somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা অন্ধকারে হাতড়ে বেড়াচ্ছি হাজার টন ওজনের কয়েক দিস্তা নিষেধাজ্ঞার দলিল কাঁধে নিয়ে

১৫ ই জুলাই, ২০১৫ সকাল ৯:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

* আপনি কি হাতেনাতে ডাকাত/সিনতাইকার ধরে পিটিয়ে মেরে ফেলা সমর্থন করেন?
উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে আপনি রাজনের মত শিশুকে পিটিয়ে মারারও একজন নীরব সমর্থক। যদিও এই মুহূতে আপনার এই প্রতিবাদের অনেক মূল্য আছে।

* আপনি কি ধর্ম অবমাননাকারীকে হত্যা করা সমর্থন করেন?
উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে আপনি রাজনের খুনিরও একজন নীরব সমর্থক। যদিও আপনি এখন প্রতিবাদে সোচ্চার, এবং আপনার এই প্রতিবাদের মূল্য অনেক।

* আপনি কি ক্রসফায়ারে একজন সন্ত্রাসীকে হত্যা করা সমর্থন করেন?
উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে আপনিও রাজনের হত্যার একজন নীরব সমর্থক।

আমরা কি অস্বীকার করতে পারি যে, আমরাই নীরব ঘাতক নই?
কামরুলদের সাজা হতে হবে দৃষ্টান্তমূলক, কিন্তু তাতে কি সমাজটা বদলাবে? বদলাবে না।
তাতে কি এরকম ঘটনা ঘটা বন্ধ হবে? হবে না।

ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন। কিন্তু কীভাবে হবে সেই আন্দোলন?
যখনই আপনি দোষ-ত্রুটি নিয়ে আলোচনা সমালোচনা করতে যাবেন, তখন সরকার বাহাদুর বলবে, আমাদেরকে নিয়ে কথা বললে কিন্তু র‌্যাব/পুলিশ আছে। অতএব, সমজে চলো।
ধর্মদ্রোহীরা বলবে, আমাদের নিয়ে কথা বললে কিন্তু চাপাতি রেডি আছে। স্টপ ফোকাসিং।
কীভাবে আপনি পিউরিফিকেশনে যাবেন?

পারিবারিক শিক্ষার গুরুত্ব অনেক, কারণ, প্রথমত মানুষ পরিবারেই বেড়ে ওঠে এবং নৈতিক শিক্ষার হাতেখড়ি পরিবার থেকেই হয়।
কী শিখায় আমাদের পরিবার? তার উপর কি কোন গবেষণা আছে?
কয়জনের মাতা-পিতা সন্তানের টাকার উৎস সম্পর্ক খোঁজ নেয়?
কয়জনের মাতা-পিতা সন্তানকে অন্যের প্রতি সহনশীল হতে শিখায়?
এদেশের কয়টা পরিবারে ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক এবং অন্যান্য অনেক হিংসাত্বক আলোচনা হয় না?

এরপর পদে পদে আছে বঞ্চনা। পড়া পারেনি বলে দাও মাইর, অথবা অপমান।
আচ্ছা, পরিণত বয়সে আমরা অপমান হজম করতে পারি না, তাহলে একটা শিশু কীভাবে অপমান সহ্য করবে?
আমরা কি ‘না’ সহ্য করতে পারি? তাহলে একটা শিশু কীভাবে ‘না’ সহ্য করবে?
অর্থাৎ, আমাদের বেড়ে ওঠার পদ্ধতিতে গলদ রয়েছে। সবজায়গায় নিষেধাজ্ঞা। প্রতিটি পৃষ্ঠায় নিষেধাজ্ঞা। ক্ষমার আদর্শ আমাদের সমাজে একেবারেই নেই। ভিড়ের মধ্যে পায়ে পাড়া লাগলে আমরা খেকিয়ে উঠি, কাজের মেয়ের ন্যূনতম ভুল ভ্রান্তিতে শাস্তির ব্যবস্থা করি। স্বামী স্ত্রী সামান্য বিষয় নিয়ে তুলকালাম বাধিয়ে দেয়। প্রেমিক প্রেমিকাকে রাস্তার মাঝে চড় থাপ্পড় দিচ্ছে দেখা যায়।
মুখে বলি- ভালবাসি, কিন্তু ভালবাসার মানুষটার কোন বিচ্যুতি ক্ষমার চোখে বা মানবীয়ভাবে দেখতে পারি না, হত্যা পর্যন্ত করে বসি।

এখানেই তো শেষ নয়। বাড়ি যাবেন? স্বস্তিতে যেতে পারবেন না। কারণ, অব্যবস্থাপনা।
পাসপোর্ট করবেন? স্বাভাবিকভাবে করতে পারবেন না, কারণ, অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতি।
ব্যাংক থেকে লোন করবেন? সোজা পথে করতে পারবেন না। কারণ, দুর্নীতি।
পুলিশের কাছে কোন বিষয় নিয়ে অভিযোগ করতে যাবেন? মাইনকা চিপায় পড়ে যাবেন। কারণ, দুর্নীতি। বাজার থেকে ফল কিনতে যাবেন? নিশ্চিন্তে কিনতে পারবেন না, কারণ, ফরমালিন।
অর্থাৎ, আপদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্থ একটা জাতি আমরা একে অপরের লাইফ হেল করে দিচ্ছি, অবশেষে কেউ ভাল নেই।

এর সাথে চোখের সামনে চলে এসেছে আচমকা সবকিছু। পাড়ার দোকানেও এখন স্পিড/টাইগার (পানীয়), আইসক্রিম ইত্যাদি মোড়কজাত পণ্য পাওয়া যায়, যদিও কেরোসিন তেল সহজে কিনতে পাওয়া যায় না এখন। মোড়কজাত পণ্য বেঁচে যদি দশ টাকায় দশ টাকা লাভ হয়, তাহলে দোকানি কষ্ট করে কেরোসিন তেল বেঁচতে যাবে কেন? কিন্তু কেরোসিন তেলের চাহিদা কিন্তু এখনো ফুরিয়ে যায়নি। চোখের সামনে বিভিন্ন বাহারি পণ্য, টিভি/ফ্রিজের মত দারকারী পণ্য, সবাই তো চাইছে এসব, কিন্তু সামার্থ সবার নেই; তৈরি হচ্ছে অস্থিরতা। যে যার মত করে যেভাবে হোক পয়শা করতে চাচ্ছে, তাতে মানব পাচার করেই হোক, অথবা পারলে কাউকে খুন করে। চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে সমাজের সর্বত্র।
ধনীরাও ভাল নেই, নিরাপদে নেই। কীভাবে থাকবে? রবীন্দ্রনাথ তো খুব সহজে বলেছেন-
“যাকে তুমি নীচে ফেল, সে তোমারে বাঁধিবে নীচে,
পশ্চাতে রেখেছ যারে, সে তোমারে পশ্চাতে টানিছে । ”

এভাবে কি ভালো থাকা যায়? ভিক্ষুককে ভিক্ষা না দিলেই কি সমাধান হয়? গাড়িটা আপনি কোথায় রাখবেন? রিক্সার আঁচড় কাটা কীভাবে ঠেকাবেন? এইসব রাস্তা দিয়েই তো আপনাকে চলতে হবে। অভুক্ত মানুষেরা, জীবনের কাছে পরাজিত মানুষের হঠাৎ কোন কারণে হিংস্র হয়ে উঠবে না সে গ্যারান্টি আপনি কেন চাচ্ছেন?

এভাবে হচ্ছে না, এভাবে হবে না। পথ বাতলাতে হবে, নইলে সমূহ বিপদ। পদে পদে বিপদ। ভয়ংকর এক সময়ের মধ্যে আছি আমরা। বালির মধ্যে মুখ গুজে থাকা আর কতক্ষণ? কিন্তু কীভাবে কিছু করা যাবে? কোন যাদুর কাঠি কি কারো কাছে আছে? থোকলে বের করো, প্লিজ।

[একটি জাতি পরিচালিত হয় কিছু দর্শন দ্বারা, প্রত্যেক জাতির উৎকষের পিছনে দার্শনিক সমাজের ভূমিকা অগ্রগণ্য। আমাদের সমাজেও দার্শনিক আছেন। কিন্তু আমরা তাদের গ্রহণ করতে পারিনি। আমরা রবীন্দ্রনাথকে গ্রহণ করতে পারিনি, আমরা লালনকে গ্রহণ করতে পারিনি, আমরা নজরুলকে গ্রহণ করতে পারিন, আমরা আমাদের আলোকিত মানুষদের গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছি। কেন ব্যর্থ হয়েছি, সেটি আলোচনা করতে গেলে অনেক অপ্রিয় বিষয় চলে আসবে। কিন্তু এটা স্পষ্ট যে দর্শনহীন একটি জাতি আমরা অন্ধকারে হাতড়ে বেড়াচ্ছি হাজার টন ওজনের কয়েক দিস্তা নিষেধাজ্ঞার দলিল কাঁধে নিয়ে। এভাবে আর কতকাল?

view this link
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ৯:৪৭
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১০



বিএনপির সামনে অনেক কঠিন সব চ্যালেঞ্জ...

তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে দ্বিমুখী বিরোধী-দলীয় রাজনীতি বা কর্মকাণ্ড (যেটা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি)।

জামাত-এনসিপি যতই লীগের ফিরে আসার বিরুদ্ধে বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৫



আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×