somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি যে কারণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি’র উপর ভ্যাট আরোপের 'পক্ষে'

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৪:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার পরিচিত এবং আত্মীয়ের মধ্যে কয়েকজন রয়েছে, যারা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। কথাটা থারাপ শুনালেও সত্য যে, এদের কারোরই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যোগ্যতা নেই, এবং পড়ার প্রয়োজনও নেই। এদের একজনে আর্কিটেকচারে পড়ে। আর্কিটেকচারে পড়ার মেধা তার নেই, স্রেফ টাকা দিয়ে নাম কামাইতে গেছে। বাপের নাভিশ্বাঃস উঠিয়ে ছাড়ছে। আরেকজন পড়ে ফ্যাশন ডিজাইনে, তার পিতা নেই, আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পড়তে হয়, কী পড়ছে, তা সে নিজেই জানে না। তার এইসএসসি’র রেজাল্টও আঁতকে ওঠার মত, বিজ্ঞান থেকে সি গ্রেডে পাশ করেছিল সে। এরকম অনেক উদাহরণ আছে। ভাল শিক্ষার্থী কিন্তু প্রাইভেটে পড়েছে, এরকম উদাহরণ খুবই কম। বেশিরভাগ টাকা দিয়ে স্টাট্যাস কিনতে যায় ওখানে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবসার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি, এ বক্তব্য হাতে গোনা দু’একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে খাটতে পারে, যদিও আমি বিশ্বাস করতে রাজি নই। সত্য হচ্ছে- প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আর পাঁচটা ব্যবসার মতই, অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় তো রীতিমত সার্টিফিকেট বিক্রীর দোকান।
আমার এক ছাত্র এইসএসসি পাশ করার পর ইংল্যান্ডে চলে গিয়েছিল, ওখানে গিয়ে কাজ করেছে, কিন্তু পড়াশুনা করা হয়নি। দেশে এসে ওর মনে হয়েছে- পড়াশুনা করা দরকার। এর মাঝে হঠাৎ ও আবিস্কার করেছে- যেহেতু এইসএসসি পাশের পর ইতিমধ্যে চার বছরের বেশি সময় চলে গিয়েছে, তাই এখন ইচ্ছে করলেই কোনো একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সার্টিফিকেট নিয়ে নেওয়া যায়। ও উত্তরার কোনো একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ’র সার্টিফিকেট ম্যানেজ করে, এবং কিছুদিন পরে মালয়শিয়ায় চলে যায়। এরকম উদাহরণ আছে ভুরি ভুরি, ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে, তারপর ঘুষ দিয়ে চাকরি ম্যানেজ করে নিচ্ছে না, তারই বা প্রমাণ কোথায়? সার্টিফিকেট বিক্রীর মত ভয়ংকর একটি বিষয় প্রাইভেট ভার্সিটির সাথে জড়িত রয়েছে।

সেদিকে আর না গেলাম। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সমাজে কতটা অস্থিরতা তৈরি করেছে, সে বিষয়ে আসি।

কিছুদিন আগে আমার এলাকার এক গার্ডিয়ান তার ছেলেকে নিয়ে আমার কাছে এসেছিল পরামর্শ নিতে, ছেলে বায়না ধরেছে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে। পিতার সামার্থ নেই, ছেলে এক বিঘা জমি বিক্রী করে ভর্তি করাতে বলেছে। পিতা বুঝে উঠতে পারছে না। আমি ঐ ছেলে এবং পিতা দু’জনকে বুঝানোর চেষ্টা করলাম। এই বলে বুঝানোর চেষ্টা করলাম যে- একটা চাকরি করার সামার্থ অর্জন করার জন্য আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াই লাগে না, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে এত টাকা খরচ করে পড়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। শেষ পর্যন্ত আমার বুঝানো কাজে আসেনি। পিতা জমি বেঁচতে বাধ্য হয়েছে। এই অস্থিরতার দায় কে নেবে? লাগামহীন শিক্ষা ব্যবসার জন্যই এটা হয়েছে। সমাজের মানুষ এখন স্ট্যটাস খুঁজছে সবকিছুতে, সেই সুযোগটাই নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটি সবচেয়ে বেশি ঘটছে। কোনোমতে এইসএসসি পাশ করে যেকোনো একটি এপার্টমেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পরিচয় দিচ্ছে- বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। পিতা-মাতারাও কিছুদিন গর্ব করছে, কিন্তু অচিরেই অন্ধকার দিকটা বেরিয়ে আসে, পরিবারে তৈরি হচ্ছে অশান্তি।
যে কোনো মূল্যে এখন এই কালচার বন্ধ করা দরকার। মানসিক সামার্থ না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার দরকার নেই, এটি বুঝালে কেউ বুঝবে না, তাই বিভিন্ন শর্তারোপের মাধ্যমেই লাগাম টেনে ধরতে হবে, সেক্ষেত্রে করারোপ অবশ্যই একটি উপায় হতে পারে, তবে সরকারের উচিৎ ছিল ভ্যাট ইম্পোজ করার আগে আরো অনেক বিচার-বিশ্লেষণে যাওয়া। তবে এই চাপটা কেন শিক্ষার্থীরা নিচ্ছে সেটি আমার বোধগম্য নয়, চাপটা দেওয়া হয়েছে মালিকদের উপর। ছাত্ররা চাপ অনুভব করবে টিউসন ফি বাড়ালে এবং তাদের আন্দোলনও করতে হবে তখন, এবং আন্দোলনটা করতে হবে মালিকদের বিরুদ্ধে, সরকারের বিরুদ্ধে নয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:৫৫
৯টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

ফ্যাসিস্ট আমলে পুলিশকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল- এ অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার অংশ।
জুলাইয়ের পর- সেই পুলিশ কি সত্যিই বদলেছে, নাকি শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×