somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা শিক্ষিত হওয়ার আগে ডিজিটাল হয়ে গেছি

৩০ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ৩:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এখানে আমরা প্রায় সবাই লেখা পড়া করি। আর কেউ কেউ আছে জব আবার কেউ আছে কিছু করি না মানে MBBS ;) । প্রত্যেকেই কোনো না কোনো একটা নির্দিষ্ট কাজে সময় ব্যয় করি। কিন্তু তার চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করি ফেসবুকেই। আসলে আমরা শিক্ষিত হওয়ার আগে ডিজিটাল হয়ে গেছি।
স্কুল,কলেজ,ইউনিভার্সিটি প্রত্যেক ক্ষেত্রেই কিন্তু একটা করে অরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান করা হয়ে থাকে।

কিছুদিন আগে মার্ক জিকারবার্গের লাইভ পোষ্টে আমাদের বাঙালীদের কেউ একজন কমেন্ট করেছিল যে “তার কাছে চিকন পিনের চার্জার হবে কি না?” বিষয়টা হাস্যকর। আপনার হয়তো তাকে গালি দিতে ইচ্ছে করতেছে। আসলে ঐ এক জনের কমেন্ট কিন্তু শুধুমাত্র একজনকেই রিপ্রেজেন্ট করে না। ঐ কমেন্ট টা পুরো বাঙালী জাতিকেই রিপ্রেজেন্ট করে। আসলে ওখানে দোষটা ঐ কমেন্টকারীর না। দোষটা আমাদের সবারই। ফেসবুকে আসার আগে কিন্তু কোনো অরিয়েন্টেশন করা হয়নি যার ফলস্রূতিতে আমাদের এই অবস্থা। ঐ যে বললাম না অরিয়েন্টেশন, হ্যা অরিয়েন্টেশন! স্কুল কলেজে অরিয়েন্টেশন কেন করা করা হয় বলেন তো?? সবাই এক বাক্যে হয়তো বলবেন নতুনদের বরণ করার জন্য, কিন্তু শুধুমাত্র নতুনদের বরণ করার জন্যই এই অরিয়েনটেশন না। অরিয়েন্টেশন হলো স্কুল,কলেজ,ভার্সিটির নিয়ম শৃঙ্খলা এবং আদব কায়দা সম্পর্কে অবগত করা।

আসলে আপনাকে বুঝতে হবে যে ফেসবুক মানে হলো একটা চৌরাস্তা। যেখানে লক্ষ লোকের সমাগম হয় প্রতিনিয়ত। আর আপনি দাঁড়িয়ে আছেন ঐ চৌরাস্তার ঠিক একদম মাঝখানে। এবার আপনিই ভাবেন ঐ চৌরাস্তায় রিয়েল লাইফে দাঁড়িয়ে আপনি কি কি করতে পারবেন??? নিশ্চই জামা-কাপড় খুলে দাঁড়িয়ে থাকবেন না??? নিশ্চই জোরে জোরে গালি দেবেন না?? নিশ্চয় মুখে রঙ মেখে দাঁড়িয়ে থাকবেন না অথবা পাগলামি করবেন না?? শুধু এটুকুই ভাবলেই আপনি বুঝতে পারবেন যে ফেসবুকে অথবা ভার্চুয়াল লাইফে আপনার কি করা উচিত আর কি করা উচিত না।

আচ্ছা আপনার লেখাপড়ার সার্টিফিকেট গুলো কতো জনের কাছে যায় বলেন তো? হয়তো সর্বোচ্চ ১০০-২০০ জন হবে। যেখানে আপনার নাম আর জন্ম তারিখ লিখতে ৩দিন ব্যয় করেছেন। তারপরো জমা দেওয়ার আগে আরো কয়েকবার দেখে তারপর স্যারের কাছে জমা দিয়েছিলেন। আর আপনার ফেসবুক আইডিটা কত জনের কাছে যায় বলেন তো??? সেটা বোধহয় আর উল্লেখ করার দরকার নেই ইতিমধ্যেই বুঝে গেছেন হয়তো। এবার বলুন আপনি আপনার ফেসবুকের নাম টা লিখতে কতক্ষণ ব্যয় করেছেন?? ৩দিন তো বাদই দিলাম ৩ মিনিটও ভাবেন নি। যার জন্যই তো নামগুলো অবুঝ বালক,বদের মাস্টার,পদ্ম,মাঝি,নীলপরী,কষ্টের নদী ব্লা ব্লা ব্লা। হ্যা এখানে কিছু কিছু মানুষের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থাকতে পারে আর বাকি পাবলিক গুলো কি কারনে রাখে আল্লাহ পাকই ভাল জানে।

এবার আসি প্রোফাইল পিকচারের ব্যাপারে, কেউ তার প্রফাইল পিকচারে শাহ্রুখ খানের একখান পিক লাগাই,আবার কেউ গোলাপ ফুলের, কেউ আবার ডানা কাটা পরীর পিকচার। যদি কারো ব্যক্তিগত সমস্যা থাকে সেটা আলাদা ব্যাপার। তবে আমরা এমন কোনো সেলিব্রেটি বা জঙ্গী নয় যে আমাদের নিজেদের পিক দিলে আহামরি কোনো প্রলয় ঘটে যাবে। তাই সবাই চেষ্টা করবো নিজের সুন্দর দেখে একটা পিকচার ব্যবহার করার। আর মেয়েদের ক্ষেত্রে বলবো নিজের পিক না দিতেন পারে অনন্তো নিজের নামটা ব্যবহার করেন। কারন এরকম উলটা পালটা নাম আর পিকচার ওয়ালা প্রোফাইল দেখলে সবাই ভাববে আপনার প্রোফাইলটা নিশ্চয় কনো খারাপ মতলবের জন্য খোলা।

এবার আসি পোষ্টের ব্যাপারে। তার আগে একটা গল্প বলি, একবার আমার এক বন্ধু বিয়ে করবে বলে একটা মেয়ে পছন্দ করেছিল। আমাকে মেয়েটার একটা ছবি ইনবক্স করে বলেছিল “দোস্ত দেখতো মেয়েটা কেমন? আমি বলেছিলাম মেয়েটা ফেসবুক আইডীটা দিস তাহলে বলে দিতে পারবো মেয়েটা কেমন। মেয়েটার প্রোফাইল চেক করে দেখি পুরাই ক্ষ্যাত। ক্ষ্যাত বলতে তার নাম,প্রোফাইল পিক এবং পোষ্ট দেখে আমি বুঝে গেলাম মেয়েটার মন মানষিকতা কেমন। তো আমার বন্ধুকে বলেছিলাম মেয়েটার ব্যাপারে। অবশেষে তাদের বিয়েয়াটা আর সম্পন্ন হয়নি।” আপনাদেরকে বলি পোষ্ট দেওয়ার সময় একটু ভাবে চিন্তে দেবেন। কারণ আপনার প্রতিটি পোষ্ট আপনার মন মানসিকতা,রুচি,ব্যক্তিত্ব সবই প্রকাশ করে। এমন কিছু লিখবেন না যাতে আপনার ইমেজ নষ্ট হয়ে যায়। মনে রাখবেন চৌরাস্তায় দাডিয়ে আপনি সর্বোচ্চ একটা বিড়ি টানতে পারেন কিন্তু গাঞ্জা নয়।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ৩:৫২
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বমিনং করোনং ইচ্ছং

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১১


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
১৫০।(১) এই সংবিধানের অন্য কোন বিধান সত্ত্বেও ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে এই সংবিধান প্রবর্তনকালে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত বিধানাবলী ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতভেদ নিরসন ছাড়া মুসলিম আল্লাহর সাহায্য পাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৩



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘স্বপ্নের শঙ্খচিল’ কে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা….

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬



আজ সকালে ল্যাপটপ খুলেই উপরের চিত্রটা দেখলাম। দেখে মনটা প্রথমে একটু খারাপই হয়ে গেল! প্রায় একুশ বছর ধরে লক্ষাধিক ব্লগারের নানারকমের বৈচিত্রপূর্ণ লেখায় ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সমৃদ্ধ আমাদের সবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×