somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

=হাঁটি, আমি হাঁটি রোজ সকালে-মনের আনন্দে=

১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রোজ সকালে খুব হাঁটার অভ্যাস আমার, সকালটা আমার জন্য আল্লাহর দেয়া অনন্য নিয়ামত। হাঁটা এমন অভ্যাস হয়েছে যে, না হাঁটলে মনে হয় -কী যেন করি নাই, কী যেন হলো না, মন খারাপ থাকে সারাদিন। আমি সারা বছর হাঁটি, বৃষ্টি হলে বাসার লিফটের সামনে হাঁটতাম। ফযরের নামাজ পড়েই আমি ব্যাংক কলোনীতে হাঁটতে যেতাম। হাঁটতে হাঁটতে কত মানুষের সাথে হৃদ্যতা গড়ে উঠেছিল। কত কত ছবি তুলেছি, কত কত ভিডিও করেছি।

আমাদের ব্যাংক কলোনীতে নানা গাছের সমাহার, ফল ফলাদি, ভেষজ গাছ, বিভিন্ন বাদাম, কাঠ বাদাম, পেস্তা বাদাম, বকুল ফুল, শিউলি ফুল সবই আছে, আগে দলবেঁধে হাঁটতে পছন্দ করতাম। হাঁটার কত সাথী হারিয়েছি ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত। পরে একা হাঁটতেই ভালো লাগতো। কারণ ফুল কুড়াতাম, ছবি/ভিডিও করতাম, পাখিদের দেখতাম, পাখির ভিডিও করতাম। হাঁটার সময় এসব অনেকেই পছন্দ করতো না। কত স্মৃতি ব্যাংক কলোনীতে হাঁটার বেলায়। কত অপরিচিত মানুষ হয়ে উঠেছিল আপনজন।

গত দুই তিন মাস আগে সকালে হাঁটতে গিয়ে এক আপার সাথে পরিচয় হলো। তিনিও আমার মত ফুল পাতা-গাছগাছালি খুব পছন্দ, ছবি তুলতেও আপা ভালোবাসেন। তিনি বললেন আপা আমি শুক্র শনিবারে ব্যাংক কলোনিতে আসি। আপনার ফোন নাম্বারটা দেন, আমি যোগাযোগ করবো ইংশাআল্লাহ। হাহাহা আমি কী করছি জানেন, আমার নাম্বার না দিয়া ভুলে তাসীনের বাপের নাম্বারটা দিয়ালছি-হইলো কিছু! আপা আমার নামে সেইভ করছে। কিন্তু ঘটনা ঘটে গেছে অন্য কিছু। আপার জামাই নাকি নতুন নাম্বারটা দেখে ফোন করছে আর ধরছে তাসীনের বাপে, আমার নামে হাবিজাবি বলতেছে, ব্যাংকে জব করি কিন্তু তাসীনের বাপে তো জানে না কে সে। উনি নাম্বার কেটে দেয় বারবার, শেষে দেবরের কাছে ফোন দিলে দেবর তার জামাইরে শাশাইছে, শেষে উনাদের ছাড়াছাড়ি অবস্থা। দেবররে বলছে আমার বউয়ের আপনার সাথে কী সম্পর্ক, মেয়ের নামে সেভ করে রাখছে নাম্বার। আমি বাসায় আসার পর দেবর আর তাসীনের বাপের কথা শুনে বললাম তাসীনের আব্বু আমি তো একজন আপাকে নাম্বার দিছিলাম। সে নাম্বার কী ভুলে আপনার নাম্বার দিছি নাকি। তখন গিয়ে বুঝতে পারলো এবং বললো যে তোমার নাম্বার থেকে অই ভাইয়ের নাম্বারে ফোন দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে নিতে । কী আর করার, ফোন দিলাম আর ভাইকে বললাম ভাইয়া আমি আসলে জামাইর নাম্বারটা ভুলে দিয়ে দিছি, আপার সাথে আমি হাঁটি সকালে। পরে সে দেবরের কাছে ফোন দিয়ে সরি বলেছে আর বলেছে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে সরি। কী কান্ড এক নাম্বার নিয়ে হাহাহা।

সব হাঁটার সাথীদের রেখে চলে গেছি নতুন জায়গায়। সে জায়গাটাও বেশী সুন্দর, হাঁটার বেশী উপযোগী। গ্রামীণ পরিবেশ। এত এত পাখি, এত সবজির ক্ষেত, আর গাছগাছালি - এখন আর হাঁটার সাথী খুঁজি না। একা হাঁটতেই ভালো লাগে। কাল দেখা পাইছি মাছরাংগার। তাছাড়া শিউলী ফুলও পাচ্ছি, কুড়িয়ে নিয়ে এসে চায়ের সাথে ছবিও তুলি। মন অনেক ভালো হয়ে যায়। সমস্যা একটাই এখান থেকে অফিস দূরে। সকালে রান্নাবান্না করে বেশী সময় আর হাঁটার সময় পাই না। আরও আগে ঘুম থেকে উঠতে হবে মনে হয়। অফিসের জন্য বের হই নয়টা/সোয়া নয়টা। আজ পাঁচটায় উঠছি, নামাজ পড়ে রান্না করে হাঁটতে বের হইছি। চারিদিকে শিশির ভেজা ঘাস লতা পাতা। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহর কাছে হাজার শোকরিয়া। তিনি এত সুন্দর একটা পরিবেশ আমায় উপহার দিয়েছেন। আজ পঞ্চাশ মিনিট হেঁটেছি। ছবিগুলো পিসি থেকে দিতে পারি না আর। কারণ অফিস সব সাইট বন্ধ করে দিছে। এডিট করারও অপশন নাই। মোবাইলে ছবি পোস্ট অনেক কষ্ট। অনেক সময় যদি পাই ছবি পোস্ট করবো ইংশাআল্লাহ।

সুস্থ থাকতে হলে হাঁটতে হবে। আলসেমী ত্যাগ করে রোজ সকালে হাঁটার চেষ্টা করুন। ভালো লাগবে। সুস্থতা পাবে ইংশাআল্লাহ। ফি আমানিল্লাহ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ মুজিব হল → ওসমান হাদি হল: নতুন বাংলাদেশের শুরু ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে দেশের শিক্ষাঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে ডাকসু নেতারা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাত কোটি বাঙালির হে মুগ্ধ জননী রেখেছো বাঙালি করে মানুষ করনি‼️রবিন্দ্র নাথ সঠিক ছিলেন বঙ্গবন্ধু ভুল ছিলেন। বাঙালি আজও অমানুষ!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:১৩


১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের জনগন সহ সমগ্র বিশ্বের প্রতি যে নির্দেশনা। তা এই ভাষণে প্রতিটি ছত্রে ছত্রে রচিত করেছিলেন। ৭ই মার্চের চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ ছিলো ভাষণের নির্দেশনাগুলো! কি অবলীলায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মের শুভেচ্ছা হে রিদ্ধী প্রিয়া

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:০১



জন্মের শুভেচ্ছা নিও হাজার ফুলের
শৌরভে হে রিদ্ধী প্রিয়া, তোমার সময়
কাটুক আনন্দে চির।স্মৃতির সঞ্চয়
তোমার নিখাঁদ থাক সারাটা জীবন।
শোভাতে বিমুগ্ধ আমি তোমার চুলের
যখন ওগুলো দোলে চিত্তাকর্ষ হয়
তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মা জননী

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯


তুমি আপসহীন বলে ঘুমিয়ে গেলে
শহীদ জিয়ার পাশে অশ্রুসিক্ত শুধু
বাংলার মাটিতে ধানের শীষে শীষে
তোমার নামের ধ্বনিতে গান গায়ব
আমরা শুনোবো যে দোয়েলের ঠোঁটে
তুমি চিরামলিন তোমার কর্ম আদর্শে
আমরা জাগবো লাল সবুজ পতাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

=হাঁটি, আমি হাঁটি রোজ সকালে-মনের আনন্দে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

রোজ সকালে খুব হাঁটার অভ্যাস আমার, সকালটা আমার জন্য আল্লাহর দেয়া অনন্য নিয়ামত। হাঁটা এমন অভ্যাস হয়েছে যে, না হাঁটলে মনে হয় -কী যেন করি নাই, কী যেন হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×