somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ডা: মেহেদী হাসান
স্রষ্টা আর তার সৃষ্টীকে ভালবাসি। অপ্রয়োজনের চেয়ে প্রয়োজনে থাকতেই স্বাছ্যন্দ্য বোধ করি। অন্যায় এবং অন্যায় কারী কে ঘৃনা করি। প্রকৃতিকে ভালবাসি আর কৃত্রিমত্তা কে অপছন্দ করি। যা আছে তাতেই সুখ খোজার চেষ্টা করি।

সলো ট্রাভেলিং টু থাইল্যান্ড এন্ড মালেইশিয়া (ভ্রমন কাহিনী)

১৫ ই মার্চ, ২০২১ রাত ৯:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লিখালিখি অনেক টা বন্ধ করে দিয়েছি বললেই চলে, তার জায়গাটা ভিডিও ইডিটিং কেড়ে নিয়েছে , অনেক দিন পর মোবাইলের নোট প্যাড এ লিখতে বসলাম। লিখালিখির প্রতি এত প্যাশনেট ছিলাম যে একটা ট্যাব শুদ্ধ কিনেছিলাম জাস্ট একটু ভালভাবে কমফোর্টলি লিখব বলে। আস্তে আস্তে পছন্দের জায়গা গুলো ক্ষীণ হয়ে আসছে আগের মত অতটা বিস্তৃত না।

আজ ইচ্ছা ভ্রমন কাহিনী লিখব, স্বভাবতই অনেক লম্বা হবে। যাদের খুব তাড়া, তারা স্কিপ করতে পারেন।

ভূটানের একটা ডকুমেন্টারি দেখে তার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম প্রথম বিদেশ ভ্রমন ভুটান দিয়ে শুরু করব আর তার সাথে বিশ্ব ভ্রমনকারী অনেক ওয়াইল্ড ট্রাভেলার দের মুখে ভুটান যেতে না পারার আক্ষেপ শুনে তো যাবার ক্ষুধা আরো বেড়ে গেল। কিন্তু না, হল না। হুট করেই মাথায় ভূত চাপলো থাইল্যান্ড, মালেশিয়া এন্ড সিংগাপুর ভ্রমনে যাবো। কোন কিছু তেমন চিন্তা না করেই সব ডকুমেন্টস রেডি করে ভিসার জন্য জমা দিয়ে দেই। দু সপ্তাহের মাথায়ই ভিসা রেডি। থাই ভিসা ২ দিনে আর মালেশিয়া ৮ দিনে। অফিস থেকে টানা লম্বা ছুটি পাব না ভেবে সিংগাপুর স্কিপ করলাম। প্ল্যান করলাম ডিসেম্বার এর লাস্ট উইকে ফ্লাই করব, কিন্তু ট্যুরের পিক সিজন হওয়ায় টিকেটের দাম এত বেশি ছিল যে পরবর্তী তে ট্যুর পেছাতে বাধ্য হই। শেষমেশ জানুয়ারির লাস্ট ডে থেকে ফেব্রুয়ারির ফার্স্ট উইক ফিক্স করে রাউন্ড টিকেট বুক করলাম "থাই এয়ার" এ প্রাইস কিছুটা কমেও পেলাম।

ডিসেম্বার থেকে ওয়েট করতে করতে জানুয়ারির মাঝামাঝি এসে অনুভূতি অনেক টা শুন্যের কোঠায় বলা যায়। মাঝে অফিসে কাজের এত প্রেশার ছিল যে আলাদা করে ট্রিপ নিয়ে ভাবার সময় টুকু পর্যন্ত পাই নি। ট্রিপের দুই দিন আগ পর্যন্তও জানতাম না আমি কি করতে যাচ্ছি কোথায় কোথায় যাচ্ছি। কাউচ সার্ফিং এ বেশ কিছু রিকুয়েস্ট পেলেও নতুন বাসা চেঞ্জ করেছি বলে কাউকেই হোস্ট করি নি। কিন্তু ফাইনালি সাউথ কোরিয়া থেকে রেক্স যখন রিকুয়েস্ট করল তখন আর না করতে পারি নি। কারন সে থাইল্যান্ড এ পুরো এক বছর ছিল, সেই সাথে পৃথিবীর প্রায় ৮৩ টা দেশ ভ্রমন করেছে। তার কাছ থেকে ভ্রমন এক্সপেরিয়েন্স শুনার লোভ সামলাতে পারিনি। রেক্স কে রিসিভ করতে স্টেশনে গিয়ে দেখি ইয়া বড় এক লাগেজ।

অবশ্য সে আমাকে আগেই বলেছিল তার বড় একটা লাগেজ আছে কিন্তু এতটা বড় ভাবি নি। তার আগে আমি ৭৫ টা দেশ ভ্রমন করেছে, একটানা ২ বছর ওয়াইল্ড ট্রাভেলিং করছে সে সব এক্সপেরিয়েন্স পেয়েছি বাট কারোরই এত বড় লাগেজ দেখি নি সবাই একটা ব্যাগ প্যাকের উপরই ছিল। কিন্তু রেক্স পুরাই আলাদা, পরে অবশ্য কারন টা বুঝতে পেরেছি, তার আগামী তিন বছর ধরেই ট্রাভেলিং করার প্ল্যান তাই ফোর সিজন ড্রেস তাকে সাথে রাখতে হয় তাই এত বড় লাগেজ।

রেক্স এর সাথে কিছুক্ষন কথা বলার পরেই বুঝতে পারলাম হি ইজ মাই টাইপ। আমি তাকে আগেই বলে রেখেছিলাম যে, আমি তাকে রেখেই লিভ করব। রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনাম, প্যারাগুয়ে, নেদারল্যান্ডস, সিঙ্গাপুর, মালেশিয়া সহ বেশ কিছু দেশের ওয়ার্ল্ড ট্রাভেলার দের হোস্ট করলেও এবারই প্রথম কোরিয়ান কাউকে হোস্ট করলাম। আমার কাছে তাকে অসাধারন মনে হয়েছে, মজার ব্যাপার হচ্ছে তারও জীবনের প্রথম সলো ট্রাভেলিং শুরু হয় থাইল্যান্ড দিয়ে তাই যখন সে শুনেছে আমারও সলো থাই দিয়ে সে খুব নস্টালজিক ভাবে তার সে সব ক্রেজি দিন গুলোর কথা স্মরন করে আমাকে প্রেরনা যোগাচ্ছিল। আমি যখন বললাম আমার কোন প্ল্যান ই নাই তখন সে নিজেই আমার গুগল ম্যাপ এ কোথায় কোথায় কিভাবে যাব সব প্লেস গুলো বুকমার্ক করে দিল। ইভেন আমার কি কি খাবার মাস্ট ট্রাই করা উচিৎ তাও সব ছবি প্রাইস এবং নাম সব হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দিল। এক দিন সময় দুজনে শুধু কথা বলেই পার করে দিলাম, রেক্স এর টেকনাফে যাবার প্ল্যান থাকলেও সে যায় নি আমার সাথে আড্ডা দিবে বলে। ইচ্ছা না থাকা সত্বেও তাকে রেখেই চলে আসতে হল। অজানা সব অনুভূতি নিয়ে এগিয়ে চলছি যা হয়তো ভাবতেও পারছি না।

আর কিছুক্ষন পর শাহজালাল এয়ারপোর্টে পৌছে যাব তারপর বাকি অনুভূতি এয়ারে বসেই লিখব।

এয়ারপোর্টে পৌছে হাল্কা নাস্তা সেরে বোর্ডিং পাস করে ইমিগ্রেশন ক্রস করে ফ্লাইট এনাউন্সমেন্ট এর জন্য অপেক্ষা করছি। এর আগে বেশ কয়েকবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গেট পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিলাম সাথে অনেকেই ছিল, এবার একা তবুও কেন জানি অন্য রকম কোন অনুভূতি কাজ করেনি। মনে হচ্ছিল কেমন যেন অদ্ভূত সব ভাললাগার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলাম। এ ফাকে যোহরের নামাজ টা আদায় করে নিলাম। একসময় ঘোষনা এল বোর্ডে উঠবার। সব রকম চেক আপের পরেও যখন আবার বেল্ট, ঘড়ি, জুতো, মানিব্যাগ, খুলে একটা বক্সে করে এগিয়ে দিত বলল তখন কেমন জানি একটু বাড়াবাড়িই মনে হল। যাক, এত কিছু করে বিমানে উঠে গেলাম। মনে মনে জানালার পাশে একটা সিট আশা করছিলাম কিন্তু না পেলাম আইলের সাথে। সব রকম ফর্মালিটি শেষে যখন বিমান তার জড়তা কাটিয়ে গতিশীলতার পথে পা বাড়াল তখন কেমন জানি ভয় ভয় করছিল।

আশেপাশে সকলের স্বাভাভিকতা দেখে আমিও এসব নিতান্তই স্বাভাবিক ভাবতে শুরু করলাম। থাই এয়ার মোটামোটি মধ্যম মানের ভাল এয়ার বলা যায়।

আমি তো এর আগে কোনটাতেই চড়িনি তবে শুনেছি থাই এয়ারের নাকি বেশ ভালই ফেইম আছে, বোর্ডে ৮০% ফরেনার দেখে আমারও ধারনা তাই মনে হল।

সিট গুলো অতটা স্পেশাস না, অনেকটা বাসের সিটের মতই। বিমান উড়ে চলল, মাঝে মধ্যে হালকা একটু শেক ছাড়া বুঝার কোন উপায়ই নেই বিমান কি থেমে আছে নাকি উড়ছে।

হালকা ঠান্ডা লাগছিল, কম্বল টা গায়ে জড়িয়ে হোল নাইট জার্নি করে আসার ক্লান্তি টা কিছুটা কমানোর বৃথা চেষ্টা করলাম। কিন্তু না, গভীর ঘুমে যেতে পারলাম না। খাবার নিয়ে আসল, বেশ ভাল খাবারই বলা যায়, আস্ক করল ফিস অর চিকেন! অনেকটা অবচেতন মনেই চিকেন বললাম। অল্প খাবার কিন্তু অনেক আইটেম, রাইস, ভেজিটেবলস, চিকেন, ফ্রুটস(পেপে,ড্রাগন, বাংগী), এ স্টান্ডার্ড পিস অফ কেক, বাটার এন্ড পাইনাপেল সালাদ।

সবশেষে ড্রিংক্স থেকে অরেঞ্জ জুস টাই নিলাম।

এয়ারে উঠার আগে সব ফ্রেন্ডস রা বলছিল, থাই এয়ারের হোস্টেস দেখে মাথা ঘুরে যাবে। কিন্তু আমার সৌভাগ্য, করোনা ভাইরাসের বদৌলতে মাথা ঘুরবার সুযোগ পাই নি। আমার মতই মাস্ক পড়েছিল ইচ এন্ড এভ্রি ওয়ান। ইতিমধ্যে প্রায় দেড় ঘন্টা শেষ, আর আধা ঘন্টা পরেই থাইল্যান্ডের মাটিতে ল্যান্ড করতে যাচ্ছি।

বাকি লেখা ইমিগ্রেশন শেষ করে লিখব আপাতত আরেকটু ঘুমানোর চেষ্টা করি।

থাই ইমিগ্রেশন নিয়ে এর আগে অনেক কথা শুনেছি, কারো কারো নাকি ঝামেলাও করেছে। আমার সময় জাস্ট ইশারাতে ফিংগার প্রিন্ট দিতে বলা ছাড়া একটা বাক্যও উচ্চারন করে নি। তারপর রেক্স এর কথা অনুযায়ী ৮ নং গেট দিয়ে বের হয়ে পাতায়ার টিকেট কেটে ফেললাম, সে রাতের জন্য কাওসান রোড, এবং পাতায়া দু জায়গাতেই হোস্টেল বুক করে রেখেছিলাম আগে থেকেই বুকিং ডট কম দিয়ে। বাসের টিকেট টা বেশ দেরীতেই পেলাম মনে হল ল্যান্ড করেছি ৬ টায় পাতায়ার গাড়ি ছাড়বে ৭ঃ৪০ এ। কারন ছাড়াই ১ ঘন্টা ৪০ মিনিট বসে বসে মোবাইল চার্জ দিলাম আর সাথে ২১৯ বাথ দিয়ে একটা সিম কিনে নিলাম। যেখানে ২০ ক্রেডিট আর ১ সপ্তাহের আনলিমিটেড ইন্টারনেট থাকবে। বাস ছাড়ার সময় হল, বাসে উঠে সিট একেবারে পিছনে পেয়ে মনটা এক প্রকার খারাপই হল। কিন্তু গাড়ি ছাড়ার পর বুঝতে পারলাম পিছনের সিট পাওয়াতেই জোস হয়েছে কারন ব্যাংককের স্মুথ পিচঢালা রাস্তায় এ গড়ি চলার সময় যে দোল খেলে যায় অনেক টা মনে হয় যেন কোন দোলনাতে আছি।

একটা পাব্লিক বাসের সাস্পেনশান এত ভাল হতে পারে, আমাদের গ্রীন লাইনেও আমি তেমন টা ফিল করি নি কখনো। ভাড়া পড়লো ১৩০ বাথ ডিরেক্ট এয়ারপোর্ট টু পাতায়া। রাতের ব্যংকক দেখে দেখে এগিয়ে চলছি পাতায়ার দিকে। পৌছতে পৌছতে ১০ টা বেজেই যাবে প্রায়। হোস্টেল খুজে পেতে কোন বেগ পোহাতে হয় কিনা কে জানে, দেখা যাক কি হয়! হোস্টেলে পৌছে বাকি লিখা শেয়ার করব। হোস্টেল থেকে ১.৫ কিলো মিটার দূরে বাস থেকে নামিয়ে দিল। গুগল ম্যাপ এ গো তে হোস্টেল এর ডিরেকশান দিয়ে কয়েকজন ট্যক্সি ড্রাইভারের মন ভেঙ্গে এগিয়ে চললাম। টানা ২০ মিনিট হাটার পর পেয়ে গেলাম কুইংলিওন ইউথ হোস্টেল। ঢুকতেই থাই রমনী ভেটকি দিয়ে স্বাগতম জানাল, আমি বললাম আমার বুক করা আছে, পাসপোর্ট চাইলে বাড়িয়ে দিলাম তারপর কিছু ফর্মালিটিজ সেরে বেডের কার্ড দিয়ে থার্ড ফ্লোরে চলে যেতে বলল। এবারই প্রথম হোস্টেলে থাকার ট্রাই করছি তাও আবার নিজ দেশের বাইরে। নানান রকম চিন্তা মাথার মধ্যে ঘুরপাক করছিল। ডিরেক্ট উঠে গেলাম থার্ড ফ্লোরে, গিয়ে বেড নাম্বার খুজতে লাগলাম দেখা হল এক এমেরিকান এর সাথে সে মাত্রই চেক ইন করল ৩৩০ নাম্বার বেড জিজ্ঞেস করতেই দেখিয়ে দিল, আমার রুমে টোটাল ৮ টা বেড।

আমার বেড পড়ল উপরতলায়। যাক বেডে উঠে ব্যাগ থেকে জামা কাপড় বের করে ফ্রেশ হয়ে বের হলাম রাত এর পাতায়া দেখতে। প্ল্যান করলাম পরদিন সকালে কোহ লার্ন আই ল্যান্ড এ যাবো, তাই একটু সকাল সকাল ঘুমাতে হবে। ১২ টার মধ্যে শুয়ে পড়লাম। ঘুম টা বেশ ভালই হল, সকালে উঠে ফ্রেশ হয়ে চেক আউট করে বেরিয়ে পড়লাম পাতায়া বিচ এর উদ্দেশ্য, আধা ঘন্টার মত হাটার পর পাতায় বিচ তারপর পাতায়া সিটি তে এসে ৩০ বাথ দিয়ে কোহ লার্ন আইল্যান্ডের টিকেট কেটে বোটে চড়ে বসলাম।
প্রচুর ট্যুরিস্ট এখানে, সবই সাদা চামড়ার, মিনিট বিশ কি পচিশ এর মধ্যে পৌছে গেলাম। বেশ ভালই গরম এখানে। খুব স্বচ্ছ আর নীলাভ পানি দেখে মন টা আরও ভাল হয়ে গেল। সেখানে বেশ কয়েকটা বিচ আছে, আমি টুক টুক নিলাম থিয়েন বিচ এ যাব বলে।
আমাদের দেশের লেগুনা টাইপের গাড়ি গুলোকে এখানে টুকটুক বলে। এখানে প্রত্যেক ড্রাইভার দের ইউনিফর্ম পড়া বাধ্যতামূলক সম্ভবত সবাইকে দেখলাম আকাশী কালার এর একটা ড্রেস কোড মেইন্টেন করতে। থিয়েন বিচ এ নেমে অসম্ভব ভাল লাগলো, অনেক সুন্দর বিচটা, সাদা বালি, আর স্বচ্ছ নীল পানির কম্বিনেশান আর তার উপর সবুজ পাহাড়ের রিফ্লেকশান অপূর্ব। লকার ভাড়া করতে চাইলাম বলল ১০০ বাথ, বিচ বেড চাইলাম তাও ১০০ বাথ। পরে বিচ বেডই নিলাম, যত গভীরেই যাই না কেন পানির নিচের সব কিছু স্বচ্ছই দেখা যায়। ঘন্টা তিনেক পানিতে ছিলাম, তারপর বিচ বেডে বসে ৭/১১ থেকে রেডিমেড চিকেন রাইস বক্স দিয়ে লাঞ্চ করলাম। খাওয়ার পর দিলাম এক ঘুম, উঠে দেখি ১ টা বাজে, তাই আবারো একটু সুইম করলাম।


ড্রেস চেঞ্জ করে ব্যাগ গুছিয়ে শেষ বারের মত তিয়েন বিচ দেখে বিদায় নিলাম। এবারের গন্তব্য ব্যংকক থেকে এক ঘন্টার দূরত্ব আমার এখান কার হোস্টের বাসায়। নিজের দেশে তো অনেক ট্রাভেলার হোস্ট করলাম এবার বাহিরের দেশে অন্যের গেস্ট হয়ে কেমন লাগে সেটা ট্রাই দেখব। যাচ্ছি ফিলিপিনো লিওনার্ড নামের এক শিক্ষকের দাওয়াতে। বাস ধরে উঠে পড়লাম। থাইল্যান্ডের ট্রান্সপোর্টেশন ব্যাবস্থা নিয়ে একটু না বললেই নয়, এত ক্যাম্নে পারে ম্যান। দুই দিনের অভিজ্ঞতায় কোন জ্যাম ই পাই নি, এয়ারকন্ডিশন্ড। ফোনের চার্জ নিয়ে খুব সঙ্কায় ছিলাম, সিটের পাশে ইউ এস বি পোর্টের দুইটা পোর্ট দেখে খুশিতে লাফ দিলাম। পাতায়া থেকে ছুটছি ব্যাংকক হয়ে চাতুচাক মার্কেট তারপর ফাহাহোনিওতিন ৫৭ যাব। সত্যি কথা বলতে বাংলাদেশের এত হেকটিক অবস্থাতেও আমার কেন জানি জার্নি ভাল লাগে, আর এখানে এত সুন্দর সাইট ভিউ আর স্মুথ রাস্তায় জার্নিটা আমার কাছে রিল্যাক্স এর মতই মনে হচ্ছিল। দুই দিনে ৪ ঘন্টার উপরে জার্নি করলাম বাসে একটা হর্ন শুনেছি মনে করতে পারছি না। তাদের একটা প্রব্লেম হচ্ছে, যে কোন সাইন বোর্ড শুধু থাই ভাষাতেই লিখা, ইংলিশে লিখা খুবই কম তাই অনেক ক্ষেত্রেই বুঝতে পারছিনা।

একটা ফিলিং স্টেশনে গাড়ি থামাল আর সাথে সাথে সবাই দেখলাম সিট থেকে নেমে বাইরে চলে যাচ্ছে, ভাবলাম এটা মনে হয় নিয়ম যে, গাড়ি থামালে নামতে হবে। পরে দেখলাম সবাই ওয়াশ রুমে যাচ্ছে। অজ্ঞতা আমিও গেলাম, সেখানেও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার ধারা বহমান দেখলাম। আমি বুঝি না, এখান কার মানুষজন কি চিপ্স, পান, বিড়ি সিগারেট, পানি আর কোক টোক খায়না!! এগুলার খোসা আর বোটল গুলা কই রাস্তায় দেখি না ক্যান!!
এখানে মনে হয় মানুষ থাকে না, সব কিছুর বর্জ্য রাস্তায় ফেলা এটা তো মানুষেরই একটা বৈশিষ্ট্য নাকি! আমার হোস্টের কথা মত চাতুচাক মার্কেটে নেমে ৩৯ পিংক কালার বাস ধরে চলে গেলাম ফাহানিওথন ৫৭ তে। এখানে সব কিছুতে মেয়েদের আধিপত্য বেশি, স্ট্রীট ফুড থেকে শুরু করে বাসের কন্ট্রাক্টর সব কিছুতেই মেয়েদের অংশগ্রহন চোখে পড়ার মত, আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে অভার অল এখানে মেয়েদের সংখ্যাটাই বেশী, বাস থেকে নেমেই দেখি লিওনার্ড ডাক নাম বিম দাড়িয়ে আছে আমার জন্য। কি অদ্ভূত দুনিয়ে এক দিন আগে আমি বাংলাদেশে হোস্ট করেছি সাউথ কোরিয়ান রেক্স কে আর আজ আমকে হোস্ট করছে ফিলিপিনো বিম থাউল্যান্ড এ। দ্যাটস দ্যা বিউটি অফ কাউচ সার্ফিং।

বাসায় ঢুকেই কেমন যেন অন্যরকম ফিল হচ্ছিল ১২ তলা বাসার থার্ড ফ্লোরে তার রুম একাই থাকে সে এখানে বছর তিনেক ধরে থাই গভর্নমেন্ট এর হয়ে একটা স্কুলে ইংলিশ, হেলথ আর আর্টস শিখাচ্ছে। রুম টা বেশ সাজানো গোছানো। এটাচড বাথ, কিচেন আর বেলকনি। বেলকনি থেকে ১০ হাত দূরেই একটা সুইমিং পুল বেশ সুন্দর একটা ভিউ পাওয়া যায় বেলকনি থেকে। বিম এর ভাষায় এটা গ্রাম, সিটি সেন্টার থেকে অনেক দূরে। কিন্তু আমি যে ফিল পেলাম তা কোন অংশেই উত্তরা, বনানীর চেয়ে কম না। বাসায় ঢুকেই হাল্কা গল্প করে শাওয়ার নিতে ঢুকে গেলাম। তার পর দুজনে রাতের খাবার খেতে যাব, বিম বাইরেই খাবার খায় সাধারনত, উইকেন্ডে মন ভাল থাকলে হাল্কা রান্না বান্না করে। তাই আমরা লোকাল থাই ফুড ট্রাই করার জন্য বেরিয়ে পড়লাম। এখানে যেহেতু সব জায়গায় পর্কের এক্সিস্টেন্স তাই আমি সাধারনত চিকেন প্রিফার করি। কিন্ত লোকাল কিছু থাই ফুডও ট্রাই করতে চাই তাই চিকেন এর সাথে সানতাম তু( পাপায়া সালাদ), ভেজিটেবলস, চিকেন, এন্ড ম্যাসড ভেজিটেবল সসেজ উইথ স্পাইস অর্ডার করলাম। রেক্সে এর দেয়া মাস্ট থাই ফুড ট্রাই এর মাঝে পাপায়া সালাদ ছিল, তাই আগ্রহ ভরে এটা খেলাম, আসলেও মজা ছিল, পেপে, টমেটো, সিদ্ধ ডিম, কাচা বরবটি, লেবু, পি নাট, এন্ড স্পাইস। এসব কিছুর কম্বিনেশান সত্যিকার অর্থেই অসাধারন ছিল। ভেজিটেবল এর ডিসে যা ছিল, আধা সিদ্ধ বাধাকপির দুই টুকরা, কিছু বরবটি ফুল, কিছু পেয়াজ গাছ এর মত কি যেন, ছোট ছোট কাচা বেগুনের মত দেখতে।

ভেজিটেবল সসেজ উইথ স্পাইস টা অনেকটা চাটনির মত কিন্তু অত্যাধিক স্পাইসি। খাবার দেওয়া মাত্রই লক্ষ্য করলাম ছোট্ট একটা পোকা পাপায়া সালাদে গড়াগড়ি করছে আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। বিমকে দেখিয়ে বলতেই বিম আমাকে স্টপ করে দিয়ে বলল, ইটস নাথিং জাস্ট পার্ট অফ ডিস। ওর থামানোতে বুঝতে পারলাম এটা রেস্টুরেন্ট অওনার দের দেখিয়ে বলা অপমান জনক কিছু তাই চুপ মেরে গেলাম। এবার খাওয়ার পালা, যেরকম চিকেন মনে মনে ভাবছিলাম সেরকম না। আমার এক প্লেট রাইস যা আমার দেশের ৩ ভাগের এক ভাগও না, সেটা আমি শেষ করতে পারি নি। প্রতিটা জিনিসই ছিল আমার কাছে ডিফ্রেন্ট টেস্টের আমার ইসোফেগাস দিয়ে এমন জিনিস কখনো নামে নি, ফাইনালি খাওয়া শেষে রুমে ফিরে আসব এমন সময় বিম বলল লেটস হেভ এ নাইট ওয়াক, আমি তো সেরকম কিছুই এক্সপেক্ট করছিলাম। তারপর আমরা প্রায় ৪ কিলোমিটার হাটলাম এবং রাতের দৃশ্য উপভোগ করলাম এর মধ্যে আমরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করলাম, সে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বেশ কিছু জিনিস জানতা চাইল তাকে মুটামুটি একটা আইডিয়া দিলাম। একটা নাইট শপিং মলে গেলাম যেটা পুরো চারটা ফ্লোর জুড়েই, বিশাল বড়, হলুদ তরমুজ আমি কখনো দেখিনি এখানে হলুদ তরমুজ পেলাম, যা কিছু দেখলাম তার ম্যাক্সিমাম ই চিনিনা।

প্রায় ঘন্টা খানেক হাটার পর বাসায় ফিরলাম। বাসায় ফিরে হালকা ফ্রেশ হয়ে শোবার প্রস্তুতি নিচ্ছি কাল সকালে উঠে এনসিয়েন্ট সিটিতে যেতে হবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে বিম ও ইউটিবিং করে। ইউটিউবের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হল ওর সাথে। ঘুমুতে যাব এমন সময় বারহে আমার ইথিওপিয়ান কলিগ টেক্সট করে বলল সেও আজ রাতের ফ্লাইটে ব্যাংকক আসছে ১৫ দিনের ভ্যাকেশনে এবং তার কোন সলিড প্ল্যান নাই। সে আমার সাথে জয়েন করতে চায়। সে ভোর ৪ঃ৩০ এ ল্যান্ড করবে। আমার হোস্টের লোকেশান শেয়ার করে ঘুমিয়ে পড়লাম আর বল্লাম সকালে এসে কল দিতে। সকালে বারেহ এসে হাজির, তাকে স্টেশন থেকে গিয়ে রিসিভ করে নিয়ে আসলাম।
তারপর আমরা প্ল্যান করলাম কোথায় কোথায় কিভাবে ঘুরবো, আমার প্ল্যান শেয়ার করতেই বারহে রাজি হয়ে গেল। ব্যাস ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে থাই বিটীএস স্কাই ট্রেন ধরে চলে গেলাম এনসিয়েন্ট সিটিতে। স্কাই লাইন নিয়ে কিছু বিষয় শেয়ার করতে চাই, আমার প্রথম স্কাই লাইন ট্রেন চড়ার অভিজ্ঞতা, এতটা অর্গানাইজড তাদের সে ব্যবস্থা কল্পনাই করতে পারি নি। সব কিছু এতটা সুনিপুন ভাবে করা তখন আমি টেক্নোলোজির আশীর্বাদনেশ টা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছিলাম।

আই জাস্ট লাভড ইট।

এনসিয়েন্ট সিটিতে নেমে ব্রেক ফাস্ট সেরে তারপর ভিতরে ঢুকলাম। এনসিয়েন্ট সিটি বলতে মূলত পুরো থাইল্যান্ডের ঐতিহ্য কে নিউ জেনারেশনের কাছে এবং তা বছরের পর বছর টিকিয়ে রাখতেই এখানে সব গুলো ট্যম্পল এর রেপ্লিকা বানানো হয়েছে। এরিয়া টা এত বড় যে, এখানে, কার, বাস এবং সাইকেলের ব্যবস্থা রয়েছে হেটে তো এক দিনে শেষ করা সম্ভব নয়ই বরং সাইকেলে মুটামুটি পুরোটা কাভার করতে আমাদের প্রায় চার ঘন্টা অব্দি লেগছে তাও আমরা সারাক্ষন রাইডিং এর উপর ছিলাম। পার হেড ৭০০ বাথ দিয়ে টিকিট কেটে ঢুকতে হয়। সাথে একটি অডিউ গাইড এবং বাই সাইকেল ইনক্লুডেড৷ প্রত্যেক টা ট্যাম্পল এ নির্দিষ্ট নাম্বার দেওয়া আছে, সেই নাম্বার চেপে প্লে করলেই সেটার সকল হিস্ট্রী শুনিয়ে দেয়।

ভিতরটা এত দারুন ভাবে সাজিয়েছে দেখলে মন প্রান উভয়ই জুড়িয়ে যায়। অসম্ভব ভাল লেগেছে আমার প্লেস টা, আর বাইক রাইডিং এর কথা কি বলব মনেই হয় নি যে বাইক চালাচ্ছি রোড টা এতটা স্মুথ আর এত গ্রীনি পরিবেশ যেন সারাদিন রাইড করে কাটিয়ে দেয়া যাবে। এক ফাকে বসে একটা লেকের পাশে দারুন রেস্টুরেন্ট এ বসে কোকানাট ড্রিংক করলাম। পুরো প্লেস টা তন্ন তন্ন করে দুজন বাইক চালিয়েছি জানিনা আদও কতটুকু শেষ করতে পেরেছি। যদিও তারা একটা ম্যাপ দিয়ে ছিল বাট আমরা সেটা ফলো করি নি। আমাদের নেক্সট দিনের প্ল্যান ব্যংকক থেকে কাঞ্চনবুড়ি, থা ক্রান্ডা, ইরাওয়ান ন্যাশনাল পার্ক। আমরা প্ল্যান করলাম রাতেই জার্নি টা শেষ করে ফেলি তাহলে সকালে ফ্রেশ ভাবে এক্সপ্লোর করতে পারব। প্রব্লেম হচ্ছিল বাস স্টেশন নিয়ে। খুজে পাচ্ছিলাম না, লোকাল পিপল খুব কমই ইংরেজী জানে, ইয়াং জেনারেশন মুটামুটি জানে। পরে ট্যাক্সি ধরে চলে আসি সাউদার্ন বাস টার্মিনাল এ, বাস বুক করি কাঞ্চন বুড়ি পর্যন্ত সেখানে থাকার হোস্টেল আগে থেকেই বুক করে রাখি।

নির্ধারিত সময়ে বাস ছাড়ল, বলে নেই যে জায়গাটায় যাচ্ছি তা ব্যাংকক মূল সিটি থেকে ৩ঃ৩০ ঘন্টার দূরত্ব স্বভাবতই ধরে নিয়েছিলাম একটু গ্রাম্য পরিবেশ পাব। কিন্তু ভুল, পুরোটা জার্নি এত চমৎকার ছিল বলা বাহুল্য, বারহে আমার পাশের সিটেই ফোন চালাচ্ছিল, কখন যে ঘুমিয়ে পড়ল টেরই পায় নি। দু তিনটা ট্রাফিক সিগন্যাল ছিল, তাছাড়া কোথাও এক সেকেন্ডের জন্যও জ্যাম পাইনি। রাত নয় টার দিকে পৌছালাম কাঞ্চনবুড়ি, পুরো পথে মাত্র ৪ জন যাত্রী ছিলাম আমরা। কোথাও বাস দাড়ায় ও নি, কোন যাত্রীও নেয় নি। বারহে তো বলেই বসল, আই ফেল্ট লাইক ইট ওয়াজ আওয়ার প্রাইভেট বাস।

স্টেশনে নেমে আশে পাশে স্ট্রিট ফুডের দোকান দেখে আমার আর তর সইছিল না, এমনিতেই স্ট্রীট ফুডের প্রতি আমি খুবই দুর্বল। বারহে কে বললাম, লেট'স হেভ ডিনার। থাইল্যান্ড এ স্ট্রীট ফুডের দোকান গুলো এক একটা রেস্টুরেন্ট এর মত। তাদের অনেক মেন্যু থাকে, এবং অনেক গুলো টেবিল চারপাশে চেয়ার দিয়ে সাজানো থাকে আর খাবার সবসময় গরম গরম সার্ভ করে। মূল সিটি থেকে এত দূরে এসেও রাস্তার কোথাও কোন ধূলাবালি চোখে পড়েনি। নামে স্ট্রীট ফুড হলেও হাইজিন নিয়ে দুশ্চিন্তা কারোর মধ্যেই দেখি নি, ম্যাক্সিমাম লোকজন রাস্তার পাশের খাবার বেশ ভাল ভাবেই খায় বলে মনে হল, সব শ্রেনীর লোকজনকেই দেখলাম খাবার খেতে। গুগল ম্যাপে হোস্টেলের লোকেশান চেক করব দেখলাম ২ কিলোমিটার। বারহে ভাইকে বললাম লেট'স হেভ এ নাইট ওয়াক। টানা ২৫ মিনিট হাটার পর পৌছে গেলাম এস্লিপ হোস্টেলে। মনে মনে কিছুটা ভয় কাজ করছিল কারন পাতায়াতে হোস্টেল এক্সপেরিয়েন্স খুব একটা ভাল ছিলনা। ঢুকতেই এক মাঝ বয়সী মহিলা বলে উঠল সোয়াদিখাপ আমিও মাথা নেড়ে সোয়াদিখা বলে রিপ্লাই দিলাম। বেশ ভাল ইংরেজীতেই বলল ডু ইউ হেভ এনি রিসার্ভেশন?

আমি বললাম ইয়েস। দেন সি আস্কড শো মি দ্যা বুকড নাম্বার। তারপর দেখালাম আর পাসপোর্টের কপি দিয়ে রুমে চলে গেলাম। যেমন টা ভেবেছিলাম আসলে তেমন না, এই হোস্টেল টা এই মহিলা যার নাম মিমি তিনি নিজেই পরিচালনা করেন। সব কিছু অনেক সাজানো এন্ড ক্লিন। পরিবেশ আর সার্ভিস দুটোই বেশ পছন্দ হল। ওয়াশ রুমে গিয়ে ফ্রেশ একটা গোসল দিলাম। তারপর ঘুম কারন সকালে উঠেই বাস ধরতে হবে ইরাওয়ান ন্যাশনাল ওয়াটার পার্কের উদ্দ্যেশ্যে। বেশ ভাল একটা ঘুম হল রাতে, ৬ টা ৪৫ এ আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল, বারহে ভাই কে ডেকে তুলে ফ্রেশ হয়ে নাশতা করতে লবিং স্পেসে চলে এলাম। ব্রেকফাস্ট ইনক্লুডেড ছিল, ব্রেড, মাখন আর জেলী সাথে কফি। ব্রেকফাস্ট শেষে চলে এলাম বাস স্টেশনে ডিরেক্ট টু সি সাওয়াত ( ইরাওয়ান ন্যাশনাল পার্ক)। ১ ঘন্টা সময় লাগল সেখানে পৌছাতে, আসার পথে পুরোটা রাস্তা জুড়েই পাহাড় আর ঘন সবুজ সেই সাথে পরিচ্ছন্নতা তো আছেই। সব কিছুই কেমন যেন পরিকল্পিত মনে হল। বারহে কে জিজ্ঞেস করলাম তোমার কি মনে হয় তাদের এই ডেভেলপমেন্টের পিছনে কোন জিনিসটার অবদান সবচেয়ে বেশী বলে মিনে হয়? সে যা বলল তাতে আসলেই আমার একটু অপমান বোধ হলো, সে বলল এভ্রিথিং ডিপেন্ডস অন দ্যা পিপল'স বিহেভিয়ার। বাংলাদেশী পিপল সুড গু টু স্কুল। দে আর রিয়েলি কেয়ারলেস। লাস্ট ৬ মাস ধরে বারহে বাংলাদেশে কাজ করছে, এটা ছিল তার অবজার্ভেশন। আমিও তার সাথে সম্পূর্ন একমত, আমাদের বিহেভিয়ারাল চেঞ্জ ঘটাতে পারলে নিঃসন্দেহে রাতারাতি রেভ্যুলেশন ঘটানো সম্ভব।

পার হেড ৩০০ বাথ টিকিট কেটে ঢুকে পড়ি 'ইরাওয়ান ন্যাশনাল ওয়াটার পার্ক' এ। পুরো পার্ক জুড়ে ৭ টা লেভেলে ৭ টা ঝর্না রয়েছে যার সর্বোচ্চ টা ২০০০ মিটার উচুতে। এত স্বচ্ছ ঝর্না আর সব কিছুতে এত পারফেকশান যা প্রশংসার দাবিদার। সিকিউরিটি গার্ড, সেফটি বক্স, প্লাস্টিক জাতীয় দ্রব্য ব্যাবহারে নিষেধাজ্ঞা সব কিছুতেই সবার আগে পরিবেশ এবং সেফটি সে বিষয়টার প্রমান তারা দেখিয়েছে। ঝর্না তে একই সাথে মানুষ আর মাছ একসাথে গোসল করে, আহ! স্বচ্ছ পানিতে এত বড় বড় মাছ গুলোকে সাতার কাটতে দেখে মনে হচ্ছিল যেন একটা লাইভ এক্যুরিয়াম। একে একে সাতটা ঝর্নাই কনকার করলাম, একটা স্টেপে গিয়ে আমাদের পানির বোতল ২০ বাথ ডিপোজিট করে নিতে হল। যেটা পরবর্তীতে বোতল ফেরত দেয়া সাপেক্ষে ফেরত দেয়া হয়। বেশ কয়েকটা ঝর্নায় সাতার কেটেছি যেটার ফিলিংস বলিখে কোন ভাবে দেওয়া সম্ভব না। ৩ টা বাজে ব্যাক করি স্টার্টিং পয়েন্ট এ, এবং সেখানে রিয়েল থাই ফুড দিয়ে লাঞ্চ করি। লাঞ্চের মেন্যুতে ছিল তমিউম কুং(রিকমেন্ডেড বাই রেক্স), ফ্রাইড চিকেন, স্পাইসি পাপায়া সালাদ, রাইস উইথ চিকেন এন্ড ভেজিটেবল।

খাবার গুলো বেশ মজার ছিল, বেশ তৃপ্তি নিয়েই খেয়েছি। ৪ টার বাসে করে কাঞ্চনবুড়ি তারপর সেখান থেকে পিংক্লাও এর বাস ধরি। ডিরেক্টলি খাওসান রোড, ব্যাংকক এর বাস না পাওয়ায় পিংক্লাও পর্যন্ত বাস নেই। পথিমধ্যে ব্যংককে হোস্টেল বুক করি আমার আর বারহের জন্য। বরাবরের মতই বাস জার্নি টা অসাধারন হচ্ছে, আজ সারাদিনের বর্ননা এখন বাসেই বসে বসে লিখছি। চার্জ ছিলনা ফোনে, কিন্তু এখানে বাসে চার্জিং পয়েন্ট থাকে প্রতিটা সিটের পাশেই যেটা আমার বেশ ভাললাগে। যাক কাল চলে যাচ্ছি মালেশিয়াতে সেখানে ৫ দিন থাকব, ব্যাংককে এখনো বেশ কিছু প্ল্যান বাকি আছে সে গুলো আশা করি কাল বিকেলে ফ্লাইটের আগেই শেষ করতে পারব। আজ রাতের কাহিনী এবং ব্যংককে শেষ মিনিটের কাহিনী নিয়ে লেখব পরে আবার সময় পেলে আপাতত বিদায় নিচ্ছি। বাস স্টেশনে নেমেই ট্যক্সি নিলাম হোসেটেলের উদ্দেশ্যে। মিনিট দশেকের মধ্যেই পৌছে গেলাম। হোস্টেল টা বেশ ভাল একটা লোকেশানে, ব্যাংককের সব সেরা সেরা জায়গা গুলো ওয়াকিং ডিস্টেন্সে!!

রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে পড়লাম রাতের ব্যাংকক দেখতে, সে সাথে আরেকটা উদ্দেশ্য ছিল এখানকার স্ট্রীট ফুড গুলো ট্রাই করা। হেটে হেটে একে একে অনেক গুলো জায়গা ঘুড়লাম এবং কিছু জুস ও ট্রাই করলাম। রাত ১২ টার দিকে রুমে ফিরে আসলাম, সুন্দর একটা দিন অতিবাহিত করলাম। এবার ঘুম দেবার পালা কাল সকালেই আবার উঠে বিকেলে মালেশিয়ার ফ্লাইট এর জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মার্চ, ২০২১ রাত ৯:৪৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রহস্যোপন্যাসঃ মাকড়সার জাল - প্রথম পর্ব

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ৯:৪০




(১)
অনেকটা সময় ধরে অভি কলিং বেলটা বাজাচ্ছে ।বেল বেজেই চলেছে কিন্তু কোন সাড়া শব্দ নেই। একসময় খানিকটা বিরক্ত হয়ে মনে মনে স্বগোতক্তি করল সে
-... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যস! আর কত?

লিখেছেন স্প্যানকড, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১০:০১

ছবি নেট ।

বাংলাদেশে যে কোন বড় আকাম হলে সরকারি আর বিরোধী দুইটা ই ফায়দা লুটার চেষ্টা করে। জনগন ভোদাই এর মতন এরটা শোনে কতক্ষণ ওর টা শোনে কতক্ষণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরতের শেষ অপরাহ্নে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১০:৫৫

টান

লিখেছেন বৃষ্টি'র জল, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১:০৩






কোথাও কোথাও আমাদের পছন্দগুলো ভীষণ একরকম,
কোথাও আবার ভাবনাগুলো একদম অমিল।
আমাদের বোঝাপড়াটা কখনো এক হলেও বিশ্বাস টা পুরোই আলাদা।
কখনো কখনো অনুভূতি মিলে গেলেও,
মতামতে যোজন যোজন পার্থক্য।
একবার যেমন মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আফ্রিকায় টিকাও নেই, ভাতও নেই

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ১০:৫৪



আফ্রিকার গ্রামগুলো মোটামুটি বেশ বিচ্ছিন্ন ও হাট-বাজারগুলোতে অন্য এলাকার লোকজন তেমন আসে না; ফলে, গ্রামগুলোতে করোনা বেশী ছড়ায়নি। বেশীরভাগ দেশের সরকার ওদের কত গ্রাম আছে তাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×