আজও তাহলে রাতটা কাটবে অনিদ্রায়।
একটি একটি করে পল, মুহূর্ত, ক্ষণ ও দণ্ড পার হবে বিশুদ্ধ বিস্ময়ে।
আজকাল বড় বেশী ভয় করে পরবর্তী সময়টিকে।
আচ্ছা,
এর নামই কী পক্ষাঘাত???
নিদ্রাহীন সময়গুলো কাটে খুব ধীরে।
অথচ প্লাবন কিংবা ঝড়ের পরবর্তী সময়গুলো কত দ্রুতই না কেটে যায়...
সময়ের সাথে আমার জন্মের আড়ি।
তাই বুঝি তার এমন শিষ্টাচার।
বাইরে বৃষ্টি বন্ধ হয়েছে।
কিন্তু রয়ে গেছে রেশ।
উপুড় করা গামলা থেকে পানির শেষ ফোঁটাগুলো এখনও ঝরছে।
কতদিন আমি জানালা খুলিনা.....গরাদের ফাঁকে হাত গলিয়ে দিইনা বৃষ্টি ধরব বলে...
তাহলে কি আহ্লাদেরাও পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে গেছে???
ঘুমহীন রাতগুলো ঝুড়ি ঝুড়ি কল্পনা করে পার করে দিই।
কল্পনায় কত অজানা, অদেখা জায়গায় যাওয়া যায়...!
আমি বহুবার বৃষ্টিতে নেচেছি কল্পনায়- “নিঃসমি শূণ্যে...শ্রাবণ বর্ষণ সঙ্গীতে.....”
মেঘের সব আষ্ফালন, সব চোখ রাঙানো উপেক্ষা করে আমি অবাধ্য উন্মত্ত দাদরায় মগ্ন হয়েছি....!
কতবার ট্রেনের ছাদে চড়েছি!
কি ভীষণ! কি ভীষণ!! কি ভীষন দস্যি আনন্দ!!!
দস্যু বাতাসের সাথে হুল্লোড়!!
কতবার বালির ঢিপির উপড় লাফিয়ে আছড়ে পড়েছি!
ছোটবেলায় অসম্ভব প্রিয় ছিল খেলাটা...!
শৈশব এমনি এক অদ্ভুত জায়গা যে,
একবার চলে এলে সেখানে আর কখনোই যাওয়া যায়না;
এমনকী কল্পনাতেও!!
একবার এক ভন্ড সাধু এসেছিল আমার রাজ্যে।
যোদ্ধা-রাজপুত্রের বেশে!
স্পর্ধা ভরে বলেছিল, “রাণী, রাজ্য চাই। রাজত্ব করব।”
আমি তার সাহসে চমৎকৃত হয়েছিলাম..
আমি দম্ভভরে তাকে অনুমতি দিয়েছিলাম আমার রাজ্যে প্রবেশ করতে!
আমার অহম ছিল, আমারই শরীরের অশ্রু দিয়ে গড়া বিষম অশ্রু-প্রাচীর ভেদ করে আমারই সাথে সম্মুখ যুদ্ধের মুরদ কোন বীরের নেই..!
কিন্তু ঐ সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধই ঘোষণা করলনা!
সে কবিতা শোনাত আমাকে.....!
আমি মুগ্ধ হয়ে শুনতাম- মুগ্ধ হতাম তার হাসিতেও!
তখন আমার চিত্রাঙ্গদা হবার সাধ হয়েছিল ভীষণ.....!!
রাজকীয় হিসেব-নিকেশ ভুলে আমি ভাবতাম কবিতাগুলো আমার....!
অথচ,
উপনিবেশে পোড়া মাটির সন্তান হয়েও আমি বর্গী আর কবির তফাৎ বুঝিনি!
বুঝিনি সে অর্জুন নয়!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



