>কথা শুনতে পারছিস না আমার?
>আরে আমি তো বাস এ! জানিস- ই তো!
>উফস্ ভুলে গেছিলাম রে...
>আয় না আমরা এক সাথে পাশাপাশি বসে এই জার্নিটা করি... বসবি আমার পাশে?
>হু...ওকে চল, আবার আমাদের কল্পনা কল্পনা খেলাটা খেলি...
এই দেখ আমি তোর পাশে বসে আছি...তোর এলো চুলগুলি বারবার আমার মুখে এসে পড়ছে...
বিরক্ত লাগছে কিন্তু কেন জানি আমি কিছু বলছি না...
>বলবি কি করে রে হাব্লাটা...? তুই তো পাশে বসেই ঘুমিয়ে গেছিস গরুটা!!
তাও আবার আমাকে সরিয়ে নিজে জানালার পাশে বসতে চেয়েছিলি , ছাই পাঁশ খেতে !
আর আমি খেতে দেইনি বলে ঘুমাচ্ছে! সেই কখন থেকে বলছি, ডাকছি- জানালাটা একটু চাপিয়ে দে... কুম্ভকর্ণ শোনেই না!!
>হাহহা অই কানে যে ইয়ার ফোনটা আছে দেখিস নাই?
>ওকে ওকে ঠিক আছে... এখন বন্ধ কর... আর আমার দিকে ওভাবে তাকিয়ে থাকবি না অস্বস্তি হয়...
>কেন কেন? তুই কি মনে করিস তুই রূপবতী দেইখা তাকায় আছি, পেত্নী কোথাকার!
>তবে পেত্নীর দিকে তাকিয়ে আপনি কি দেখতেছেন ভূতটা ...?
>অই অই মুখটা ওমন পেঁচার মত করে আছিস কেন? কপাল কুঁচকে কেমন করে আছে!
না হয় একটু ঘুমিয়েছি তো কি হয়েছে শুনি? তাই বলে তুই ঝিম মেরে বসে থাকবি?
গল্প কর পেত্নী... বলেই আলতো করে গাল ছুঁতে গিয়ে চমকে ওঠে ছেলেটা... কি রে?
তোর গায়ে জ্বর কেন? আর এতক্ষন জানালা খোলা ছিল, তুই আমাকে ডাকবি না গাধি?
>কখন থেকে ডেকেছি তোকে ... তবে আস্তে আস্তে...
তুই এমন করে বাচ্চাদের মত করে আমার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে ছিলি যে--
তোর মায়াভরা মুখটা দেখে আমি তোকে জোরে ধাক্কা দিয়ে ওঠাতে পারিনি রে হাব্লু!
>>তারপর মেয়েটার আর কিছু মনে নেই...
শুধু টের পাচ্ছিল তার কপালে একটা ঠান্ডা হাত আলতো করে বুলিয়ে দিচ্ছে কেউ...অবচেতন মনে কি সব বকে চলেছে... কানে ভেসে আসছে ঘোরলাগা একটা কন্ঠ...
তোর না মাথায় বুদ্ধি-সুদ্ধি কিছু নেই! নিজের কষ্ট হচ্ছে দেখেও বলিসনি আমায়!আমি মনে মনে প্রার্থনা করছি-- জ্বরটা আরো বাড়ুক...নইলে এমন উৎকণ্ঠা দেখবো কি করে...এমন আদুরে সেবা পাবো কি করে...?
পথটা যেন শেষ না হয়... কিন্তু পথটা এক সময় শেষ হয়েযায়...
মেয়েটার ঘোর কেটে যায়... ঝিমুতে ঝিমুতে দেখে বাসে জানালার পাশে সে একা বসে আছে...
এলো চুলগুলি জানালা দিয়ে আসা বাতাসে উড়ছে...
খুক খুক করে কেশে ওঠে মেয়েটা...
বুঝতে পারে সত্যি সত্যি তার জ্বর এসেছে...
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


