somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনিদ্র কথন

১৭ ই আগস্ট, ২০১৪ দুপুর ২:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজও তাহলে রাতটা কাটবে অনিদ্রায়।
একটি একটি করে পল, মুহূর্ত, ক্ষণ ও দণ্ড পার হবে বিশুদ্ধ বিস্ময়ে।

আজকাল বড় বেশী ভয় করে পরবর্তী সময়টিকে।
আচ্ছা,
এর নামই কী পক্ষাঘাত???

নিদ্রাহীন সময়গুলো কাটে খুব ধীরে।
অথচ প্লাবন কিংবা ঝড়ের পরবর্তী সময়গুলো কত দ্রুতই না কেটে যায়...
সময়ের সাথে আমার জন্মের আড়ি।
তাই বুঝি তার এমন শিষ্টাচার।

বাইরে বৃষ্টি বন্ধ হয়েছে।
কিন্তু রয়ে গেছে রেশ।
উপুড় করা গামলা থেকে পানির শেষ ফোঁটাগুলো এখনও ঝরছে।

কতদিন আমি জানালা খুলিনা.....গরাদের ফাঁকে হাত গলিয়ে দিইনা বৃষ্টি ধরব বলে...
তাহলে কি আহ্লাদেরাও পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে গেছে???

ঘুমহীন রাতগুলো ঝুড়ি ঝুড়ি কল্পনা করে পার করে দিই।
কল্পনায় কত অজানা, অদেখা জায়গায় যাওয়া যায়...!

আমি বহুবার বৃষ্টিতে নেচেছি কল্পনায়- “নিঃসমি শূণ্যে...শ্রাবণ বর্ষণ সঙ্গীতে.....”
মেঘের সব আষ্ফালন, সব চোখ রাঙানো উপেক্ষা করে আমি অবাধ্য উন্মত্ত দাদরায় মগ্ন হয়েছি....!

কতবার ট্রেনের ছাদে চড়েছি!
কি ভীষণ! কি ভীষণ!! কি ভীষন দস্যি আনন্দ!!!
দস্যু বাতাসের সাথে হুল্লোড়!!

কতবার বালির ঢিপির উপড় লাফিয়ে আছড়ে পড়েছি!
ছোটবেলায় অসম্ভব প্রিয় ছিল খেলাটা...!
শৈশব এমনি এক অদ্ভুত জায়গা যে,
একবার চলে এলে সেখানে আর কখনোই যাওয়া যায়না;
এমনকী কল্পনাতেও!!


একবার এক ভন্ড সাধু এসেছিল আমার রাজ্যে।
যোদ্ধা-রাজপুত্রের বেশে!
স্পর্ধা ভরে বলেছিল, “রাণী, রাজ্য চাই। রাজত্ব করব।”
আমি তার সাহসে চমৎকৃত হয়েছিলাম..
আমি দম্ভভরে তাকে অনুমতি দিয়েছিলাম আমার রাজ্যে প্রবেশ করতে!
আমার অহম ছিল, আমারই শরীরের অশ্রু দিয়ে গড়া বিষম অশ্রু-প্রাচীর ভেদ করে আমারই সাথে সম্মুখ যুদ্ধের মুরদ কোন বীরের নেই..!

কিন্তু ঐ সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধই ঘোষণা করলনা!
সে কবিতা শোনাত আমাকে.....!
আমি মুগ্ধ হয়ে শুনতাম- মুগ্ধ হতাম তার হাসিতেও!

তখন আমার চিত্রাঙ্গদা হবার সাধ হয়েছিল ভীষণ.....!!

রাজকীয় হিসেব-নিকেশ ভুলে আমি ভাবতাম কবিতাগুলো আমার....!
অথচ,
উপনিবেশে পোড়া মাটির সন্তান হয়েও আমি বর্গী আর কবির তফাৎ বুঝিনি!
বুঝিনি সে অর্জুন নয়!
৯টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×