somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাংবাদিকের ইমেজ এমন হওয়া উচিত না

১০ ই আগস্ট, ২০১২ দুপুর ১:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘটনা ১.
মাস তিনেক আগে ময়মনসিংহ থেকে এক ব্যবসায়ী [তার ভাষায়] এসেছেন অফিসে। তিন বাচ্চার বাপ। চেহারা সুরত মাশাল্লাহ ভালো। টুপি সাপ্লাইয়ের ব্যবসা তার। বয়স ৩৮। এই বয়সে তার অদ্ভুত খেয়াল, 'নায়ক' হবেন। এবং বিপরীতে নায়িকা শাবনূরকে লাগবেই লাগবে! প্রয়োজনে তিনি নিজের টাকায় ছবি বানাবেন। জিজ্ঞেস করলাম, পুঁজি আছে কত? বললেন ভিটেমাটি বিক্রি করলে সব মিলিয়ে লাখ পাচেক টাকা যোগাড় করতে পারবেন। টানা একঘণ্টা তাকে বুঝালাম। অফিসের সবাই বিরক্ত হয়ে তাকাচ্ছিল বারবার, আমি বিব্রত বোধ করতে লাগলাম। কিন্তু মমিনুল নাছোড়বান্দা, তাকে একটা ব্যবস্থা করে দিতেই হবে। এক পর্যায়ে রেগে গিয়ে কিছু কঠিন কথা শোনালাম। ঘরসংসারি হওয়ার পরামর্শ দিলাম। তার বড় মেয়েটা এইটে পড়ে। বললাম আপনার সব চাওয়া-পাওয়া এই মেয়েটাকে দিয়ে পূরণ করেন, যদি ওর ইচ্ছে থাকে। এখনই ওরে অভিনয় শেখানোর ব্যবস্থা করেন, পড়াশোনাটাও জরুরি। কীসের কী! লোকটা আগে নিজের খায়েস মেটাতে চান। উপায় না পেয়ে প্রায় ঘাড় ধাক্কা দিয়ে লোকটাকে বের করে দিতে হলো। :(
ঘটনা ২.
দুই সপ্তাহ আগের ঘটনা। সেদিন কুমিল্লা থেকে জাহিদ ইসলাম নামের এক কিশোর এসেছে আমার কাছে। বাস ভাড়া দিয়ে পকেটে আছে আর ৫০ টাকা। গীতিকার হতে চায়। তার ধারনা, আমার বিশাল ক্ষমতা। আমি ইচ্ছে করলেই নাকি সে গীতিকার হয়ে যাবে! আমার মাথায় ধরে না, আমার সম্পর্কে এমন অদ্ভুত ধারনা তার কেন হলো! তবুও আগ্রহ নিয়ে তার গীতিকবিতা শুনলাম। হতাশ হলাম। কিছু বইয়ের তালিকা দিয়ে সেগুলো পড়তে বললাম। ফোন নাম্বার দিলাম। সতর্ক করে দিলাম, বেশি ফোন দিলে কিন্তু ধরব না। মাসে একবার। কি কি বই পড়া হলো, সেগুলো জানব। এক সময় বুঝিয়ে-সুজিয়ে তাকে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দিয়েছি।
ঘটনা ৩.
আজকের ঘটনা। অফিসের রিসেপশনে একটা কিশোরী মেয়ে বসে আছে। একজন খবর নিয়ে এলেন, আপনার কাছে একটা মেয়ে এসেছে, যাত্রাবাড়ি থেকে। বললাম, কেন? কে? বললো, চিনি না। মডেল হতে চায়। একটু চুপসে গেলাম। এর পর বললাম, গিয়ে বলেন আমি নাই।
................................
এই ঘটনা অনেক। প্রথম দিকে মজা পেতাম। পরে ভাবলাম, এরা কেন আসছে আমার কাছে? আমি কে? মাঝেমধ্যে দুই-একবার পত্রিকায় নামসহ লেখা ছাপা হয়। এর বাইরে আমি কিছুই না। আম জনতার ধারনার মূলে কী? না কি তারা ভাবেন, সাংবাদিকরা চাইলে সব পারেন! না না, এটা খুবই বিপজ্জনক ভাবনা। সাংবাদিকের ইমেজ এমন হওয়া উচিত না।
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×