাতার সাথে ম্যাচিং হয়ে যায় এই মুরগির বাচ্চাগুলো



১৬। রাজা হাঁস



১৭। গাঁয়ের শিক কাবাব, গোমুট বলি আমরা



১৮। দুষ্টু বাচ্চারা



সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৫:২৯
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনি ধার্মিক না মানুষ?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮



ধার্মিক হওয়া কোনো কাজের কথা নয়।
ধার্মিক হওয়া সহজ। বিজ্ঞানী হওয়া সহজ কথা নয়। পিএইচডি করা সহজ কথা নয়। সেই তুলনায় কোরআন মূখস্ত করা সহজ। জন্মগত ভাবে আমি বাপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ISD মোবাইল, TNT ফোন।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:২৮

২০০১ সালে কম মানুষের হাতেই মোবাইল ছিলো। মোবাইল ছিলো বড়লোকী পরিচয়। সে সময় সকল মোবাইল থেকে ইন্টারনেশন্যাল ফোন ও টেলিফোন থেকে কল আসার সুবিধা ছিলো না। মুষ্টিমেয় সিমের বিদেশ থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মানুষ' হওয়া খুব সোজা, 'মুসলমান' হওয়া কঠিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩৪



একটু আগেই ভাবছিলাম, মানুষ হওয়াটা খুব সহজ। বাবা-মা জিংজিং করে আমাদের পৃথিবীতে এনেছেন, এতে আমাদের কৃতিত্ব কোথায়! কোন কৃতিত্ব নেই। আমরা অটো ভাবেই 'মানুষ' হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছি। দুইজন মানব-মানবীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত আলী (রা.) ও হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) যুদ্ধের দায় হযরত আলীর (রা.) হলে আমরা হযরত মুয়াবিয়াকে (রা.) কেন দোষ দেব?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৪৪



সূরাঃ ৯ তাওবা, ৬০ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬০। সদকা বা যাকাত ফকির, মিসকিন, এর কর্মচারী, মোয়াল্লাফাতে কুলুব (অন্তর আকৃষ্ট),দাসমুক্তি, ঋণ পরিশোধ, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরের জন্য। এটা আল্লাহর বিধান।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমাকে ভালোবাসি I love you

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৩:০২

তোমাকে ভালোবাসি বাতাসের মতো,
যেমন শিশুর কাছে বালি একটা খেলনা,
অথবা ঝড়ের মতো, যাকে কেউ বোঝে না।

I love you like the wind,
Playing like a child in the sands,
Or a storm that no... ...বাকিটুকু পড়ুন

×