somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন সিরিয়াল কিলারের জীবনী

১৫ ই অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

Andrei Romanovich Chikatilo (আন্দ্রেই রোমানোবিচ চিকাতিলো)। একজন সাবেক সোভিয়েত সিরিয়াল কিলার যিনি ইতিহাসে দ্যা বুচার অফ রুস্থব, দ্যা রেড রিপার এবং রুস্থব রিপার হিসেবে কুখ্যাত হয়ে আছে। ইতিহাসের কুখ্যাত সিরিয়াল কিলারদের তালিকার করলে উপরের দিকেই থাকে এই লোকটির নাম। ১৯৭৮ সাল থেকে শুরু করে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত (অর্থাৎ বার বছরের মধ্যে) সে প্রায় ৫২ জন মহিলা এবং শিশু হত্যা করে যাদের অধিকাংশেরই বয়স ছিল ১৭ বছরের নিচে।



১৯৭৮ সালে থেকে চিকাতিলো যখন একের পর এক খুন করা শুরু করে, তখন সোভিয়েত পুলিশের কানে এ খবর যায় কিন্তু তৎকালীন সময়ের বাজে এবং নোংরা রাজনৈতিক অবস্থায় কারণে এই কুখ্যাত হত্যাকারী আড়ালেই রয়ে যায়। একের পর এক হতে থাকা খুন গুলোকে প্রথমে বিভিন্ন আজব আজব পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হত। কিন্তু ১৯৮৩ সালের জানুয়ারিতে চারটির খুনের একই ধরনের মোটিভ দেখে ফোরেন্সিক এনালিস্ট ভিক্তর বোরাকভ এই খুন গুলোকের একজন সিরিয়াল কিলার এর কাজ বলে জানান। এটা শুনে মস্কো পুলিশ তৎকালীন মেজর মিখেইল ফেতিসব কে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করে। মেজর ফেতিসব চৌকস এবং নরম মনের বোরাকভকে প্রধান ইনভেস্টিগেটর হিসেবে নিয়োগ দেন যার পূর্বে কোন এ সম্বন্ধে কোন অভিজ্ঞতা ছিল না। যেভাবেই হোক, বোরাকভ তার ইনভেস্টিগেশন শুরু করে। কিন্তু বিভিন্ন উচ্চপদস্থ নোংরা রাজনৈতিকদের হস্তক্ষেপের কারণে এই ইনভেস্টিগেশন খুব বেশি আগায় নি। এই ঘটনা পাবলিকলি জানানুও হয় নি। এমনকি এই চিকাতিলোকে একবার গ্রেফতার করেও ছেড়ে দিতে হয়েছিল তাদেরই কারণে। এরপরে ১৯৮৪ সালের আগস্ট মাসে রাজনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনে এই ঘটনা জনগনের সামনে প্রকাশ করা হয়। ইতো মধ্যে চিকাতিলো প্রায় ৩০ জনকে হত্যা করে ফেলেছে। এরপরে পুরোদমে শুরু হয় তদন্ত। ১৯৯০সালের ১৪ই নভেম্বর শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার এবং ইন্টেরোগেট করা হয়। অনেক চেষ্টার পরে একজন সাইকিয়াট্রিস্ট এর সহযোগীতায় নভেম্বর এর ২৯ তারিখে সে তার সব দোষ স্বীকার করে। পুলিশ তাদের তদন্ত সম্পন্ন করে ১৯৯১ সালের ২০ আগস্ট তারিখে চিকাতিলোর মানসিক অবস্থা নির্নয়ের জন্য তাকে ৬০ দিনের জন্য একটি সাইকিয়াট্রি সেন্টারে পাঠায়। তার মানসিক অবস্থা পরীক্ষা করার পরে শুনানি হয়। বিভিন্ন শুনানী শেষে ১৯৯৪ সালের ৪ জানুয়ারী তাকে একটি সাউন্ডপ্রুফ রোমে নিয়ে গিয়ে মাথায় গুলি করে এক্সিকিউট করা হয়।



পরবর্তিতে চিকাতিলোর জীবনী নিয়ে এবং তার এই কেস নিয়ে চারটি বই লেখা হয়েছে এবং ৩ টি মুভি নির্মান করা হয়েছে। তবে এই ঘটনার উপর লেখা সবচেয়ে পারফেক্ট বই হল ১৯৯৩ সালে লেখক রবার্ট কালেন এর লেখা "দ্যা কিলার ডিপার্টম্যান্ট" নামে বইটি। এই বইটির উপর ভিত্তি করেই লেখক ও পরিচালক ক্রিস গেরোল্মো ১৯৯৫ সালে 'সিটিজেন এক্স' অসাধারণ মুভি নির্মান করেন। যেটা দেখেই আমার এতো বড় এই লেখার উৎপত্তি। চমৎকার এই মুভিটিতে ভিক্টর বোরাকভ চরিত্রটিকে চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন আন্ডাররেটেড স্টিফেন রিয়া। মুভিতে উনার অভিনয়, রাশান এক্সেন্ট এ কথা বলা এবং এক্সপ্রেশন গুলো ছিল দেখার মত। মেজর ফেতিসব চরিত্রে ছিলেন অভিজ্ঞ ডোনাল্ড সাউদারল্যান্ড। আর সিরিয়াল কিলার চিকাতিলো চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরেকজন আন্ডারেটেড অভিনেতা জেফ্রি ডিমান। মূল কারেক্টারের সাথে উনার শারিরিক গঠন ও মিল ছাড়াও উনার অভিনয় এবং এক্সপ্রেশন পার্ফেক্ট ছিল।




খুবই ভাল লেগেছে মুভিটি। আশা করি আপনাদের ভাল লাগবে। ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ২:২৩
১০টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×