পরিচিত এক ভাইয়ের কিচ্ছুক্ষণ
আগে চাকরি চলে গেল। মসজিদের ইমাম
ছিলেন। অতি দরিদ্র পরিবারের সন্তান।
অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করেছেন।
এতটা আত্মমর্যাদাশীল ছিলেন,
মাদ্রাসাতে ফ্রি পড়াশোনার
ব্যবস্থা থাকলেও, কখনও এ সুযোগ গ্রহণ
করেননি। তাঁর বাবার
একটি সিএনজি ছিল। এক
বেলা তিনি চালাতেন,
আরেকবেলা তাঁর বাবা। এভাবে নিজের
খরচ নিজে যুগিয়ে পড়াশোনা শেষ
করেছেন।
বেশিদিন হয় নি তিনি এ দায়িত্ব
পেয়েছিলেন। তাঁকে সরিয়ে দেয়ার
কারন হল, তিনি নামাযের পর মিলাদ
পড়াতে রাজি হন নি। পরে মসজিদের
মুতাওয়াল্লি আরেকজনকে দিয়ে মিলাদ
পড়িয়ে তাঁর রুমে মিলাদের
মিষ্টি পাঠায়। এখানেও একটি চক্রান্ত
ছিল, যা আর বললাম না। কিন্তু সেটা আর
সফল হতে পারে্নি। ইমাম সাহেব
সে মিষ্টিও ফেরত দিয়ে দেন।
সারাজীবন অন্যের উপর
ছড়ি ঘোরানো মুতাওয়াল্লির আর
ধৈর্যে কুলালো না। মসজিদ কমিটির
বাকি সদস্যদের
ডেকে তাঁকে সরিয়ে দিলেন।
---
মুতাওয়াল্লি অর্থ দায়িত্বপ্রাপ্ত
জিম্মাদার। আমাদের দেশে এ
শব্দটি মসজিদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের
ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। তাদেরকে মসজিদের
মুতাওয়াল্লি বলা হয়।
সমাজে সবচেয়ে নিকৃষ্ট
মানুষগুলো সাধারণত এ সম্মানিত
পদে অধিষ্ঠিত হয়ে থাকেন। সুদখোর,
ঘুষখোর, মাতব্বার, মন্ত্রী মিনিস্টারের
অমুক আত্মীয় - এগুলো হল
মুতাওয়াল্লি পদপ্রাপ্ত হওয়ার যোগ্যতা।
এদের মধ্যে কেউ কেউ নামাজই
পড়তে পারে না। আর যারাও পড়ে, তারাও
কেবল জুম্মার নামাজ। স্বার্থবাজ এ
সমাজপতিরা কাড়ি কাড়ি টাকা ঢালেন,
মসজিদ সুন্দর হয়, সাধারন মানুষ বাহবা দেয়
আর এদিকে ইমাম মুয়াজ্জিন হয়ে পড়েন
তাদের গোলাম। ভাবখানা এমন, তাদের
কথায় ইমামকে উঠতে হবে, তাদের কথায়
বসতে হবে।
হা, এ চিন্তাধারা শতভাগ সঠিক,
এদেরকে মসজিদের
মুতাওয়াল্লি বানালে মসজিদের বাহ্যিক
উন্নতি হবে। এসি লাগবে, টাইলস বসবে।
কিন্তু যে উন্নতির জন্য মূলত মসজিদ নির্মিত
হয়, তা বাস্তবায়নের জন্য আসলেই
কি এরা যোগ্য? ভাবার সময় হয়
না আমাদের কারোই।
“নিঃসন্দেহে তারাই আল্লাহর মসজিদ
আবাদ করবে যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর
প্রতি ও শেষ দিনের প্রতি এবং কায়েম
করেছে নামায ও আদায় করে যাকাত;
আল্লাহ ব্যতীত আর কাউকে ভয় করে না।
অতএব, আশা করা যায়, তারা হেদায়েত
প্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে।” [আয়াত ১৮,
সুরা তাওবা]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



