Click This Link
হ্যারীরে নিয়া বলতাছিলাম। আগেই বলছি যে নামই শুধু খলিফার মতন। চালচলনে দুরন্ত ইসমার্ট আমাগো হ্যারী। জামা কাপড়ের ভাঁজ ওর জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কিছু দিনের মধ্যেই শার্টের ভাজ সংক্রান্ত বাড়াবাড়ি অতিরিক্ত মাত্রা ধারন করল। মাথায় সারাক্ষন কুবুদ্ধি গিজ গিজ করত। (অহন নাফিসের যেই অবস্থা আর কি
আমাগো সাঁঝুর কাব্য প্রতিভাতো সব্বাই জানে। কাইলতো চাঙ্কু সাঁঝুর কবিতার উৎস খুইঁজা খুইঁজা হয়রান। চাঙ্কুরে কই, সাঝু মিয়া কারে নিয়া লেখে তাতো জানি না। তয় ওর এক বান্ধুবীরে দেইখা আমার আরেকটু হইলেই কাব্য প্রতিভা জাইগা উঠত। ওই বান্ধবীই উৎস কিনা জানি না, এক রাতে (অবশ্যই পরীক্ষার আগের রাতে, আকামের জন্য ওই রাতটাই আমার সবচেয়ে পছন্দের ছিল)আমি অনেকক্ষন মোচড়া মুচড়ি (কাগজ মোচড়াইছি, শরীর মোচড়া মুচড়ি কইরা কবিতা বাহির করা কঠিন কাজ হবে)কইরা একখান কবিতা লেইখা ফালাইলাম।লেইখাতো ফালাইছি, এখন কাউরে দিয়া না পড়ানো পর্যন্ত শান্তি পাইতাছিলাম না।কিন্ত পরীক্ষার আগের রাতে কেউ আমারে বিশেষ একটা পাত্তা দেয় না। শুধু হ্যারী হাল্কা পাতলা দিত, কারন ওর সিলেবাস পরীক্ষার ৩ দিন আগেই শেষ হয়ে যাইত। তাই আমি দৌড়াইয়া হ্যারীর কাছে গেলাম।
“হ্যারী হ্যারী আমি না একটা কবিতা লিখছি।”
“ও আচ্ছা তাই, কই দেখি?”
ততক্ষনে আশ পাশ থেকে কিছু উটকো গালা গালি শোনা গেল।আমি বিশেষ পাত্তা দিলাম না। পুরাটা পড়ছে কি পড়ে নাই ঠিক বুঝা গেল না।মুখে কাষ্ট হাসি হাইসা বললো “ভাল হইছে।”আমি অবশ্য কবিতা প্রসবের উত্তেজনায় ওইটুকুতেই খুশি হইয়া চইলা আসলাম।
কয়েকদিন পরের ঘটনা। সুবিধা বঞ্চিত বাচ্চাগোরে আমরা বিকালে পড়াইতাম।সেইদিন আমার লগে আরো কয়েকজন আছিল। হঠাৎ একটা মাইয়া আইসা কয় “রাকিব ভাই একটা কবিতা শুনবেন?”আমি মোটামুটি শিউর আছিলাম,জীবনানন্দ, নয়তো নির্মলেন্দু গুনের কবিতাই হবে। “বল শুনি।” দেখি মেয়ে ব্যাগ থেকে মোবাইল বাহির করছে, তারপর কিছুক্ষন ঘাটাঘটি কইরা কি কি যেনো বলা শুরু করলো হড় হড় কইরা।আমি ওরে থামাইয়া দিলাম। কইলাম “তুমি কি ওষুধ বিক্রি করতাছ নাকি কবিতা আবৃতি? এত দ্রুত বললে বুঝব কেমনে? আস্তে আস্তে বল।” মেয়ে আবার বলা শুরু করলো, আর এইবার কবিতাটা কেমন যেনো পরিচিত মনে হইতে লাগলো। আমি জিগাইলাম “কার কবিতা?” কয় একজন পাঠাইছে।আমি জিগাই কেঠা? মাইয়া কয় না, মুচকি মুচকি হাসে। কি মনে কইরা কবিতার শেষ লাইনটা আবার রিপিট করলো মাইয়া, আর সাথে সাথে মনে পইড়া গেল কবিতাটা কার লেখা। বাসায় আইসা সবাইরে কইলাম “চল মিষ্টি খাওয়ামু, আমিতো পপুলার হইয়া গেছি, মানুষজন আমার লেখা কবিতা এস,এম,এস কইরা পাঠায়।” মাইয়ারে কবিতা কেঠা পাঠাইছে সেইটা কিন্ত আমি জানি না।
হ্যারীরে নিয়া কিছু কইতে গেলে নারী আইসা পরবেই। কিচ্ছু করার নাই। পুরুষ মানুষের স্বাভাবিক নারী প্রীতির চেয়ে হ্যারীর নারী প্রীতিটা একটু বেশিই বেশি ছিল। আর হ্যারী হইল আমাগো লাভ গুরু। পোলাপানি নিজেরাই জানত না, মাগার হ্যারী ঠিকই ওগো চোখে প্রেম খুঁইজা পাইত।কার চোখে কার লাইগা প্রেম উথলাইয়া পরতাছে হ্যারী ঠিকই বুইঝা নিত। হ্যারীর প্রত্থম শিকার হইল আমাগো ব্লগার প্রসূন। একদিন দেখি এক দৃষ্টিতে প্রসূনের চোক্ষের দিকে তাকাইয়া আছে। কিছুক্ষন বাদে কয়
“তোর চোখ বলছে তুই জয়াকে কতখানি ভালো বাসিস।”
আমি কই হালার চান্দু কয় কি? ইউনিতে ভর্তি হইছি এক মাসও হয় নাই এর মধ্যেই প্রসূনের চোখ থেইকা ভালোবাসা উপচাইয়া পরল?
প্রেমের ব্যাপারে হ্যারীর ব্যাপাক জ্ঞান (অবশ্য এইটা ওর দাবী। আমার ধারনা ও কিচ্ছু জানে না
ইউনিতে আইসা বেশিদিন লাগলো না ওর গায়ে প্রেমের বাতাস লাগতে। এক সুন্দরীরে পছন্দ হইয়া গেল। পুরা ক্যাম্পাসের সবাই জাইনা গেল হ্যারী ওই মাইয়ারে পছন্দ করে শুধু মাইয়া ছাড়া। কিন্ত এমন খবরতো আর বেশিদিন চাপা থাকে না। হ্যারীর আর সৌভাগ্য (কিংবা দূর্ভাগ্য)হয় নাই মাইয়ারে কওয়ার। তারপরও মাইয়া কুনু কারন ছাড়াই ক্ষেইপা ফায়ার। হাউ কাউ কইরা দুনিয়া মাথায় তুইলা ফেলাইল। আমরা মাইয়ার কান্ড দেইখা কই, এই বুদ্ধি কম মাইয়ার সাথে হ্যারীর কিছু হয় নাই ভালো হইছে। মাইয়ার বুদ্ধি যে কম এইটা প্রমান করার জন্যই সে মাসক্ষানেকের মধ্যেই বিয়া কইরা ফালাইলো আরেক বুদ্ধিকম বেটারে (হি হি হি ঠিক ধরছেন, আর্মি পারসন)।দেখা যাইতেছিল হ্যারীর পছন্দের মাইয়া গুলার শুধু বিয়া হইয়া যায়। তাই আমরা বুদ্ধি দিলাম জুনিয়র মাইয়া পছন্দ কর।
আমাগো কথা কেমনে ফেলে কন, একেবারেই নতুন ব্যাচের এক মাইয়ারে তার আবার মনে ধরল। মাইয়াও কেমন জানি আচরন করে। হ্যারী কনফিউসড। কি করবে বুঝে না। আবারো কুনু এক পরীক্ষার আগের রাতে আমার মাথায় কুবুদ্ধি উঠল (আমার বেশিরভাগ কুবুদ্ধি পরীক্ষার আগের রাতেই উঠে), এইবার আর একা না সবাইরে সাথে পাইলাম। এক সাথে বইসা মিটিং করলাম। বিষয় বস্ত হ্যারী ও তার আসন্ন প্রেম। খুব বেশি সময় লাগলো না। ৪৫ মিনিটের মাথায় আমরা হ্যারীরে প্রমান কইরা দিলাম ওই মাইয়া তার প্রেমে দিওয়ানা, সেও ওই মাইয়ার প্রেমে দিওয়ানা। অতএব সেলিব্রেশন হবে। রাতের বেলায় দোকান পাঠ বন্ধ হইয়া গেলেও খুঁইজা খুঁইজা দোকান বাইর কইরা স্যাম্পেন না পাইলেও স্প্রাইট উৎসব করছিলাম। ঠিক হইল আর দেরী না। পরের দিন সকালে হ্যারী মেয়েরে গিয়া বলবে মনের কথা।
আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাছি। সেই সক্কালে বাহির হইছে হ্যারী। সন্ধ্যে সাতটায় দুপদাপ শব্দ শুনে (ও হাতীর মতন না হলেও হাঁটার সময় অমন শব্দ হয়) বুঝতে পারলাম হ্যারী এসেছে।আমরা কোনো কথা না বলে চুপচাপ ওর রুমে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। ওর থমথমে চেহারা দেখে ভয় ভয় লাগছিল, না জানি কি হইছে।একটা বাক্যই শুধু বললো হ্যারী। “ও বিবাহিত। গত বছরে ওর বিয়ে হয়ে গেছে।” দুঃখজনক হইলেও সত্যি যে এই কথা শুনে আমার হাসি পেয়ে গিয়েছিল। হ্যারীর চোখ যেই মেয়ের উপর পরে তারই বিয়া হইয়া যায়। এইটাই অঘোষিত সত্য হইয়া গেল। মজার ব্যাপার হইল এর পরেও হ্যারী প্রেমে পড়ছিল আরেকবার। ওই মাইয়ারও বিয়া হইয়া গেছে। ওইটাই এখন পর্যন্ত
(চলতেও পারে, নাও চলতে পারে)
ছবিঃ একমুঠো আলো হাতে নিয়ে আমরা, আলো আসবেই। মোবাইলে তোলা তাই বিশেষ ভালো আসে নাই। তবে স্মৃতিতো বুকে, একেবারেই স্পষ্ট।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



