somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কালো গহব্বরে নিমজ্জিত-----

৩০ শে মে, ২০১২ বিকাল ৫:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সত্য একটি ঘটনা । ২০০৮ সালের দিকে।আমার রুমমেট বন্ধূকে তার এক আত্মীয় ফোন দিল তাদের নভোজাতক সন্তানটিকে দেখে যাওয়ার জন্য। আসলে তাদের উদ্দেশ্য ছিল নভোজাতেকের সদ্যবিচ্ছিন্য নাভীটি যেকোন ভাবে হোক বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি নজরুল ইসলামের মাজারের পাশে পুঁতে দিতে হবে।এতে সন্তান ভবিষ্যতে কবি নজরুলের মত মহাজ্ঞানী হবে এই কুসংস্কারে তারা পলিব্যাগে মোড়ানো ওই জিনিসটি বন্ধুটির হাতে তুলে দিল।

সন্তান বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মত হোক সব অভিবাবকই চায়।কিন্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবন আদর্শ অনুকরনের বিষয়ের উপর তেমন কেউই গুরুত্ব দেয় না। যেই নজরুল সারা জীবন সাম্যের গান গাইতেন। যুদ্ধ করেছেন অন্যায়,অত্যাচার,শোষণ ও নিপীরণের বিরুদ্ধে ।‌আপন মহিমায় লালিত করছেন অবহমান বাংলার সংস্কৃতি। সৃস্টি দিয়ে সম্বৃদ্ধ করেছেন তাকে। এসব চেতনা নিচ্ছয়ই এই অভিবাবক তার সন্তানের ভিতর জাগ্রত করার চেস্টা করবেন না। শিশুটি বড় হবে অপসংস্কৃতির ভয়াবহ কালো বিষদেয়ালে বন্ধী হয়ে।আতি আধুনিকতার আর স্বার্থপরতার ভ্রমে দ্রূত মানসিক বিবর্তিত হয়ে দেশের জন্য সে এক নিরর্থক নাগরিক হয়েই থাকবে।

আমরা কি ধীরে ধীরে মানবিকতা,দেশপ্রেম,সংস্কৃতি এসব আমাদের আতূরঘরেই বিসর্জন দিয়ে আসছি না?মাহান ব্যক্তিদের আদর্শ আমাদের কাছ থেকে অনেক দূরে। একটু বিশেষ লক্ষ করলে দেখব আমাদের বাঙালীর যা কিছু গৌরবমন্ডিত, হাতে গোনা গুটিকয়েক মানুষের সৃস্টি।আমরা বাকীরা তা নিয়ে ভোগ-বিলাস,দূর্নীতি,বিতর্ক,টানাহেচড়ার মধ্য দিয়েই জীবন পার করছি। জীবন বাহ্যিকতায় মোহাবিষ্ট হয়ে আমাদের জীবনের গভীর সৌন্দর্যের দিকে লক্ষ্য করা হয়না।

আমাদের কাছে পেশা মানে কেবলমাত্র আর্থিক আবলম্বন,বিনোদন মানে ডীজুসমার্কা বিদেশী নোংরা সংস্কৃতির আগ্রাসন,শিক্ষা মানে-ভবিষ্যত উপার্জনের হাতিয়ার আর ইংরেজীর শিক্ষার একক দখলদারিত্ব! বই মানে পাঠ্যবই ছাড়া বাকীসব শেলফে সাজিয়ে রেখে আধুনিক ব্যাক্তিত্ব প্রকাশের মাধ্যম !

আমরা কখনো লক্ষ্য করেছি আমাদের নতুন প্রজণ্ম অনলাইনে কি কি করে?ভার্চুয়াল জগতের অন্ধকার দিকটা কি তাকে গ্রাস করছে না?তার সেলফোনটি কি পর্ণ ছবিতে ঠাসা?কিংবা এটি দিয়ে গভীর রাতে বিপরীত জেণ্ডারের সাথে কথ্যসেক্স করছে না? সে কি ইয়াবা বা এজাতীয় নেশাদ্রব্যে আসক্ত না?

আমাদের নতুন প্রজণ্ম ধীরে ধীরে তলিয়ে যাচ্ছে । সে সাথে তলিয়ে যাচ্ছে সংস্কৃতি,ঐতিহ্য,জাতিগত চেতনা।
আর এসব যদি না থাকে, নামে এ দেশ ,এ জাতি থেকে কি লাভ?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০১৫ সকাল ১১:০৮
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরকালে আল্লাহর বন্ধু, দাস নাকি কয়েদী হবেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২২ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:১৪




সূরাঃ ৫১ যারিয়াত, ৫৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৫৬। আমি জিন ও মানুষকে এ জন্য সৃষ্টি করেছি যে, তারা আমারই ইবাদত করবে।

সূরাঃ ২ বাকারা, ২৫৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৫৫। আল্লাহ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদের আগের রাতে দুই মোল্লার কথোপকথন ( (কাল্পনিক)

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:২১


এশার নামাজ শেষ হয়েছে বেশিক্ষণ হয়নি। মসজিদের ভেতর রফিকুল্লাহ সাহেব একা বসে আছেন। বয়স বাষট্টি। হাতের তসবিটা নাড়ছেন, কিন্তু গোনা হচ্ছে না আসলে। চোখ গেছে দূরে—বাজারে আলো জ্বলছে, রিকশার ভিড়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুর ঈদ কবে?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২২ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:০৬




সবাইকে ঈদ মুরাবক!

ঈদ কেমন গেলো? পুরো রমজানের দুআা কতটুকু কাজে লেগেছে? বৃষ্টি ভেজা, বজ্রপাতে কোনো ভোগান্তি হয়েছে : প্রিয়জন সব ঠিকঠাক আছে? আহত বা নিহত হয়েছে?? ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-৩

লিখেছেন অর্ক, ২২ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৪৫



সারাজীবন আমি মানবতা, সত্য, শুভ, সুস্থ, সুন্দরের চর্চা করে এসেছি। আমার উপর শতভাগ আস্থা রাখতে পারেন। শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে আমি কিছু বলি না বা দাবি করি না। এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইহুদীদের ষড়যন্ত এবং আমেরিকার খনিজ সমৃদ্ধ ভূমী দখলের লীলাখেলা।

লিখেছেন রাশিদুল ইসলাম লাবলু, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৪২



র্দীঘদিন ধরে ইহুদীরা মুসলিমদের সন্ত্রাসী পরিচয় তকমা দিয়ে বিশ্ব দরবারে ঘৃন্য জাতি সত্ত্বাতে পরিনত করার অপেচেষ্টায় রত ছিলো। মুসলমান মানেই সন্ত্রাসী প্রথমেই ধারনা দিতে তৈরি করা হল আল কায়দা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×