"ভালোবাসা" এমন অনুভূতি যা সংজ্ঞায়িত করার ক্ষমতা হয়তো মানব মস্তিষ্কে নেই;শুধু অনুভবের ক্ষমতা আছে।শুধু হৃদয়ে মন মত ধারণ করার ক্ষমতা আছে।তাই ভালোবাসাটাকে ভালবাসতে হবে।সমগ্র বিশ্ব জুড়ে,বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের নিকট ভালোবাসা দিবসের গুরুত্বও তাই ব্যাপক।১৪ই ফেব্রুয়ারি দিনটি তাই তাদের নিকট খুব জনপ্রিয় এবং প্রবল আনন্দের সাথে পালিত হয়।তবে মহা সমারোহে দিনটি পালিত হলেও এই দিবসটি কেমন করে,কিসের জন্যে বা কর জন্যেইবা এটি শুরু হয়েছিল তা অনেকেই জানেন না,ভাবেনও না বা অনুসন্ধানের চেষ্টাও করেন না।দিনটি যুগলদের জন্য জনপ্রিয় এবং আনন্দের,শুধু এতটুকু জেনেই তারা আনন্দের সুযোগ করে নেয় বা এই আনন্দে শরীক হয়।বিজ্ঞানের বদৌলতেই হোক আর সভ্যতার উত্কর্ষেই হোক পৃথিবী যখন হাতের মুঠোয় তখন বিশ্ব সংস্কৃতি থেকে কিভাবেই বা দূরে থাকা সম্ভব?এমনই একটা অবস্থা বিরাজমান!পানি যেমন চলার পথে বাধা পেলেও তার গতিপথ বদলিয়ে হলেও প্রবল বেগেই প্রবাহিত হয়।ঠিক তেমনি,বহু আগে থেকেই শত বিতর্ক,বিরোধিতা,বিবর্তন সত্ত্বেও আজও দিবসটি উত্যাপিত হচ্ছে সারা বিশ্ব জুড়ে।
মূলত ২৬৯সালে ইতালির রোম নগরীতে সেন্ট ভ্যালেইটাইন নামে একজন খ্রিষ্টান পাদ্রী ও চিকিত্সক ছিলেন।ধর্ম প্রচারের অভিযোগে তত্কালীন রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্রাডিয়াস তাকে বন্দী করার নির্দেশ দেন।কারণ তখন রোমান রাজ্যে খ্রিষ্টান ধর্ম প্রচার নিষিদ্ধ ছিল।বন্দী অবস্থায় তিনি জনৈক কারারক্ষীর দৃষ্টিহীণ মেয়েকে চিকিত্সার মাধ্যমে সুস্থ করেন।পরে ঐ মেয়ের সাথে প্রেম এবং তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজা তাকে মৃত্যুদন্ড দেন।সেই দিন ১৪ই ফেব্রুয়ারি ছিল।অতঃপর ৪৯৬ সালে পোপ সেন্ট জেলাসিউও প্রথম জুলিয়াস ভ্যালেইটাইন স্মরণে ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে "ভ্যালেন্টাইন'স ডে" হিসেবে করেন।(সূত্রঃ উইকিপিডিয়া)
আমাদের দেশে ১৯৯২ সাল থেকে এই দিবস পালিত হয়ে আসছে।এটা অনস্বীকার্য যে প্রেমপ্রীতি বা ভালোবাসা না থাকলে মানুষের অস্তিত্ব বজায় রাখা সম্ভব হতো না।তাই পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষ নানা সম্পর্কের মাধ্যমে ভালোবাসা নামক মায়ার বাঁধনে আবদ্ধ।এর ব্যতিক্রম আসলে দুর্লভ।ভালোবাসা আছে বলেই পৃথিবী এত সুন্দর,এত মধুময়।শুধু কিশোর-কিশোরী,তরুণ-তরুণী,যুবক-যুবতী নয়;এই ভালোবাস সব বয়সের যে কোন সম্পর্কের মধ্যেই পালন করা যায়।যে ভালোবাসা পিতা-মাতার সাথে সন্তানের,ভাই এর সাথে বোনের,স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা,বন্ধু-বান্ধবীর মধ্যে ভালোবাসা ও আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে হতে পারে এবং যে ভালোবাসায় কোন খাদ নেই,যা স্বর্গতুল্য।কিন্তু পরকীয়া ভালোবাসা,সুন্দরী মেয়ের শরীর পাওয়া ভালোবাসা বা সময়ক্ষেপণের মত ভালোবাসায় যথেষ্ট গলদ রয়েছে।যা কখনই কাম্য নয় এবং যা একটা সময়ে জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে।পবিত্র ভালোবাসা হয় কলঙ্কিত!
তাই,আসুন সবাই মিলে শুধু ১৪ই ফেব্রুয়ারি নয় !প্রতিটিদিন,প্রতিটিক্ষণই প্রিয়জনদের নিষ্পাপ,নিখাদ,নির্ভেজাল ভালোবাসায় সিক্ত হই এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে সত্ থেকে ঠিক একইভাবে ভালোবেসে পৃথিবীকে আরও সুন্দর করে তুলি।ভালো কাটুক ভালোবাসায় দিনটি...।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


