রোজ সকালে খুব হাঁটার অভ্যাস আমার, সকালটা আমার জন্য আল্লাহর দেয়া অনন্য নিয়ামত। হাঁটা এমন অভ্যাস হয়েছে যে, না হাঁটলে মনে হয় -কী যেন করি নাই, কী যেন হলো না, মন খারাপ থাকে সারাদিন। আমি সারা বছর হাঁটি, বৃষ্টি হলে বাসার লিফটের সামনে হাঁটতাম। ফযরের নামাজ পড়েই আমি ব্যাংক কলোনীতে হাঁটতে যেতাম। হাঁটতে হাঁটতে কত মানুষের সাথে হৃদ্যতা গড়ে উঠেছিল। কত কত ছবি তুলেছি, কত কত ভিডিও করেছি।
আমাদের ব্যাংক কলোনীতে নানা গাছের সমাহার, ফল ফলাদি, ভেষজ গাছ, বিভিন্ন বাদাম, কাঠ বাদাম, পেস্তা বাদাম, বকুল ফুল, শিউলি ফুল সবই আছে, আগে দলবেঁধে হাঁটতে পছন্দ করতাম। হাঁটার কত সাথী হারিয়েছি ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত। পরে একা হাঁটতেই ভালো লাগতো। কারণ ফুল কুড়াতাম, ছবি/ভিডিও করতাম, পাখিদের দেখতাম, পাখির ভিডিও করতাম। হাঁটার সময় এসব অনেকেই পছন্দ করতো না। কত স্মৃতি ব্যাংক কলোনীতে হাঁটার বেলায়। কত অপরিচিত মানুষ হয়ে উঠেছিল আপনজন।
গত দুই তিন মাস আগে সকালে হাঁটতে গিয়ে এক আপার সাথে পরিচয় হলো। তিনিও আমার মত ফুল পাতা-গাছগাছালি খুব পছন্দ, ছবি তুলতেও আপা ভালোবাসেন। তিনি বললেন আপা আমি শুক্র শনিবারে ব্যাংক কলোনিতে আসি। আপনার ফোন নাম্বারটা দেন, আমি যোগাযোগ করবো ইংশাআল্লাহ। হাহাহা আমি কী করছি জানেন, আমার নাম্বার না দিয়া ভুলে তাসীনের বাপের নাম্বারটা দিয়ালছি-হইলো কিছু! আপা আমার নামে সেইভ করছে। কিন্তু ঘটনা ঘটে গেছে অন্য কিছু। আপার জামাই নাকি নতুন নাম্বারটা দেখে ফোন করছে আর ধরছে তাসীনের বাপে, আমার নামে হাবিজাবি বলতেছে, ব্যাংকে জব করি কিন্তু তাসীনের বাপে তো জানে না কে সে। উনি নাম্বার কেটে দেয় বারবার, শেষে দেবরের কাছে ফোন দিলে দেবর তার জামাইরে শাশাইছে, শেষে উনাদের ছাড়াছাড়ি অবস্থা। দেবররে বলছে আমার বউয়ের আপনার সাথে কী সম্পর্ক, মেয়ের নামে সেভ করে রাখছে নাম্বার। আমি বাসায় আসার পর দেবর আর তাসীনের বাপের কথা শুনে বললাম তাসীনের আব্বু আমি তো একজন আপাকে নাম্বার দিছিলাম। সে নাম্বার কী ভুলে আপনার নাম্বার দিছি নাকি। তখন গিয়ে বুঝতে পারলো এবং বললো যে তোমার নাম্বার থেকে অই ভাইয়ের নাম্বারে ফোন দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে নিতে । কী আর করার, ফোন দিলাম আর ভাইকে বললাম ভাইয়া আমি আসলে জামাইর নাম্বারটা ভুলে দিয়ে দিছি, আপার সাথে আমি হাঁটি সকালে। পরে সে দেবরের কাছে ফোন দিয়ে সরি বলেছে আর বলেছে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে সরি। কী কান্ড এক নাম্বার নিয়ে হাহাহা।
সব হাঁটার সাথীদের রেখে চলে গেছি নতুন জায়গায়। সে জায়গাটাও বেশী সুন্দর, হাঁটার বেশী উপযোগী। গ্রামীণ পরিবেশ। এত এত পাখি, এত সবজির ক্ষেত, আর গাছগাছালি - এখন আর হাঁটার সাথী খুঁজি না। একা হাঁটতেই ভালো লাগে। কাল দেখা পাইছি মাছরাংগার। তাছাড়া শিউলী ফুলও পাচ্ছি, কুড়িয়ে নিয়ে এসে চায়ের সাথে ছবিও তুলি। মন অনেক ভালো হয়ে যায়। সমস্যা একটাই এখান থেকে অফিস দূরে। সকালে রান্নাবান্না করে বেশী সময় আর হাঁটার সময় পাই না। আরও আগে ঘুম থেকে উঠতে হবে মনে হয়। অফিসের জন্য বের হই নয়টা/সোয়া নয়টা। আজ পাঁচটায় উঠছি, নামাজ পড়ে রান্না করে হাঁটতে বের হইছি। চারিদিকে শিশির ভেজা ঘাস লতা পাতা। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহর কাছে হাজার শোকরিয়া। তিনি এত সুন্দর একটা পরিবেশ আমায় উপহার দিয়েছেন। আজ পঞ্চাশ মিনিট হেঁটেছি। ছবিগুলো পিসি থেকে দিতে পারি না আর। কারণ অফিস সব সাইট বন্ধ করে দিছে। এডিট করারও অপশন নাই। মোবাইলে ছবি পোস্ট অনেক কষ্ট। অনেক সময় যদি পাই ছবি পোস্ট করবো ইংশাআল্লাহ।
সুস্থ থাকতে হলে হাঁটতে হবে। আলসেমী ত্যাগ করে রোজ সকালে হাঁটার চেষ্টা করুন। ভালো লাগবে। সুস্থতা পাবে ইংশাআল্লাহ। ফি আমানিল্লাহ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



