somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তবু জয় হবে বাংলার, জয় হবে জনতার...!!!!

২৪ শে অক্টোবর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরে নাই..
গোলাম আযম মরিয়া প্রমাণ করিল তাকে শাস্তি দিবার মুরোদ আমাদের নাই।

কারবালার যুদ্ধে এজিদ-সীমারের নৃশংসতা গোটা দুনিয়ায় কুখ্যাত। এজিদ ও তার বাহিনী ছিল ঐ যুদ্ধে বিজীত শক্তি। তাই আভ্যন্তরীণভাবেও তার বিচার করারও কেউ ছিলনা, আবার আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধের আওতায়ও তার বা তার বাহিনীর বিচার সম্ভব ছিল না। অথচ এজিদ যোদ্ধা ছিলনা। সশস্ত্র সম্মুখ যুদ্ধের কোন নিয়ম মেনে, কোন কৌশলে সে জয়ী হয়নি। ডাহা মিথ্যা কথা আর প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিল এজিদ। নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল ইমাম হোসেন, তাঁর পরিবারের নারী ও শিশুদের। বিজেতা হয়েও আজকে জগতজুড়ে অসম্ভবতম অমানবিকতার নাম- হিসেবে ঘোষিত হয় এজিদ/সীমারদের নাম। দুনিয়াজুড়ে মানুষের অন্তরের সবটা ঘৃণা, ঘৃণা আর ঘৃণা সেই সীমার-এজিদের জন্য।

আজ থেকে ২৫৭ বছর আগে পলাশীর যুদ্ধে মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা সুবাদারী-বাংলার স্বাধীনতার শেষ নিঃশ্বাসটাও মাটিতে পুঁতে ফেলেছিল। বিশ্বাসঘাতকতা আধুনিক পিনালকোড অনুযায়ী ঠিক “যুদ্ধাপরাধ” না হলেও গোটা বাংলার বাগধারায় পরিণত হয়েছে মীরজাফর। মীরজাফর আজ আর কোন ব্যাক্তির নাম না, বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশব্দ!

পাকিস্তানী মিলিটারীদের দেশপ্রেমিক, ঈমানদার, বন্ধু “রাজাকার” বাহিনীর বিশ্বাসঘাতকতা, পৈশাচিকতা, বর্বরতা, আমাদের মুক্তিবাহিনীকে পরাজিত করতে পারেনি, বীরাঙ্গনাদের পরাজিত করতে পারেনি, পরাজিত করতে পারেনি অসংখ্য চোখে ভাসা “বাংলাদেশ” নামক স্বপ্নটাকে। তবু জয়ী হয়েও, পরাজিত বাহিনীর নাটের-গুরু গোলাম আযমের শাস্তি আমরা দিতে পারিনি।
মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত তার মনেও এতটুকু অনুশোচনা জাগে নাই, একটা বার ক্ষমা চায়নাই। তার মগজে কোনদিন এই চিন্তা আসে নাই, আমার নিজের জন্য শেষ সাড়ে তিনহাত মাটিটা যে লাগবে, সেটাও এই বাঙালদেশের মাটি ফালা করে নেওয়া লাগবে। পশ্চিম পাকিস্তানের আমি এত ভাল বন্ধু ছিলাম, তাদের কাছে “দেশপ্রেমিক” ছিলাম, “সাচ্চা পাকিস্তানী” ছিলাম, অথচ আমার শেষ সাড়ে তিনহাত মাটিটা তারা আমাকে কোনদিন দিবে না! কোন বন্ধুত্বের বিনিময়েই দিবেনা!! দিবে বাংলাদেশ....! আমি সেই বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে চরম দম্ভের সাথে ঘোষণা করেছি আমি একাত্তরে যা করেছি ঠিক করেছি.....!!!!
সেই উদ্ধত মূর্তীকে আমরা পারলাম না আমাদের মুক্তি সংগ্রামের নামে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে!!! আমাকে, আমার অনাগত হাজারো প্রজন্মকে এই দুঃখ নিয়ে, এই ক্ষোভ নিয়ে অক্ষম বেঁচে থাকতে হবে, মরতে হবে।

স্রষ্টার নামে, সমস্ত শহীদ গেরিলাদের রক্ত আর সমস্ত জীবিত গেরিলাদের রাইফেলের শপথ, গোলাম আযম নামের সুতাক্রিমিটাকে আমরা ক্ষমা করলাম না! কোনদিনের জন্যেও না!

আজকে থেকে গোলাম আযম- রাজাকার লীডার- স্রষ্টার কুক্ষণে সৃষ্ট এই প্রাণীটি সারা বাংলা শুধু ঘৃণার প্রতিশব্দ হবে। লবণের মত ভালোবসি’র মত, ডিভোর্স বা ব্রেকআপের পর একজন আরেকজনকে বলবে আমি তোমাকে গোলাম আযমের মত ঘৃণা করি, তোমার মুখ দেখতে চাই না... মাকড়সা, তেলাপোকা বা কাঁকড়া দেখে মানুষ আঁতকে উঠে বলবে, ছি ছি, একদম গোলাম আযমের মত..!!!

বাংলা ও বাঙালিত্বে বিশ্বাসী প্রতিটা মানুষের কাছে গোলাম আযম এখন থেকে ঘৃণার প্রতিশব্দ! ঔদ্ধত্বের প্রতীক, অসম্ভব পৈশাচিকতার প্রতীক, মুর্তীমান পাশবিকতা!!!
যে পাশবিকতাকে কখনো শুধু পিনাল কোডে প্রকাশ করা যায়না...
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুন্দর সর্বনাশ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২১



সবকিছুই পাওয়া যায় এখন বিপণনের কল্যাণে,
বিপনি বিতানে বিতানে;
চাইলে কিনে নিতে পারো লালনীলহলুদ মনও!

মন চাইলে পোষ মানাতে পারো বনের অবাধ্য পশুও;
শুধু পোষ মানাতে যেও না মানুষ;... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রীয় সফর, আম তারেক আর চার সিটের দূরত্ব!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৪

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নেপালে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। সস্ত্রীক আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। তখন কিশোর তারেক রহমানেরও শখ জাগল—তিনিও নেপাল যাবেন।

বাবা বুঝিয়ে বললেন, রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ মানেই পরিবারের সবাইকে রাষ্ট্রীয় টাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×