একবার কি হলো, জরুরী প্রয়োজনে বেশ কিছুদিন ঢাকায় ছিলাম না। ছাদে থাকা মায়ের গাছগুলো একদম শুকিয়ে মৃতপ্রায় অবস্থা, বোঝাই যাচ্ছিলো ভেতরে বোধহয় আর প্রাণ নেই। তারপরও মা খুব যত্নে পানি দিতেন। কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন নেই। খুব মন খারাপ হলো মায়ের। মরা গাছগুলো চোখের সামনে থাকলে আরো খারাপ লাগে বলে মা ফেলেও দিতে চাইলেন। কিন্তু কেনো জানি আমার মন সায় দিলোনা। বললাম একটু সবুর করো। থাকুক না অমন ক্ষতি তো হচ্ছেনা। তুমি নাহয় যেভাবে পানি দিচ্ছিলে সেভাবে রোজ দিয়ে যাও। হতেও তো পারে আবার প্রাণের সঞ্চার। একের পর এক দিন যায়৷ মা বলে গাছ যদি বাঁচার হতো তো এতদিনে তো হয়ে যেতো। মায়ের মন খারাপ বাড়ে আর সাথে আমার অপেক্ষা। একদিন হঠাৎ মাও আমার সাথে সাথে সায় দিলেন, তার নাকি এমনি এমনি মনে হচ্ছে গাছগুলো আবার বেঁচে উঠবে। এভাবে আরো কিছু দিন পার হলো।
এরপর একদিন বাসায় ফিরে শুনি গাছগুলোতে নাকি খুব ছোট ছোট নতুন পাতা গজিয়েছে। শুকনো ডালগুলোর কোথাও নাকি হালকা একটু সবুজের আবেশ!
কেনো জানিনা বরাবরই মন কোথায় গিয়ে যেনো আলো খুঁজে পায়। পুরোটাই অনিশ্চিত, কোথাও কিছু নেই, তারপরও কি জানি থেকেই যায়। কিছু রুদ্ধশ্বাসে, কিছু চুপচাপ একা সময়ে, কিছু মন খারাপে আবার কিছু ভাবলেশহীন মেজাজে গল্পরা থেমে থেমে এগোয়। এরপর হঠাৎ একদিন সত্যি সত্যি গল্পের মোড় ঘোরে। আবার মিলে যায় বিশ্বাস।
এমন অনেক হয়েছে, অনেক অপেক্ষার পর স্রষ্টা খালি হাতে ফেরান নি ....কত শক্ত শক্ত গল্প আছে ঝুলিতে, মোটামুটি আকারের বই লিখে ফেলার মতো। জানি এমন আরো হবে, এখনকার প্রতীক্ষাদের অবসান হবে। আরো অনেক অনেক গল্প জমবে ঝুলিতে।
ইদানীং কেনো জানি খুব ইচ্ছে হয়, স্রষ্টা সুযোগ দিলে পুরো পৃথিবীকে সেসব শোনাবো একদিন।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০২১ রাত ২:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


