somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রিয় একটা কবিতা ---- হঠাত দেখা -- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

১২ ই মে, ২০১০ সকাল ১০:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রেলগাড়ির কামরায় হঠাৎ দেখা,
ভাবি নি সন্তব হবে কোনোদিন৷

আগে ওকে বারবার দেখেছি
লাল রঙের শাড়িতে-
দালিম ফুলের মতো রাঙা,
আজ পরেছে কালো রেশমের কাপড়,
আঁচল তুলেছে মাথায়
দোলন-চাঁপার মতো চিকন-গৌর মুখখানি ঘিরে৷
মনে হল, কালো রঙে একটা গভীর দূরত্ব,
ঘনিয়ে নিয়েছে নিজের চার দিকে,
যে দূরত্ব, সর্ষেক্ষেতের শেষ সীমানায়
শালবনের নীলাঞ্জনে৷
থমকে গেল আমার সমস্ত মনটা,
চেনা লোককে দেখলাম অচেনার গাম্ভীর্যে৷

হঠাত্ খবরের কাগজ ফেলে দিয়ে
আমাকে করলে নমস্কার৷
সমাজবিধির পথ গেল খুলে,
আলাপ করলেন শুরু-
'কেমন আছ', কেমন চলছে সংসার'
ইত্যাদি৷
সে রইল জানলার বাইরের দিকে চেয়ে
যেন কাছের-দিনের-ছোঁয়াচ-পার-হওয়া চাহনিতে৷
দিলে অত্যন্ত ছোটো দুটো-একটা জবাব,
কোনোটা বা দিলেই না৷
বুঝিয়ে দিলে হাতের অস্থিরতায়-
কেন এ-সব কথা,
আর চেয়ে অনেক ভালো চুপ করে থাকা৷

আমি ছিলেম অন্য বেঞ্চিতে ওর সাথিদের সঙ্গে৷
এক সময় আঙুল নেড়ে জানালে কাছে আসতে৷
মন এ হল সাহস কম নয়-
বসলুম ওর এক-বেঞ্চিতে৷
গাড়ির আওয়াজের আড়ালে
বললে মৃদুস্বরে,
'কিছু মনে কোরো না,
সময় কোথা সময় নষ্ট করবার৷
আমাকে নামতে হবে পরের স্টেশনেই
দূরে যাবে তুমি,
দেখা হবে না আর কোনোদিনই৷
তাই যে প্রশ্নটার জবাব এতকাল থেমে আছে,
শুনব তোমার মুখে৷
সত্য করে বলবে তো?
আমি বললেম, 'বলব৷'
বাইরের আকাশের দিকে তাকিয়েই শুধোল,
'আমাদের গেছে যে দিন
একেবারেই কি গেছে-
কিছুই কি নেই বাকি?
একটুকু রইলেম চুপ করে,
তারপর বললেম,
'রাতের সব তারাই আছে
দিনের আলোর গভীরে৷'

খটকা লাগল, কী জানি বানিয়ে বললেন নাকি৷
ও বললে, 'থাক্, এখন অ যাও ও দিকে৷'
সবাই নেমে গেল পরের স্টেশনে৷
আমি চললেম একা৷৷
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৪৪


৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

ক্ষমতার পালাবদল হয়, কিন্তু ইতিহাসের কাঠগড়া কখনো খালি থাকে না
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নাটকীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তখন

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৬

তখন
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তখন আলিফ লায়লা হতো
দেখতাম বিটিভিতে বাংলা মুভি
মিনা কাটুন, হারকিউলিস, রবিন হুড
নাটক, ইত্যাদি, বেশ আনন্দ পেতাম।
খেলাধুলা করতাম বন্ধুদের সাথে
বিবিধ রকম, সবসময় থাকতাম প্রাণবন্ত!
যে বাড়িতে ভাড়া থাকতাম তাদের
একটি সাদা-কালো টিভি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ১০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৭



এক বিদেশি জাহাজ মধুমতি নদীতে একটু একটু করে ডুবে যাচ্ছে।
সেই ডুবে যাওয়া জাহাজ দেখার জন্য শাহেদ জামাল ছুটে চলেছেন- মধুমতি নদীতে। জাহাজ এর নাম স্টিব অস্টিন। শাহেদ জাহাজটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওকে নিয়ে চীনের আবেগ, শেখ মুজিবকে নিয়ে আমাদের বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২


ফরাসি ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তাঁকে নিয়ে কোন মিমটি দেখে সবচেয়ে বেশি হাসি পেয়েছিল। ফরাসি অনুষ্ঠান The Bridge এর ব্যাকস্টেজ ভিডিওতে তিনি বলেন, একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোটগল্প - চক্ষুহীন লোকটি

লিখেছেন ফাহমিদা বারী, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩




মি পারসনস যখন হোটেল থেকে বের হলেন, ভিক্ষুকটি তখন রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে।

সে ছিল একজন অন্ধ ভিক্ষুক। অন্ধদের চিরাচরিত সাদা ছড়ি ছিল তার হাতে। সেটা দিয়ে সামনের পথটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×