আমি ঘুমকাতুরে একটা ছেলে। খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতেই ইচ্ছা করে না। ঢাকা শহরে বাঁচার তাগিদে কাজ করে খেতে হয়। আমার অফিস টাইম সকাল ৮ টা। একজন ঘুম কাতুরে মানুষের জন্য এই সময়টা ভোর রাত। ভোর রাতে তো ঘুম কোন ভাবেই ভাঙ্গতে চায় না। বুদ্ধি করে আমার ঘড়ির টাইম ১ ঘন্টা আগায় দিলাম। টেকনিক্যালি আমি অফিসে যাই ৯ টার সময়। পৌনে ৯টা পর্যন্ত ঘুমাইলেও মনকে সান্ত্বনা দেয়া যায় যে, অনেক ঘুমাইছি। মানসিকভাবে একটা সান্ত্বনাও পাই। সারাদিনে কম ঘুমানোর জন্য আফসোসও হয় না আবার বসের টাইম অনুযায়ী ৮টায় অফিসও করি।
আমাদের সুখ-দুঃখ মনের উপরেই নির্ভর করে। আমি যত বেশি আমার মনকে সলিমবুঝ দিয়ে রাখতে পারবো, আমার সুখ তত বেশি হবে। আমরা অনেক সময়ই বলি যে, এই মানুষটা আমাকে ঠকাইছে/এই জিনিসটা কিনে আমি ঠকছি/ উমুক জনকে বিশ্বাস করি না। আসলে ঠকা ব্যাপারটা পুরোটাই আমাদের মানসিক। ধরি, আমি দোকান থেকে একটা কলম কিনলাম ১০০ টাকা দিয়ে। কেনার পরে আমি খুব খুশি এই ভেবে যে, কলমটা সুন্দর আর এর দাম ১০০ টাকা ঠিকই আছে। কিন্তু যদি আমি কলমের দাম যাচাই করার জন্য অন্য একটা দোকানে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারি এর দাম আসলে ৫০ টাকা, ঠিক ওই মূহুর্তেই আমি ৫০ টাকা ঠকলাম। এই ৫০ টাকা ঠকার কারণে মানসিকভাবে শান্তি পাবো না । আমি যদি কলমের দাম যাচাই না করতাম তবে কিন্তু আমি কখনোই ঠকে যেতাম না ।
বিশ্বাস-অবিশ্বাসের ব্যাপারটাও ঠিক এরকম। আমি ততোক্ষণ পর্যন্ত একটা মানুষকে বিশ্বাস করবো যতক্ষণ পর্যন্ত তার প্রতারণা আমার কাছে প্রকাশিত না হয়। আমি যদি মনে মনে ধরেই নেই যে, মানুষটা আমার সাথে মিথ্যা বলছে/ আমাকে ঠকাচ্ছে (আদৌতে হয়তোবা না), তবে শুধু শুধুই আমি মনে কষ্ট পাবো। এই কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়ার একটাই উপায় হচ্ছে মনের মধ্যে অবিশ্বাসের বীজ বপন হইতে না দেয়া। যত পারি, মনকে সলিমবুঝ দিয়ে রাখি। বিশ্বাস করে প্রতারিত হলে তা জীবনের একটা দুর্ঘটণা ভেবে আবার নতুন করে সামনের দিকে আগাই। এক্সিডেন্ট সহ্য করা যায়, কিন্তু অবিশ্বাস বুকে নিয়ে মানুষটির সাথে সারাজীবন বসবাস করার পেরা কোনভাবেই সহ্য করা যায় না।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




