(১) "জয় বাংলা" শ্লোগানকে পরিকল্পিতভাবেই মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র হয়েছে বারংবার।
এর কারন কম বেশী আমাদের সবারই জানা আছে।
তবে দোষের সিংহভাগটি '৭৫ পরবর্তী প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপরই চলে আসে।
কারন, '৭৫ পরবর্তী শাসকরা সেনাছাউনী থেকেই ক্ষমতায় এসেছিলেন এবং "জয় বাংলা" শ্লোগানটিকে আস্তাকুঁড়ে ছু্ঁড়ে ফেলে প্রচলন করেছিলেন "বাংলাদেশ জিন্দাবাদ"!
ঐ সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর সকল পর্যায়ে অনুষ্ঠিত রিক্রুট প্যারেড, বিএমএ প্যারেড, বিজয় দিবস প্যারেড, স্বাধীনতা দিবস প্যারেড অর্থাৎ সব প্যারেডের শেষ সিকোয়েন্সে থাকতো জাতীয় ধ্বনি "বাংলাদেশ জিন্দাবাদ"!
অপরদিকে এই "বাংলাদেশ জিন্দাবাদ" শ্লোগান ব্যবহার করতো বিএনপি, যা এরশাদের জাতীয় পার্টিও অনুসরন করেছে পরবর্তীতে।
"জয় বাংলা" উচ্চারণ কেবল আওয়ামীলীগের একঘরে শ্লোগান হয়েই বেঁচে রইলো, ঐ সময়ে, খুব ম্রিয়মান !
এমনকি এদেশের সাধারন মানুষ এবং মুক্তিযোদ্ধারাও ঐ সময়ে "জয় বাংলা" উচ্চারণ করতে ভয় পেতো।
বেশ কৌশলে মসজিদ মক্তবের মাধ্যমে মহল্লায় মহল্লায় ছড়িয়ে দেয়া হলো, "জয় বাংলা" হিন্দু বিধর্মীদের ধ্বনি এবং এটা উচ্চারণ করলে কঠিন গুনাহ হবে।
এটা ছিলো পাকিপ্রেমীদের একটা সুদূরপ্রসারী নিরেট ষড়যন্ত্র !!!
প্রার্থনা তাই; পাকিপ্রেমী মুক্ত বাংলাদেশ চাই...
(২) মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার,
স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার হাতিয়ার,
আমাদের চিরন্জ্ঞীব চেতনা।
বেসামরিক মুক্তিসেনার তুলনায় চাকুরীরত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাই বেশী ঝুঁকি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো দেশমাতৃকার মুক্তির জন্যে, সেই অসম লড়াইয়ে।
কৃতিত্বের সিংহভাগ সেনাসদস্যদেরই, স্বীকৃত।
কিন্তু কতেক মুক্তিযোদ্ধা এবং অমুক্তিযোদ্ধা সেনাশাসকের যুদ্ধ পরবর্তী কর্মকান্ডই আজ এই গর্বের অর্জনকে ম্লান করে তুলেছে, মানুষকে করেছে সেনাসদস্যদের প্রতি সন্দিগ্ধ !
চরিএ বদলে ফেলার এই সস্তা প্রকাশই আজ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ইন্টিগ্রিটি নিয়ে তীর্যক দৃষ্টিপাতের এক অমোঘ অস্ত্র তুলে দেয়া হয়েছে বেসামরিক বলয়ে।
এটাও ছিলো পাকিপ্রেমীদের আরেকটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র !!!
আবেদন তাই; পাকিপ্রেমী মুক্ত সশস্ত্র বাহিনী চাই...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



