
রাজশাহী-নাটোরে (নাটোর পর্ব)
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখার কোন পরিকল্পনা ছিল না, যেহেতু শোয়াইবের বিয়ে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্টোদিকে আবাসিক এলাকায়, তাই একবার ঘুরে দেখার পরিকল্পনা হলো।
পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে ব্যাটারীচালিত একটি রিকশা নেয়া হলো। রিকশা আমাদের এ পথ সে পথ ঘুরিয়ে যখন শহীদ জিয়াউর রহমান হলের কাছাকাছি, তখন ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো। উপায়ান্তর না দেখে হলের গাড়ি বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতে হলো। বৃষ্টি থামলো মিনিট পনেরো পরে। তারপর আবার রিকশায় উঠে বেড়ানো।
একে তো শুক্রবার, তার উপর সাথে পরিচিত কেউ নেই, তাই ফাঁকা ক্যাম্পাস ঘুরে দেখতে বেশী সময় লাগলো না, আবার ভ্রমণটা ঠিক উপভোগ করাও গেল না।
শোয়াইবের বিয়েতে
অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এল। নানা পথ ঘুরে, ভুল রাস্তা থেকে সঠিক রাস্তায় ফিরে যখন বিয়েবাড়িতে উপস্থিত হয়েছি, তখন জুমার নামাজ শুরু হলো বলে। বিয়েতে বরের সঠিক সময়ে উপস্থিত হবার নিয়ম নেই, ফলে শোয়াইবসহ অন্যান্য বরযাত্রীরা তখনও উপস্থিত হতে পারেনি। অগত্যা জুমা পড়ে আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম।
কনের বাড়ির সামনের উঠোনে বিয়ের আয়োজন। বৃষ্টি হতে পারে এই আশঙ্কায় ত্রিপল দিয়ে ছাউনি দেয়া হয়েছে। সবদিক আবদ্ধ বলে প্রচন্ড গরম। এর মাঝে চলে গেলো বিদ্যুৎ। চালু হলো জেনারেটর। তারপর কি এক জটিলতায় সেই জেনারেটরও বন্ধ হয়ে গেলে গভীর অন্ধকারে বসে থাকলাম। একসময় জেনারেটর চালু হলো আর শোয়াইবসহ বরযাত্রীও উপস্থিত হলো। তারপর শুরু হলো মুষলধারায় বৃষ্টি। ত্রিপলের ফাঁক দিয়ে সেই বৃষ্টির পানি পড়তে লাগলো অঝোরধারায়।
দেখা গেল বিয়ের ঘটক আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই। তার সাথে এসেছে শোয়াইবের একজন বন্ধু সে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাই। আরও দুই-একজন পরিচিত-আধা পরিচিত লোক পাওয়া গেল। সবার সাথেই বহুদিন বাদে দেখা, ফলে বেশ আলাপ জমে উঠল।
ভোজনপর্ব শেষ করে এসে দেখি শোয়াইবকে ঘিরে রেখেছে তার শ্যালক-শ্যালিকাদের দল আর মাঝখানে শোয়াইব তার ঝোলমাখা শুকনো হাত নিয়ে বসে আছে, কারণ বকশিস ছাড়া তারা বরের হাত ধুয়ে দিবে না। বেচারা শোয়াইব! তার পকেটে নাই টাকা আর এই ধরণের বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য যে সকল বন্ধুকে নিয়ে এসেছিল তারা কেউই আশেপাশে নেই। অগত্যা নাক গলিয়ে দেন-দরবার করে শোয়াইবকে উদ্ধার করতে হলো।
বিকেলে আসরের পরে নববধূকে নিয়ে শোয়াইবরা যাত্রা করলো ঢাকার পথে, আমরা ফিরে এলাম আস্তানায়।
রাজশাহীর কোন দিকটি সবচেয়ে ভালো লাগলো – এই প্রশ্নের উত্তরে বিনা ভাবনাতেই আমি বলবো বিদিরপুরের কথা। নদীর তীরে একাকী বসে আছি – চারিদিকে শুনশান, কেবল ঢেউয়ের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর ছায়াঘেরা তীরে মৃদু বাতাস – আমার শিহরন জাগে। আর ভালো লেগেছে রাজশাহীর ভীড়-কোলাহল মুক্ত শহর। দক্ষিণ এশিয়ার গ্রীন সিটি হিসেবে রাজশাহীর পরিচিতি রয়েছে। এখানে রাস্তায় কালো ধোঁয়া নেই – কারণ রিকশা-অটো সবই ব্যাটারি চালিত। তবে বিরক্তির কারণও এই অটোগুলো। তারা অনর্থক হর্ন বাজায়। গোটা শহরে দূষিত বাতাস না থাকলেও রাস্তার মোড়গুলোতে শব্দ দূষণের আধিক্য রয়েছে।
রাতের নাইটকোচে বসে চেকলিস্টের সাথে মিলিয়ে নিচ্ছিলাম। পুঠিয়ার রাজবাড়িতে যাওয়া হলো না শহর থেকে বেশ দূরে অবস্থিত হওয়ায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও নাটোর ভ্রমণের জন্য বাদ দিতে হলো। নাটোরের চেকলিস্ট সফলভাবে সম্পূর্ণ হয়েছে। সাহেববাজারে বিদ্যুতের কলিজা সিঙ্গারা খাওয়া হলো না। তিলের জিলাপীর খোঁজই পেলাম না। তারমানে আবারও আসতে হবে রাজশাহীতে। কখন, কোন ছুতোয় তা উপরওয়ালাই ভালো জানেন।
রাজশাহী-নাটোর ভ্রমণ শেষ হলো। যারা নিয়মিতভাবে এই ভ্রমণকাহিনীর সবকটি পর্ব পড়েছেন তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ। যারা নিয়মিতভাবে মন্তব্য করে উৎসাহ দিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ব্লগে লিখে যে তৃপ্তি পাওয়া যেতো সেটা আবারও পাচ্ছি। এই সম্পূর্ণ ভ্রমণকাহিনীটি আমি ই-বুক আকারে প্রকাশ করেছিলাম, সংগ্রহে রাখতে চাইলে অথবা পড়তে চাইলে নিচের লিংকে দেখার অনুরোধ রইল। সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।
ই-বুক: রাজশাহী-নাটোরে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



