somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কদম ফুল আর কেয়া

২৫ শে জুন, ২০২৫ সকাল ১১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বর্ষার শুরু মানেই আমার মনে পড়ে কেয়া-কে। সেই মেয়েটা, যার চোখে ছিল মেঘ, আর হাসিতে ছিল বজ্রপাতের মতো ছন্দ। কেয়ার —চোখে ছিল ছায়া আর সূর্যের মিশেল, আর কণ্ঠে যেন নদীর মতো একটা প্রবাহ। কেউ যেন তাকে বানিয়েছে কল্পনার রং দিয়ে, অথচ সে ছিল একদম বাস্তব—হেঁটে আসে ধীরে ধীরে, বইয়ের পাতা উল্টায়, আবার থেমে যায় অচেনা কবিতার লাইন ছুঁয়ে।

আমাদের দেখা হয়েছিল এক বর্ষার দুপুরে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ঠিক পশ্চিম কোনে। চারদিকে ছিল বৃষ্টির গন্ধ, কাদা-মাটির দাগ, আর দূরে কোথাও একটা কদম গাছ—যার নিচে সে দাঁড়িয়ে ছিল ছাতা ছাড়াই। তার গায়ে ছিল একটা সাদা-হলুদ সালোয়ার, আর চুল ভিজে গিয়েছিল আধভেজা কদম ফুলের মতো।
অদ্ভুত এক অভিকর্ষীয় বলের টানে, আমার পা হাটতে চলা শুরু করেছিল, কেয়ার দিকে।
কি বলব, মাথায় আসছিল না, বুক ধরফর করতেছিল, তারপর যুদ্ধের দেবতা ক্রেটসের কাছ থেকে সাহস যুগিয়ে, আমি জিজ্ঞেস করেই ফেললাম,
— "ছাতা আনোনি কেন?"
কেয়া হেসে বলেছিল,
— "বৃষ্টি কি আটকানোর জন্য? বৃষ্টি তো ছুঁয়ে দেওয়ার জন্য।
সেই হাসি থেকেই শুরু , সেই প্রথম কেয়াকে ভালো লেগেছিল।

সপ্তাহ পার হলো, মাস গেল। কেয়া হয়ে উঠল আমার কল্পনার 'পরী', যার ডানা ছিল না, কিন্তু ছিল বিশাল মনের সাহস। আমাদের কথা হতো গভীর রাতে—রাজনীতি, দর্শন, কবিতা, এবং মাঝে মাঝে একে-অপরের চোখের ভাষা।
আর কদম ফুল? সেটা তখন থেকেই হয়ে উঠল আমাদের প্রতীক। প্রতি বর্ষায়, আমি তার জন্য একটা কদম ফুল এনে দিতাম—ভেজা, মাটির গন্ধে ভরা, একটুখানি প্রেমে মোড়া।
কেয়া ছিল অন্য রকম। সে সহজ কিছু ছিল না, আবার জটিলতাও ছিল না। তার চিন্তা ছিল গভীর, কথাগুলো কাব্যিক, আর জীবন নিয়ে তার এক নিজস্ব বিদ্রোহী দর্শন ছিল। আমি তাকে বলতাম—
— "তুমি আমার ছায়া, আর আলো দুইই।"
কিন্তু সব গল্প তো চিরকাল চলে না।

স্নাতক শেষের আগেই কেয়া হারিয়ে গেল। না, মৃত্যু নয়—তাকে হারানোর ব্যথা ছিল নিরব কিন্তু তীক্ষ্ণ । উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ নিয়ে কেয়া চলে গেল দূরের দেশে, আর আমি শুধু জানালাম একদিন, সে আর ফিরবে না। কেয়ার অনেক স্বপ্ন ছিল, আকাশে উড়বার, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার তাই আমি তাকে কিছুই বলিনি , আমি ছিলাম ভাষাহীন নিঃশ্চুপ ।

শেষবার দেখা হয়েছিল লাইব্রেরির সেই পুরনো বারান্দায়, যখন আমি এক হাতে ধরে ছিলাম একটা কদম ফুল।
সে বলেছিল,
— "এই ফুলগুলো যতবার দেখবে, মনে করো, আমি হারাইনি। আমি রয়ে গেছি। শুধু ঠিকানাটা পাল্টেছে।"

এখনো বর্ষা এলে আমি সেই পুরনো কদম গাছটার নিচে যাই। একটু ভিজে কদম ফুল কুড়িয়ে এনে রাখি বুক পকেটে। মনে হয়, কেয়া আমার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে—ছাতা ছাড়া, ভিজে চুলে, আর চোখে মেঘের মতো এক অদ্ভুত আলো।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুন, ২০২৫ সকাল ১১:৩২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ব্লাইন্ড স্পট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৭



ঘন কুয়াশার চাদর আর আঁকাবাঁকা সড়কের আড়ালে ‘পদ্মাডাঙা’ গ্রামটা দেখতে আর দশটা নীরব, নিরুপদ্রব পল্লীর মতোই। কিন্তু সাইবার অপরাধের মানচিত্রে এই জায়গার পরিচয় ভিন্ন। ফিশিং, ব্যাংক... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙালিয়ানা ভোজ ও রুপালি ইলিশের স্বাদ

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫৫

বন্ধু মারফত খবর পেলাম দেশের বাজার নাকি ভারতীয় ইলিশে সয়লাব। পদ্মার ইলিশের দাম কম, তাই নিম্নচাপ উপেক্ষা করে চলে গেলাম ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে। ঘাটে এসে দেখলাম পুরা বাজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×