somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আলিফ লাম মীম

০১ লা জানুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৪:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অনেক ইসলামী বোদ্ধা দাবী করেন যে, শিরোনামে উল্লেখিত ৩ হরফের এই আয়াতটির অর্থ আল্লাহ্‌ ছাড়া কেউ জানে না, এমনকি নবী (সঃ)ও জানেন না বা তিনি এর অর্থ বলে যাননি। ওইসব হযরতদের উদ্দেশ্যেই এই ব্লগ;


নবী মোহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ (সঃ)’র জন্মের অনেক আগে থেকেই মক্কা ও কুরাইশদের স্থানীয় ভাষা ছিল আরবী। নবী (সঃ) নিরক্ষর ছিলেন এবং স্থানীয় আরবী ছাড়া অন্য কোন ভাষা জানতেন না। তাঁর জ্ঞাত ভাষায় অনুসারীদেরকে সহজভাবে কোরআনের বানীসমূহ বুঝানোর জন্যেই কোরআন আরবীতে অবতীর্ণ হয়েছে।

শুধু বিষয়োক্ত আয়াত নয়, কোরআনের যেকোন আয়াত বা সুরার অর্থ আলাদাভাবে ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে নবী (সঃ) পরবর্তীতে তা আরবীতেই ব্যাখ্যা করতেন।

আল্লাহ্‌র ভাষা একক আরবী হলে কোরআনে উল্লেখিত অন্য ভাষায় ও অন্য নবীদের উপর অবতীর্ণ তাওরাত, যবুর, ইঞ্জিল সহ অন্যান্য গ্রন্থসমূহকে স্বীকৃতি দেয়া হতোনা। বরং ওই গ্রন্থগুলোকে বিশ্বাস করা ঈমানেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে কোরআনে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে (কোরআনঃ ২/১৭৭ দ্রষ্টব্য)।


উপরোক্ত আয়াতটি আরবী থেকে বাংলায় অনুদিত। এর অর্থ সহজেই অনুধাবনযোগ্য। সুতরাং, অন্য ভাষাভাষীদেরও কোরআন বুঝতে কোন অসুবিধা হবার নয়। কঠিনতর লিখাপড়া, ব্যবসা-বানিজ্য, রাজনীতি, সমাজনীতি বুঝার জন্যে আল্লাহ্‌ই মানুষকে জ্ঞান দিয়েছেন। ঐ প্রদত্ত জ্ঞানেই মানুষ কোরআনের মর্মার্থ অনুধাবন করতে পারছে এবং ভবিষ্যতেও পারবে নিঃসন্দেহে। অর্থ অনুধাবন সম্ভবপর না হলে কোরআন কোন ভাষায়ই অবতীর্ণ হতোনা।


আলিফ লাম মীম (কোরআনঃ ১/১) আয়াতের অর্থ “আল্লাহ্‌ কল্যাণময়ী সম্রাট”।

কোরআন পূর্ববর্তী নবী ও তাঁদের উপর অবতীর্ণ গ্রন্থসমূহকে স্বীকৃতি দিয়েছে অর্থাৎ তাঁদের ভাষাসমূহকেও স্বীকৃতি দিয়েছে। পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে ব্যবহৃত ভাষাসমূহের মধ্যে হিব্রু ছিলো উল্লেখযোগ্য। কোরআন স্বীকৃত “তাওরাত” ধর্মগ্রন্থটি হিব্রু ভাষায় অবতীর্ণ। আলাদা হলেও বিশ্বে ভৌগোলিকভাবে নিকটবর্তী দেশের অধিবাসীসের ব্যবহৃত ভাষায় উচ্চারণ ও অর্থগত অনেক মিল থাকে। মিল থাকে সংস্কৃতিতেও। আরবী ও হিব্রু ভাষায় এবং আরব ও ইহুদী সংস্কৃতিতেও এমন অনেক মিল রয়েছে। ইহুদীদের কিছু ধর্মীয় সংস্কৃতি মুসলমানদের মধ্যেও প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে “সিয়াম” বা “রোজা” ও “খৎনা” বা “মুসলমানী” উল্লেখযোগ্য।

মদিনা সনদের মাধ্যমে নবী (সঃ) একই রাষ্ট্রে বসবাসকারী ইহুদীদেরকে মুসলমানদের মতোই সমান নাগরিক অধিকার ও সন্মান দিয়েছিলেন, অর্থাৎ তাদের আলাদা ধর্ম ও সংস্কৃতি তিনি মেনে নিয়েছিলেন।

কোরআন গবেষণায় মুসলমানদের তুলনায় অমুসলিম গবেষকদের অবদান কম নয়। অমুসলিম গিরীশ চন্দ্র সেন প্রথম আরবী থেকে বাংলায় কোরআন অনুবাদ করেন। জর্জ ইরফাহ তাঁর প্রণীত “১ থেকে ০” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ইসলামী “দা’ওয়াহ”র সূত্রে প্রাপ্ত আরবী বর্ণমালার প্রতিটি বর্ণই আল্লাহ্‌র এক একটি স্বতন্ত্র নাম বা সর্বনাম। আরবী বর্ণমালার ১ম বর্ণ “আলিফ”র অর্থ “আল্লাহ্‌” এবং হিব্রু বর্ণমালার ১ম বর্ণ “এলফ”র অর্থ “প্রভু”। আরবী বর্ণ “লাম”র অর্থ “কল্যাণময়ী” ও “মীম”র অর্থ “সম্রাট” বা “রাজা”। সুতরাং “আলিফ লাম মীম”র অর্থ সন্দেহাতীতভাবে “আল্লাহ্‌ কল্যাণময়ী সম্রাট”।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এই প্রথম খাল বাবার পলিটিক্যাল ম্যাচুরিটির নিদর্শন পেলাম

লিখেছেন অপলক , ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪

২০১০ সালে ফেব্রুয়ারীর ২২ তারিখ। মেয়েলি ব্যাপার বলি, প্রতিহিংসার ব্যপার বলি অথবা পলিটিক্যাল ইমম্যাচুরিটির কথা বলি, বাংলাদেশ জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নতুন করে আকীকা দিয়ে নাম রাখা হয়েছিল হযরত শাহজালাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাষণময়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১


বিশ্বাসগুলো হাবুডুবু খাচ্ছে
ভাগ্যের কম দোষটার হাত
ঝাঁকনি কম নেই তো- তাহলে
বিশ্বাসগুলো মরে যাচ্ছে এই;
মাটির আনন্দটা শুধু ফুল গন্ধ
নাকের সুসংবাদ যে দৌড়াচ্ছে
রাতের ঘুমটা যেনো স্বপ্নবিরল কষ্ট
ভোরের শিশির গড়ে না আর শক্ত;
তবু নিশ্বাসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×