somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

দারাশিকো
পাল্টে দেবার স্বপ্ন আমার এখনো গেল না ... এই স্লোগান নিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম এই সামহোয়্যারইনব্লগেই, ২০০৮ সালে। এখন নানা ব্যস্ততায় লেখালিখি খুব কমই হয়। আমন্ত্রণ রইল আমার ওয়েবসাইট https://darashiko.com -এ।

ভ্রমণ কাহিনী: রাজশাহী-নাটোরে (শেষ পর্ব)

২৮ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ৯:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



রাজশাহী-নাটোরে (নাটোর পর্ব)

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখার কোন পরিকল্পনা ছিল না, যেহেতু শোয়াইবের বিয়ে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্টোদিকে আবাসিক এলাকায়, তাই একবার ঘুরে দেখার পরিকল্পনা হলো।

পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে ব্যাটারীচালিত একটি রিকশা নেয়া হলো। রিকশা আমাদের এ পথ সে পথ ঘুরিয়ে যখন শহীদ জিয়াউর রহমান হলের কাছাকাছি, তখন ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো। উপায়ান্তর না দেখে হলের গাড়ি বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতে হলো। বৃষ্টি থামলো মিনিট পনেরো পরে। তারপর আবার রিকশায় উঠে বেড়ানো।

একে তো শুক্রবার, তার উপর সাথে পরিচিত কেউ নেই, তাই ফাঁকা ক্যাম্পাস ঘুরে দেখতে বেশী সময় লাগলো না, আবার ভ্রমণটা ঠিক উপভোগ করাও গেল না।

শোয়াইবের বিয়েতে

অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এল। নানা পথ ঘুরে, ভুল রাস্তা থেকে সঠিক রাস্তায় ফিরে যখন বিয়েবাড়িতে উপস্থিত হয়েছি, তখন জুমার নামাজ শুরু হলো বলে। বিয়েতে বরের সঠিক সময়ে উপস্থিত হবার নিয়ম নেই, ফলে শোয়াইবসহ অন্যান্য বরযাত্রীরা তখনও উপস্থিত হতে পারেনি। অগত্যা জুমা পড়ে আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম।

কনের বাড়ির সামনের উঠোনে বিয়ের আয়োজন। বৃষ্টি হতে পারে এই আশঙ্কায় ত্রিপল দিয়ে ছাউনি দেয়া হয়েছে। সবদিক আবদ্ধ বলে প্রচন্ড গরম। এর মাঝে চলে গেলো বিদ্যুৎ। চালু হলো জেনারেটর। তারপর কি এক জটিলতায় সেই জেনারেটরও বন্ধ হয়ে গেলে গভীর অন্ধকারে বসে থাকলাম। একসময় জেনারেটর চালু হলো আর শোয়াইবসহ বরযাত্রীও উপস্থিত হলো। তারপর শুরু হলো মুষলধারায় বৃষ্টি। ত্রিপলের ফাঁক দিয়ে সেই বৃষ্টির পানি পড়তে লাগলো অঝোরধারায়।

দেখা গেল বিয়ের ঘটক আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই। তার সাথে এসেছে শোয়াইবের একজন বন্ধু সে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাই। আরও দুই-একজন পরিচিত-আধা পরিচিত লোক পাওয়া গেল। সবার সাথেই বহুদিন বাদে দেখা, ফলে বেশ আলাপ জমে উঠল।

ভোজনপর্ব শেষ করে এসে দেখি শোয়াইবকে ঘিরে রেখেছে তার শ্যালক-শ্যালিকাদের দল আর মাঝখানে শোয়াইব তার ঝোলমাখা শুকনো হাত নিয়ে বসে আছে, কারণ বকশিস ছাড়া তারা বরের হাত ধুয়ে দিবে না। বেচারা শোয়াইব! তার পকেটে নাই টাকা আর এই ধরণের বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য যে সকল বন্ধুকে নিয়ে এসেছিল তারা কেউই আশেপাশে নেই। অগত্যা নাক গলিয়ে দেন-দরবার করে শোয়াইবকে উদ্ধার করতে হলো।

বিকেলে আসরের পরে নববধূকে নিয়ে শোয়াইবরা যাত্রা করলো ঢাকার পথে, আমরা ফিরে এলাম আস্তানায়।

রাজশাহীর কোন দিকটি সবচেয়ে ভালো লাগলো – এই প্রশ্নের উত্তরে বিনা ভাবনাতেই আমি বলবো বিদিরপুরের কথা। নদীর তীরে একাকী বসে আছি – চারিদিকে শুনশান, কেবল ঢেউয়ের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর ছায়াঘেরা তীরে মৃদু বাতাস – আমার শিহরন জাগে। আর ভালো লেগেছে রাজশাহীর ভীড়-কোলাহল মুক্ত শহর। দক্ষিণ এশিয়ার গ্রীন সিটি হিসেবে রাজশাহীর পরিচিতি রয়েছে। এখানে রাস্তায় কালো ধোঁয়া নেই – কারণ রিকশা-অটো সবই ব্যাটারি চালিত। তবে বিরক্তির কারণও এই অটোগুলো। তারা অনর্থক হর্ন বাজায়। গোটা শহরে দূষিত বাতাস না থাকলেও রাস্তার মোড়গুলোতে শব্দ দূষণের আধিক্য রয়েছে।

রাতের নাইটকোচে বসে চেকলিস্টের সাথে মিলিয়ে নিচ্ছিলাম। পুঠিয়ার রাজবাড়িতে যাওয়া হলো না শহর থেকে বেশ দূরে অবস্থিত হওয়ায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও নাটোর ভ্রমণের জন্য বাদ দিতে হলো। নাটোরের চেকলিস্ট সফলভাবে সম্পূর্ণ হয়েছে। সাহেববাজারে বিদ্যুতের কলিজা সিঙ্গারা খাওয়া হলো না। তিলের জিলাপীর খোঁজই পেলাম না। তারমানে আবারও আসতে হবে রাজশাহীতে। কখন, কোন ছুতোয় তা উপরওয়ালাই ভালো জানেন।

রাজশাহী-নাটোর ভ্রমণ শেষ হলো। যারা নিয়মিতভাবে এই ভ্রমণকাহিনীর সবকটি পর্ব পড়েছেন তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ। যারা নিয়মিতভাবে মন্তব্য করে উৎসাহ দিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ব্লগে লিখে যে তৃপ্তি পাওয়া যেতো সেটা আবারও পাচ্ছি। এই সম্পূর্ণ ভ্রমণকাহিনীটি আমি ই-বুক আকারে প্রকাশ করেছিলাম, সংগ্রহে রাখতে চাইলে অথবা পড়তে চাইলে নিচের লিংকে দেখার অনুরোধ রইল। সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।

ই-বুক: রাজশাহী-নাটোরে
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ৯:২৯
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রবাস ডাইরিঃ ২য় পর্ব

লিখেছেন মুহাম্মদ তমাল, ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ রাত ১:০৮



স্বপ্ন সত্যি হবার এক বছর।
আগস্ট ২০২২,
গতবছরের এই অগস্ট মাস ছিলো জীবনের কঠিনতম মাস গুলির একটা।
কতটা বিষণ্ণা, মর্মান্তিক, কঠিন ছিলো এই মাস এটা আমি জানি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেদিনও বৃষ্টি ছিল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ রাত ১:৩৯

ছবিঃ আমার তোলা।

ওরা আসে। হ্যাঁ অবশ্যই আসে।
গভীর রাতে। তখন চারিদিক অন্ধকার। ঝিঁঝিঁ পোকা সমানে ক্লান্তিহীন ভাবে ডাকতেই থাকে। পাতায় পাতায় ঘষা লেগে মিহি একটা শব্দ হয়। বইতে থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিদায় বেলায় - ২৬

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ সকাল ১০:৪৮

ভিন্ন সময় বিভিন্ন যায়গায় বেড়াতে গিয়ে বেশ কিছু সূর্যাস্তের ছবি আমি তুলেছি আদিতে, এখনো তুলছি সুযোগ পেলেই। সেই সমস্ত সূর্যাস্তের ছবি গুলি বিভিন্ন সময় ফেইসবুকে শেয়ার করেছি। সেখান থেকে ৫টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

৮ম শ্রেণি পাশ নারী প্রধানমন্ত্রী হতে পারলে হিরো আলম কেন এমপি হতে পারবে না?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ দুপুর ১:০৫


বগুড়া ৪-৬ আসনে নির্বাচন হলো। সম্ভাবনা জাগিয়েও হিরো আলম স্বল্প ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। ওনার অভিযোগ ভোট গণনায় কারচুপি হয়েছে। ওনাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ওনি বলছেন, ওনার মতো অশিক্ষিত লোককে স্যার সম্ভোধন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্ক্সের অবৈধ সন্তান.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ বিকাল ৩:৫১

মার্ক্সের অবৈধ সন্তান.....

শ্রেণি-সংগ্রামের তত্ত্বকথায় যিনি প্রবাদপুরুষ, তিনি বাড়ির পরিচারিকার কাছ থেকে ‘ফায়দা’ নেবেন, চরম শত্তুরেও তা মানতে চাইবে না। কিন্তু ইতিহাসের বড় একটা অংশ বলছে, ঘটনা কতকটা তা-ই। সময়টা ১৮৫০।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×