>হু বলছিলাম আমার দাদীমা’র কথা ! যিনি যুদ্ধের সময় তার স্বামীকে হারিয়েছেন! খুব অল্প বয়সে দাদীমার বিয়ে হয়! দাদু যখন যুদ্ধে শহীদ হয় তখন দাদীমার কোলে ৯টা সন্তান! ৫ ছেলে ৪ মেয়ে! শুধু দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে! বাকি সাত সন্তান এর বড় সন্তান আমার বাপিকে নিয়ে তিনি সংসার নামক যুদ্ধে একাকী নেমে পড়েন! বড়লোক বাপের একামত্র মেয়ে ছিলেন! চাইলে আর একটা বিয়ে কিংবা বাবার সংসারে ফিরে যাওয়া ব্যাপার ছিলো না! কিন্তু তিনি সন্তানের মুখ চেয়ে স্বামীর ভিটায় পড়ে থাকেন! পুরো সংসারের হাল ধরে আমার বাপি! কতটা কষ্ট করেছেন তা শুনে শুধু ডুবে যাই... আর গর্বিত হই! একজন মা হিসেবে তার (দাদীমা) অবদান তার ছেলে/ মেয়েরা কখনো ভুলবে না আবার একজন ভাই হিসেবে পুরো পরিবারকে তখন থেকে এখনো দেখে রাখা আমার বাপির অবদান কে তার ভাই / বোনেরা অস্বীকার করতে পারবে না!
> তো আমার সেই দাদীমা এই মুহূর্তে যে দৃষ্টান্ত দিয়েছেন সেটা হলো- তিনি তার পৈতৃক সম্পতি থেকে যা পেয়েছেন তা তার জীবদ্দশায় নিজ হাতে ৫ ছেলে/ ছেলের বউ, ৪ মেয়ে, নাতি/ নাত্নী এমন কি তার নিজের ভাইয়ের বউদের মাঝে বাটোয়ারা করে দিয়েছেন! যেখানে শাশুড়ীরা বউদের ছেলেদের ভাগ দিতে গিয়ে দুনিয়ার ক্যাচাল করেন সেখানে তিনি বউদের নিজের সম্পত্তির টাকা দিয়েছেন, যেখানে বাবারাই বেঁচে থাকতে বাটোয়ারা করেন না সেখানে আমার দাদীমা মা হয়ে বাটোয়ারা করেছেন! যেখানে ভাইয়ের বউদের সাথে ননদের ক্যাচাল থাকে সেখানে তিনি ছোট ভাইয়ের বউদের কিছু টাকা দিয়েছেন! যেখানে বাবারাই সম্পতি বুঝে পেতে ঘায়েল হয় সেখানে এত গুলো নাতি/ নাত্নী দাদীর টাকা পেয়েছেন! তিনি ভুল/ ত্রুটির উর্ধে না... তবু এই বাটোয়ারার সময় সবাইকে তিনি কাঁদিয়েছেন ... আমি মনে করি এমন দৃষ্টান্ত খুঁজলে হয়ত একটাও পাওয়া যাবে না!
( অনেকেই হয়ত বলবেন, নিজের ঢোল নিজে পিটাচ্ছে... কিন্তু আমি বলবো- যেখানে আজ পরিবারগুলোতে - মা/ শাশুড়ি / সন্তান/ বাবা / ননদ/ ভাবী এইসব নিয়ে টানাপোড়েন চলে/ চলছে সেখানে এমন একটা ঘটনা উদাহরণ হতেই পারে... )

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

