somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এভাবে সবাই তলিয়ে থাকছে অতলে সদলবলে

১৮ ই জুন, ২০১৬ রাত ৮:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি কোনোভাবেই মনে করতে পারছি না যে এদেশের প্রধান সমস্যা জঙ্গীবাদ। বিগত কয়েক দিনের কয়েকটি ঘটনা মনে করলেই বোঝা যাবে তা।

তার আগে একটি ঘটনা বলি, মহাখালি বাসস্টান্ডের পাশ দিয়ে আসছিলাম, হঠাৎ দেখি রাস্তার পাশে একটি লোক মরার মত পড়ে আছে। সারা গায়ে মাছি উড়ছে। মুখের পাশে মাছি ভন ভন করছে।

পাশে দিয়ে উন্মাদের মত মানুষ ছুটছে, একটু পরেই ইফতার, আশেপাশে তাকানোর ফুসরত মানুষের নেই। লোকটির পাশ ঘেষেই একটি দোকানে বিক্রি হচ্ছে ছোলা-বেগুনি-আলুটালু এইসব। যে যার মত কিনছে। কেউ একবার তাকিয়েও দেখছে না, সবার চোখগুলো আপন বৈশিষ্ট হারিয়ে বড্ড বেশি সররৈখিক হয়ে গেল, ত্রিমাত্রিকভাবে দেখার ক্ষমতা সবার দুই চোখ হারিয়ে ফেলল।

হতে পারে লোকটি নেশাখোর, হতে পারে লোকটি ভাগ্যহত, হতে পারে লোকটি সিনতাইয়ের স্বীকার, হতে পারে লোকটি পথের পাগল, অনেক কিছুই হতে পারে, কিন্তু পাশ দিয়ে হাজার হাজার ‘সুস্থ’ লোক নির্বিকার হেঁটে যাবে, তা কি হতে পারে? আমার কাছে জঙ্গীবাদের চেয়ে মানুষের এ মনস্তত্ত্ব বেশি ভয়ংকর ঠেকছে।

কয়েক দিন আগে খুলনায় ছিলাম। ওখানকার একটি স্থানীয় পত্রিকায় পড়লাম, মা নয় বছরের ছেলেকে খুন করিয়েছে, কারণ, ছেলে মায়ের বিবাহবহির্ভূত যৌনকর্ম দেখে ফেলেছে! খবরটি বিশ্বাস না হওয়ায় যাচাই করে নিশ্চিত হয়েছি। বিবাহবহির্ভূত যৌনকর্ম এবং তা দুর্ঘটনাক্রমে কেউ দেখে ফেলা বিস্ময়ের নয়, বিস্ময় হচ্ছে, মা ছেলেকে খুন করাচ্ছে ...

চট্টগ্রামের খবর হচ্ছে, ভাড়া ঠিকমত মেটাতে না পারায় এবং বাকবিতণ্ডা হওয়ায় সিএনজি চালক সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে দম্পতিকে কিলঘুষি মেরেছে, মহিলার কোলে থাকা আটমাসের বাচ্চাও রেহাই পায়নি, মারা গিয়েছে তৎক্ষণাত।

ফেসবুকেই দেখলাম, কাঁঠাল বিচি নিয়ে শিশুদের মধ্যের বিতণ্ডা বড়দের মধ্যে গড়িয়েছে, এবং দুইজন নিহত হয়েছে।

এগুলোকে আপনি কী বলবেন? এই অসহিঞ্চুতার ব্যাখ্যা কী? এ তো ধর্মীয় অসহিঞ্চুতা না, তাহলে এর ব্যাখ্যা কী দেবেন?

নেট থেকে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণাপত্র পড়ছিলাম নিজের ভাবনার সাথে মিলিয়ে। দেখলাম, জন্মের পর একটি শিশু কীভাবে এবং কেমন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বেড়ে উঠবে, সে শিক্ষা প্রথমত সে পায় পরিবার থেকে, দ্বিতীয় পায় সমাজ তথা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে।

নৈতিকতার শিক্ষা, মানবিকতার শিক্ষা, সহিঞ্চুতার শিক্ষা আমাদের সমাজে একেবারেই অনুপস্থিত। ধর্মের নামে শিশুবয়স থেকেই শত্রু চেনানো হচ্ছে, পরিবার পদে পদে শেখাচ্ছে কিভাবে বৈষয়িক লাভ করতে হয়, কিভাবে অন্য শিশুদের ছোট ভাবতে হয়। শেখাচ্ছে কিভাবে অন্যের চেয়ে বেশি মার্কস পেয়ে গর্ব করতে হয় ...

পুরো সমাজটাই হয়ে উঠেছে অভদ্র, অসভ্য। সুযোগ পেলেই একে অপরের দিকে তেড়ে যাচ্ছে, অল্পতে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, রাস্তায় বেরোলেই দেখা যায় দুজন রিক্সালার বাকবিতণ্ডা, খুব তুচ্ছ কারণে তারা একে অপরের দিকে তেড়ে যাচ্ছে, অথচ দু’জনই রিক্সালা।

গাড়িতে রিক্সার ছোঁয়া লাগতেই মালিক চালকসহ নেমে এসে রিক্সালার ঘাড় মটকাছে, রিক্সালা আবার এর শোধ তুলছে কোনো নিরীহ যাত্রীকে হয়রানি করে। পুরো সমজাটা চলছে শোধ প্রতিশোধের মধ্য দিয়ে।

জঙ্গীবাদ তো রাজনৈতিক বিষয়, রাজনৈতিকভাবে যা মোকাবেলা করা সম্ভব, যদি সরকার তা চায়, কিন্তু সামাজিক এ সমস্যাগুলো তড়িৎ মোকাবেলা করা যায় না, এর জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা দরকার।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এবং টেলিভিশনের অনুষ্ঠানের মধ্যে দরদ-ভালবাসা-মানবিকতা-সহিঞ্চুতার শিক্ষা পরোক্ষভাবে থাকা দরকার। কিন্তু তা নেই। চটুল বিষয় নিয়ে চলছে আমাদের গণমাধ্যম।

স্কুলের পাঠ্যবই পরিকল্পিতভাবে তৈরি হচ্ছে না। কনটেন্ট এবং কনসেপ্টের চেয়ে সেখানে গুরুত্ব পাচ্ছে লেখকের নাম-পরিচয় এবং রাজনৈতিক বিষয়।

এর বাইরে মাদ্রাসায় এক কোটি শিক্ষার্থী কঠোর-কঠিন পরিবেশে যা পড়ছে, তা একজন মানুষকে টেনে তোলে না, বরং অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

গ্রামে গিয়ে দেখলাম, মানুষের হাহাকার; এ হাহাকার বড় হবার নয়, এ হাহাকার বেদনার নয়, এ হাহাকার মানব জীবনের অবশ্যম্ভাবি শূন্যতার নয়। এ হাহাকার অহংকার করার জন্য, উদ্ধত হবার জন্য, সুযোগ পেলেই তারা তা করছে, অন্যকে ছোট করার জন্য সবাই যেন মুখিয়ে আছে। এভাবে সবাই তলিয়ে থাকছে অতলে সদলবলে।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০১৬ রাত ৮:১৬
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×