মেয়েটার লাল গ্লাডিওলাস আর টকটকে জারবারা খুব পছন্দ... আর চুড়ি...একটা লাল টকটকে যেটাকে সিঁদুর লাল বলে ঠিক সে রঙের শাড়ি পড়ে দাঁড়িয়ে আছে... কপালে টিপ নেই ... হাতে চুড়ি নেই... শুধু চুলটা খোঁপা করা ... কথা আছে ছেলেটা লাল গ্লাডিওলাস/ জারবারা আর এক ডজন লাল টকটকে রেশমি চুড়ি নিয়ে আসবে... সাথে দুটো টিপের পাতা... একটা কালো আর একটা লাল... মেয়েটার কালো টিপ খুব পছন্দের... আহা... সেই ফুল ছেলেটা নিজ হাতে মেয়েটার খোঁপায় পড়িয়ে দেবে... মেয়েটা লজ্জায় লাল হয়ে যাবে... তাকাতে পারবে না ছেলেটার দিকে... ছেলেটা যখন আলতো করে মেয়েটার হাত ধরবে... মেয়েটা কেঁপে উঠবে... ছেলেটা একটা একটা করে চুড়ি মেয়েটার হাতে পড়িয়ে দেবে... মেয়েটা মাথা নীচু করে থাকবে... একবার আনমনে ছেলেটার দিকে তাকাতেই... ছেলেটাও তাকিয়ে মুচকি হাসবে... আর একটা চুড়ি ভেঙ্গে যাবে ছেলেটার অজান্তেই... মেয়েটা চুড়িটার খোঁচায় উফ্ করে উঠবে... ছেলেটা আহত ভঙ্গিতে... চোখ ছল ছল করে মেয়েটার দিকে তাকাবে... মেয়েটা চোখের পলক ফেলে জানিয়ে দেবে...। কিছু হয়নি... ছেলেটা চুড়ি পড়িয়ে একটা লাল টিপ পাতা থেকে খুলে নেবে... মেয়েটার কপালে দিতে যাবে... মেয়েটা চোখ বন্ধ করে ফেলবে... কিছুক্ষন পর কপালে টিপের আর ছেলেটার হাতের ছোঁয়া নে পেয়ে চোখ খুলে ফেলবে... দেখবে ছেলেটা লাল টিপ টা আবার পাতায় রেখে কালো টিপের পাতা থেকে একটা কালো টিপ নিয়ে আলতো করে মেয়েটার কপালে পড়িয়ে দেবে... হাতের চুড়ির টুংটাং শব্দে ছেলেটা মুগ্ধ হবে... মেয়েটা ভাবছে... এমনটাই তো হওয়ার কথা... উহু না ... সব কিছু ছেলেটাকে বুঝতে দেবে না মেয়েটা... আজ সব মায়া/ মমতা/ ভালোবাসা সব লুকিয়ে রাখবে সে... সব অনুভূতিগুলিকে বুকের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখবে... একটুও বুঝতে দিবে না আজ তার মনে কি চলছে... এতদিন তো অনেক কিছুই বুঝিয়ে দিয়েছে... আজ ছেলেটার বুঝে নেয়ার পালা... ছেলেটা বুঝতে পারছে মেয়েটা কিছু একটা লুকাচ্ছে... এতদিনের ভালোবাসার ছিটে- ফোঁটা কেন দেখা যাচ্ছে না তার চোখে- মুখে... অদ্ভুদ এক শীতলতায় নিজেকে আবৃত করে রেখেছে... অথচ এমন তো হওয়ার কথা নয়... ছেলেটা হাতে চুড়ি/ গ্লাডিওলাস/জারবারা/ টিপের পাতা নিয়ে দূরে দাঁড়িয়ে আছে... ভাবছে মেয়েটা তাকে ডাকবে কিংবা দৌড়ে তার কাছে গিয়ে তার বুকের সাথে লেপ্টে যাবে... মেয়েটাও ছেলেটা হতে দূরে দাঁড়িয়ে নীচের ঠোঁট কামড়ে ধরে ভাবছে... না আজ আর ছেলেটাকে সে ডাকবে না... তার খুব ডাকতে ইচ্ছে করছে... কিন্তু না... আজ সে দেখবে ছেলেটা নিজে হতে আসে কি না... এতদিন ভালোবাসা দেখিয়েছে... আজ সে ভালোবাসা ছেলেটাকে নিজে হতে খুঁজে নিতে হবে... কঠোর শীতলতায় ঢাকা মেয়েটার মুখ দেখে বুঝে নিতে হবে সে মুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা গভীর ভালোবাসাকে ... অভিমানে থর থর করে কেঁপে ওঠা মেয়েটার হাতটা ছেলেটাকেই এসে খুঁজে নিতে হবে... মুঠি বদ্ধ করে ধরে আলতো করে চাপ দিয়ে নিজের ভালোবাসার কথা জানান দিতে হবে......।।
অভিমানে থর থর করে কেঁপে ওঠা মেয়েটার হাতটা ছেলেটাকেই এসে খুঁজে নিতে হবে...
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
রংয়ের মানুষ

গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন
অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন
লক্ষ্মীপুরের সুপারি থেকে উপকূলের অর্থনীতি: কৃষিজ সম্পদই পারে গ্রামীণ ভাগ্য বদলাতে

বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন কিছু নির্দিষ্ট ফল, ফসল বা মৎস্য সম্পদ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয়, যা শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটায় না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে জোরালো প্রভাব ফেলে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

