somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের শুধু কলসির দুধ ঘটে ঢালতে শেখাচ্ছে

২৭ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৯:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি সব সময় দ্বিতীয়বার ভরতি পরীক্ষার সুযোগ থাকার পক্ষে ছিলাম। এতে অন্তত ছেলে মেয়েদের কিছু পড়াশুনা হত। অনেক ছেলে-মেয়ে এক বছর যাবত পাগলের মত পড়াশুনা করত, পড়াশুনাটা বোঝার চেষ্টা করত। স্কুল কলেজের পড়াশুনার যে করুণ দশা, ও দিয়ে কিছুই করা যায় না। ভরতি পরীক্ষার চাপে ছেলে মেয়েদের কিছু পড়াশুনা অবশ্যই হত।
এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ না থাকায় ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। খ ইউনিটে (মানবিক) পাশ করেছে মাত্র ১৪%। ভয়ঙ্কর রেজাল্ট! খ ইউনিটের প্রশ্নটি আমি দেখেছি। পাশ করা যাবে না এমন কোনো প্রশ্ন ওটি নয়। অথচ পাশ করেছে মাত্র ১৪%। দেশের মানবিক বিভাগের সেরা ছাত্র-ছাত্রীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভতি পরীক্ষা দিয়েছে, তাদের অবস্থা যদি এই হয়, তাহলে যারা পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্যতাই অর্জন করেনি, তাদের অবস্থা কি?
আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে এবারের ভতি পরীক্ষার এই রেজাল্টের মধ্য দিয়ে। শুধু খ ইউনিট নয়, গ ইউনিট (বাণিজ্য) এবং চ ইউনিটেরও (চারুকলা) একই অবস্থা। ১৩৫ আসনের বিপরীতে চ ইউনিটে পাশ করেছে মাত্র ১৪৯ জন। অনুমান করে বলা যায় ক ইউনিটের (বিজ্ঞান) অবস্থা হবে আরো ভয়াবহ।
ছাত্রাবস্থায় আমি প্রচুর টিউশনি করেছি। দেখেছি, আমাদের পিতা-মাতারা অন্ধের মত সন্তানদের নিয়ে ছুটোছুটি করে, কিন্তু আসল জায়গায় ফাঁক থেকে যায়। শুধু মুখস্থ করার দিকে মনোযোগ, পরীক্ষায় কি আসবে সেদিকে ঝোঁক, ফলে বেসিক পড়াশুনাটাই তাদের হয় না। বাংলা, অংক, ইংরেজি -এই তিনটি বিষয় স্কুল লেভেলেই দক্ষতা চলে আসার কথা, অথচ পড়াশুনায় শেষ হয়ে যায়, কিন্তু বেসিক অংক, ইংরেজি, বাংলা শেখা হয় না। অনার্স মাস্টার্স পাশ করার পরও এগুলো শিখতে কোচিং এ দৌঁড়ানো লজ্জাজনক। তাই বলে বর্তমান বাস্তবতায় এক ফুতকারে কোচিং উড়িয়ে দেওয়ারও সুযোগ নেই। কিছু কোচিং সেন্টারে যে মানের শিক্ষকরা পড়ায় সেই মানের শিক্ষক এদেশের স্কুল কলেজে নেই। জীবিকার তাগিদে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সেরা ছাত্র কোচিং সেন্টারে পড়ায়, বিশেষ করে ভর্তি কোচিং-এ। পাশ করার পরে এদের বেশিরভাগ শিক্ষকতা পেশায় যায় না। কিছুদিন কোচিং-এ পড়িয়েছে বলেই ছেলে-মেয়েরা তাদের কাছে কিছুদিন পড়ার সুযোগ পেয়েছে। বুয়েটের কোন শিক্ষার্থী স্বাভাবিকভাবেই স্কুল/কলেজের শিক্ষক হবে না, কিন্তু ছাত্রাবস্থায় এদের অনেকেই কোচিং সেন্টারে পড়ায়। তাই ঢালাউভাবে কোচিং সেন্টারের বিরোধিতা করার সুযোগ নেই। আমি নিজেও ভরতি কোচিং করিয়েছি। পড়াতে গিয়ে বুঝেছি কলেজ পাশ করার পরও আমাদের তেমন কিছুই শেখা হয় না। কোচিং সেন্টার শিক্ষা ব্যবস্থার ভয়ঙ্কর এক গলদ নিঃসন্দেহে, কিন্তু কোচিং-এর সুযোগ তৈরি হয়েছে স্কুল কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণেই। মেরুদণ্ড বাঁকা হলে হাতে লাঠি লাগে। পিঠ সোজা করতে না পারলে লাঠিটাই সম্বল হয়ে দাঁড়ায়। আমাদেরও হয়েছে সেই দশা, সবাই ধরেই নিয়েছে স্কুল-কলেজে কোনো পড়াশুনা হবে না। কি ভয়ঙ্কর কথা! দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মূলধারা থেকে কিছুই পাওয়া যাবে না! তাহলে? তাহলে এমনই হওয়ার কথা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভরতি পরীক্ষা আন্তর্জাতিক মানের কোনো পরীক্ষা নয় বলেই আমার সব সময় মনে হয়। বিশেষ করে খ ইউনিট এবং গ ইউনিটের ভরিতি পরীক্ষায় মারাত্মক গলদ রয়েছে। গণিত, এনালিটিক্যাল এবিলিটি এবং মানসিক দক্ষতার প্রশ্ন ব্যতীত একজন শিক্ষার্থীরা মেধা যাচাই সম্ভব নয়। শুধু বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান দিয়ে মুখস্থ বিদ্যা ছাড়া তেমন কিছু যাচাই করা সম্ভব নয়। বারো বছর মুখস্থের উপর থেকেও যখন সেই বিদ্যাটা আমরা অর্জন করতে পারি না, তখন বুঝতে হবে কলসির দুধ ঘটে ঢালা ছাড়া এই শিক্ষা ব্যবস্থা আসলে কিছুই আমাদের শেখাচ্ছে না।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১০:৩৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তার যতসব অপরাধ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



আজ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বলতে গেলে সব মিডিয়াতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ উঠেছে। উহা দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেয়ার বাজারকে গতিশীল করতে স্টক ব্রোকারদের নিয়ে বৈঠকে বসছে ডিএসই আজ ১৪-০৯-২০২৬

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭



বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে মন্দার কারণ ও প্রতিকার

ভূমিকা

একটি দেশের অর্থনীতিকে যদি একটি জীবন্ত দেহ হিসেবে কল্পনা করা হয়, তবে তার শেয়ারবাজার অনেকটা হৃদস্পন্দন ও তাপমাত্রা মাপার যন্ত্রের মতো। অর্থনীতির কোথায় প্রাণশক্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×