somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ইএম সেলিম আহমেদ
বিংশ শতাব্দীর কাদা মাটি মেখে বড় হয়েছি। ভূলে একবিংশ তে এসে পড়েছি।

মিরসরাইয়ে আদানির ৯০০ একর জমি: বিতর্ক, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সকাল ১০:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ভারতের আদানি গ্রুপকে দেওয়া ৯০০ একর জমি নিয়ে বর্তমানে এক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। এই জমি শুধু অর্থনৈতিকভাবে নয়, কৌশলগতভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত এবং চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলার যাতায়াতের জন্য পরিচিত ‘চিকেন নেক’ এলাকায় অবস্থিত।

চুক্তির পটভূমি
২০১৫ সালের জুন মাসে নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরে ভারত বাংলাদেশে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) গঠনের প্রস্তাব দেয়। শেখ হাসিনা সরকার প্রথমে রামপালে ৩০০ একর জমি দেয়, কিন্তু পরে ভারতের অনুরোধে মিরসরাইয়ে ১,০৫৫ একর জমি বরাদ্দের আলোচনা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ২০১৭ সালে দিল্লি বৈঠকে ৯০০ একর জমি দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।

২০১৯ সালে বেজা (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ) ও আদানি পোর্টস অ্যান্ড এসইজেড একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে, যা ২০২২ সালে যৌথ উদ্যোগে রূপ নেয়। শর্ত ছিল, প্রকল্প বাস্তবায়নে ৬৫% যন্ত্রাংশ ভারত থেকে আমদানি করতে হবে এবং উন্নয়নকাজে কেবল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে।

স্থানীয়দের ক্ষোভ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পে কোনো বাংলাদেশি শ্রমিক বা প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি ইট, পাথর, বালু পর্যন্ত ভারত থেকে আনা হচ্ছিল। স্থানীয়রা মনে করেন, এটি শুধু অর্থনৈতিক বৈষম্য নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সামরিক বিশ্লেষক মেজর (অব.) মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, “এ প্রকল্পে বাংলাদেশের কোনো স্বার্থ নেই, সবই ভারতের একতরফা লাভের জন্য।” তাঁর মতে, বঙ্গোপসাগরের উপকূলে এই জমি ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যা সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পথ খুলে দেয়।

অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ ও বিক্ষোভ
২০১৮ সালে বেজা মগাদিয়া মৌজায় আরও ৭০০ একর জমি অধিগ্রহণ করে, যা মূলত কৃষিজমি ছিল। এতে কৃষকদের মধ্যে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে জানা যায়, এই ৭০০ একরের জন্য কোনো লিখিত চুক্তি হয়নি - এটি ছিল কেবল মৌখিক প্রতিশ্রুতি।

প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতীয় পক্ষ, প্রকল্প এলাকা ছেড়ে চলে যায়। বর্তমানে ৯০০ একরের চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে, আর ৭০০ একর জমি অবমুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এই প্রকল্পকে “বাংলাদেশের পেটের মধ্যে একখণ্ড ভারত” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, মিরসরাইয়ের অবস্থান কৌশলগতভাবে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, এটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। বেজার কর্মকর্তারা মনে করেন, এ ধরনের প্রকল্প কোনো স্বাধীন দেশের জন্য আত্মঘাতী। তারা ইতিমধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রকল্প বাতিলের সুপারিশ পাঠিয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

মিরসরাইয়ের ৯০০ একর জমি নিয়ে আদানি প্রকল্প এখন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত বিতর্কের কেন্দ্রে। চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন ও সম্ভাব্য বাতিলের সিদ্ধান্ত শুধু এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নয়, বরং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

আর এভাবেই দেশটাকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। সেজন্য আপা বলত, "ভারত কে যা দিয়েছি, সারাজীবন মনে রাখবে"। আহ কত গর্বের কথা। আমরা মীর জাফর ঘষেটিকে দেখিনি আমরা দেখেছি শেখ ও শেখের বেটিকে। অথচ একদল এখনো বলে আপার হাতেই দেশ নিরাপদ। :D
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সকাল ১০:৩৫
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'মেটিকুলাসলি ডিজাইন' করে সিলেটকে অশান্ত করে তোলার অর্থ কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:১৫

সিলেটে এন,সি,পি সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল।
দলের ভিতরে কোন্দল মারাত্মক তা ফেসবুকে দলীয় নেতা কর্মীদের পোস্ট দেখে বুঝা যায়।
অথচ, সামনে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন।
এই পরিস্থিতিতে, দলের মানুষদের 'গরম' করে তোলার একটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৮

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।
================================
ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। যে জাতি তার মানুষের কান্না, আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের দাবি ভুলে যায়, সে জাতির ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
আজ এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকস্বাধীনতা নাকি বাকসন্ত্রাস?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩২

বাকস্বাধীনতা নাকি বাকসন্ত্রাস?

বাকস্বাধীনতা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক অধিকার। কিন্তু বাকস্বাধীনতা মানে যা খুশি তাই বলা নয়; অন্যের সম্মান, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে উপেক্ষা করারও নাম নয়।

কোনো ব্যক্তি, পরিবার, গোষ্ঠী বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবার সমস্যা, ব্লগ আমাকে কেন ভোগাচ্ছে?

লিখেছেন মেহবুবা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

আবার সমস্যা ব্লগ ঠিকমত দেখা যায় না। কিছুদিন আগে এমনটি হয়েছিল। ব্লগার সুলাইমান সহজ করে সমাধান বের করে দিয়েছিল। এবার একই সমস্যা হচ্ছে তবে সেই একই উপায়ে কাজ হচ্ছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি ইরানের নতুন শত্রু হতে চলেছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৬


মরুভূমির গরম বাতাস আর লোহিত সাগরের নোনা জলীয় বাষ্প যেখানে এসে মেশে, বাব এল মানদেব প্রণালীর সেই জায়গাটায় রাতের অন্ধকার নামলেই একটা অদ্ভুত নীরবতা ছেয়ে যায়। কিন্তু সেই নীরবতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×