somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ফকির ইলিয়াস
আলোর আয়না এই ব্লগের সকল মৌলিক লেখার স্বত্ত্ব লেখকের।এখান থেকে কোনো লেখা লেখকের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা, অনুলিপি করা গ্রহনযোগ্য নয়।লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা করতে চাইলে লেখকের সম্মতি নিতে হবে। লেখকের ইমেল - [email protected]

মানবিক বিবেচনা প্রসারিত করুন, মি. প্রেসিডেন্ট

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





মানবিক বিবেচনা প্রসারিত করুন, মি. প্রেসিডেন্ট
ফকির ইলিয়াস
===========================================

চারদিকে অশনি সংকেত। সন্ত্রাসীরা এখন মরিয়া। তারা বেপরোয়া হয়ে উঠছে ক্রমশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলে দিয়েছেন, আমেরিকা চাইলে যে কোনো দেশে সামরিক অভিযান চালাবে। তিনি বলেছেন, ভীতি জীবনের অংশ হতে পারে না স্থায়ীভাবে। মানুষকে দাঁড়াতে হবে। সাহস নিয়ে এগোতে হবে।

মি. বারাক ওবামা বলেছেন, সন্ত্রাসী নেতারা পৃথিবীর যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। আইএসকে পরাজিত করতে আমেরিকা, সিরিয়া এবং ইরাকি সেনাবাহিনীকে রসদ এবং প্রশিক্ষণ দেয়াও অব্যাহত রাখবে। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস থেকে জাতির উদ্দেশে টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য সব কিছু করা হচ্ছে বলে আশ্বস্ত করেন। ওবামা বলেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে ‘আমেরিকা বনাম ইসলামের’ যুদ্ধ আখ্যায়িত করে আমেরিকানরা যদি নিজেদের মুখোমুখি হয় তাহলে তা হবে বড় ভুল। ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জয়ী হতে হলে আমাদের অবশ্যই মুসলিম কমিউনিটিকে সবচেয়ে শক্তিশালী বন্ধু হিসেবে পাশে রাখতে হবে, সন্দেহ আর ঘৃণায় তাদের দূরে ঠেলে দিলে চলবে না।’ ‘আলকায়েদা ও আইএসের (ইসলামিক স্টেট) ভ্রান্ত মতাদর্শ বাতিলের জন্য মুসলিম নেতাদের অবশ্যই আমাদের সঙ্গে কাজ করতে হবে।’ যোগ করেন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যত ধরনের ক্ষমতা আছে, প্রয়োজনে তার সবই আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কাজে লাগানো হবে। প্রেসিডেন্ট আমেরিকানদের মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘আমি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসীদের দমনে অনুমতি দিয়েছি। কারণ আমি জানি, তারা কতটা বিপজ্জনক। আমেরিকানদের নিরাপত্তার চেয়ে আমার বড় কোনো দায়িত্ব নেই।’ তিনি যুক্তরাষ্ট্র্র কংগ্রেসের দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘বেশ কিছু পদক্ষেপ কংগ্রেসকে এখনই নিতে হবে। যাতে কেউ বন্দুক কিনতে না পারে, এমন নিশ্চয়তা তৈরি করার মধ্য দিয়ে শুরু করতে হবে। এটা জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়।’ ওবামা তার ভাষণে উল্লেখ করেন, ‘আইএস চাইছে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি ঘটাবে। তবে এ অপশক্তি দমন করবে যুক্তরাষ্ট্র্র। এজন্য আমরা বদ্ধপরিকর।’

আমরা জানি, মার্কিন প্রেসিডেন্টরা সাধারণত জরুরি ভাষণগুলোই ওভাল অফিস থেকে দিয়ে থাকেন। ওভাল অফিস থেকে এটা ছিল প্রেসিডেন্টের তৃতীয় ভাষণ। ওবামা সর্বশেষ ভাষণ দিয়েছিলেন এই ওভাল অফিস থেকে, যখন তিনি ২০১০ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ তৎপরতা অবসানের কথা ঘোষণা করেন। বলার অপেক্ষা রাখে না, ক্যালিফোর্নিয়ার সান বার্নার্ডিনোতে সন্ত্রাসী হামলা আবারো কাঁপিয়ে তুলেছে আমেরিকান জীবনযাত্রা। হামলার কারণ উদঘাটনে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সহকর্মীদের একটি পার্টিতে দুই বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হয় ১৪ জন। আহত হয় ২১ জন। হামলার পর ধাওয়া করা পুলিশের গুলিতে হামলাকারী সৈয়দ রিজওয়ান ফারুক (২৮) ও তাশফিন মালিকও (২৭) নিহত হয়।

এদিকে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এই তাশফিন মালিক বিষয়ে অনেক খবরই আসছে মিডিয়ায়। ব্রিটেনের দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকা তাশফিন মালিক সম্পর্কে যে প্রতিবেদন ছেপেছে, তাতে বলা হয়েছে এফবিআই এ হামলার ঘটনাকে সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে ধরে নিয়েই তদন্ত শুরু করেছে। কারণ নিজের ফেসবুক পাতায় তাশফিন জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেছিল। এটা পরিষ্কার নয়, কখন এ নারী চরমপন্থি হয়ে ওঠে। কিংবা কে-ই বা তাকে চরমপন্থায় দীক্ষা দিয়েছিল। এফবিআই কর্মকর্তারা অবশ্য ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাশফিন ও তার স্বামী রিজওয়ান ফারুক সম্ভবত নিজেরা নিজেরাই চরমপন্থি হয়ে উঠেছে। হামলার পরপর এ দম্পতির ঘরে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র, বারুদ, পাইপ-বোমা উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, তারা হয়তো আরো হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিল।

খবরে প্রকাশিত হয়েছিল, অল্প বয়সেই পাকিস্তান থেকে বাবার সঙ্গে সৌদি আরবে পাড়ি জমায় তাশফিন। সেখানেই ২০০৭ সাল পর্যন্ত বসবাস ছিল তার। এরপর পুনরায় পাকিস্তানে গিয়ে বাহাউদ্দিন যাকারিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি স্কুলে পড়াশোনা করে সে। এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, তাশফিন ছিল ভালো শিক্ষার্থী। তার মধ্যে কোনো ধর্মীয় উগ্রবাদী প্রবণতাও ছিল না। তবে পরে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়ে ফার্মাসিস্ট হিসেবে কাজ করেনি সে। ২০১৩ সালে মক্কায় হজ পালন করতে গেলে ফারুকের সঙ্গে তার পরিচয় হয় বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। এর কিছুদিন পরই তারা বিয়ে করে। মার্কিন নাগরিক ফারুকের স্ত্রী হিসেবে কে-১ ভিসায় সে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে। এই যে বিষয়গুলো, তা যুক্তরাষ্ট্রের মুসলমান সমাজকে বেশ প্রশ্নের মুখোমুখি করছে। সামনে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে, একজন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রামের অত্যন্ত আপত্তিকর বক্তব্য ঝড় তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র্রসহ গোটা বিশ্বে। ক্যালিফোর্নিয়ায় গুলির ঘটনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি তুলেছেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রচারের এক বিবৃতিতে তিনি বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়ে মুসলমানদের মনোভাব যতদিন না দেশের প্রতিনিধিরা স্পষ্ট বুঝতে পারছেন, ততদিন এই নিষেধাজ্ঞা চালিয়ে যাওয়া উচিত।

ট্রাম্পের ওই বিবৃতির পর রিপাবলিকান পার্টির আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী বেন কারসেনও যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসা বিদেশিদের নিবন্ধন ও নজরদারির আওতায় আনার দাবি তুলেছেন। আরেক রিপাবলিকান প্রার্থী ফ্লোরিডার সাবেক গভর্নর জেব বুশ বলেছেন, ট্রাম্প ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’। বিষয়টিকে ‘লেজেগোবরে’ করে তুলেছেন ট্রাম। কারণ সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে মুসলমান বিদ্বেষ ছড়ানো কোনো দরকারি কাজ নয়। রাজনৈতিক কাজ তো নয়ই। যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েল এস্টেট মোগল এই ব্যবসায়ীর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন দেশটির রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, শিক্ষক ও অন্যান্য ধর্মের প্রতিনিধিরা। জাতিসংঘের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীরাও তার বক্তব্য নাকচ করেছেন। ওই বক্তব্যকে ‘তিরস্কারযোগ্য, ক্ষতিকর ও উসকানিমূলক’ আখ্যায়িত করে বিবৃতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিলারি ক্লিনটন। হিলারি বলেছেন- ‘আমরা কখনোই আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতাদের অঙ্গীকারের কথা ভুলতে পারি না, যার অন্যতম হলো- বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ করা হবে না।’

নিউইয়র্কের সিটি পাবলিক এডভোকেট লেটিসা জেমস এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘এমন ব্যক্তি কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে চায়? তার জানা উচিত, উগ্রপন্থিরা কখনোই আমেরিকানদের সমর্থন পায়নি, ভবিষ্যতেও পাবে না।’ তিনি যোগ করে বলেছেন- ‘যুক্তরাষ্ট্র গড়ে উঠেছে বহু ভাষা-ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের মানুষের কঠোর শ্রমের মধ্য দিয়ে, পারস্পরিক সহমর্মিতা, স্বাধীনতা ও পরমতসহিষ্ণুতার কারণে। এমন অবস্থায় ট্রাম্পের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধের পরিপূরক নয়।’

আমরা দেখছি, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বারাক ওবামা তার শেষ উচ্চারণ করেই যাচ্ছেন। কুয়ালালামপুরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান সম্মেলনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোনো রকম ছাড় দেবে না।

এক সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে বারাক ওবামা আইএসবিরোধী লড়াইয়ে সহায়তার জন্য রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, জঙ্গি নেতাদের খুঁজে বের করা হবে এবং আইএসের আয়ের উৎস বন্ধ করা হবে। অবশ্যই আইএসকে ধ্বংস করে দেয়া হবে। রাশিয়া যদি আইএসকে ধ্বংস করার ওপর গুরুত্ব দেয়, সেটা ‘আশাব্যঞ্জক হবে’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন, সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে সরিয়ে নেতৃত্বের পরিবর্তন আনতে মস্কো রাজি হবে। ওবামা খুব দৃঢ় কণ্ঠে বলেছেন, ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পরও সেখানে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ওবামা জানান, তিনি এতে যোগ দেবেন এবং বিশ্বনেতারাও যেন অবশ্যই প্যারিস সম্মেলনে যোগ দিয়ে প্রমাণ করেন, তারা কট্টরপন্থিদের ভয়ে ভীত নন। গুটিকয়েক খুনি নিজেদের অপকর্মের মাধ্যমে বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ বন্ধ করে দিতে পারবে না। নির্ভীকতাই হবে আইএসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনও আসিয়ান সম্মেলনে বক্তব্য দেয়ার সময় সন্ত্রাস নির্মূল করার কাজে সহায়তার জন্য রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মানবতার নামেই সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা অবলম্বনকারীদের পরাজিত করতে হবে। আইএস নামের অভিন্ন শত্রুকে দমনের জন্য বৈশ্বিক ঐক্য ও সংহতি প্রয়োজন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনও সন্ত্রাস দমনে বৈশ্বিক সহযোগিতা চেয়েছেন। নেতারা এই যে হুঙ্কার ছাড়ছেন, তা বিশ্বশান্তির পায়রাগুলোকে আকাশে কতটা উড়াতে পারবে? কতটা আশ্বস্ত হতে পারবেন বিশ্বের মানুষ? এমন অনেক প্রশ্নই আসছে।

এবারের এশিয়া সফরে ওবামা তুরস্ক, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার কারণে এশিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে বারাক ওবামা বলেছেন, তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দেশের সংগঠন আসিয়ানের নেতাদের আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্যই এশিয়ার দেশগুলোর প্রতি সুসম্পর্ক বজায় রাখাটা ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আসিয়ানের নেতারা এই সম্মেলনে যে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন, এর মধ্য দিয়ে ওই অঞ্চলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ধাঁচে একটি অভিন্ন বাজার ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে। যা করা হচ্ছে সবই শান্তির জন্য। কিন্তু এই শান্তি বিনষ্ট করতে যদি কোনো কালোশক্তি ওই অঞ্চলে ঢুকে পড়ে তবে তা কীভাবে ঠেকানো যাবে তা নিয়েও প্রশ্ন আসছে সঙ্গত কারণেই। আতঙ্ক এবং ভীতির মধ্য দিয়েই চলছে যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আয়োজন। শেষমেশ ডেমোক্র্যাটের পক্ষে হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকানদের পক্ষে জেব বুশ প্রার্থী হবেন এমন প্রত্যাশাই করছে মার্কিনিরা। অবশ্য এর ব্যত্যয়ও ঘটতে পারে। তবে যে কোনো মূল্যে ডোনাল্ড ট্রাম ঠেকাও- এই অবস্থা দিনে দিনে স্পষ্ট হচ্ছে।

নিউইয়র্কের প্রভাবশালী সিনেটর চার্লস শুমার একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন সম্প্রতি। তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসীরা আমাদের অস্ত্রই আমাদের ওপর ছুড়ে দিচ্ছে কিনা তা ভেবে দেখতে হবে। যারা লিগ্যালি অস্ত্র কেনে, তাদের ওপরও মনিটরিং বাড়াবার তাগিদ দিয়েছেন এই সিনেটর। বলেছেন, যারা আমাদের টাইম স্কোয়ার কিংবা হোয়াইট হাউস উড়িয়ে দেয়ার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে, এরা এত শক্তি পাচ্ছে কোথায়? কোনো গোষ্ঠী কিংবা নির্দিষ্ট ধর্মাবলম্বীকে দায়ী না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সন্ত্রাসী সবার চোখেই সমান। ওদের কোনো জাত-পাত নেই। বিষয়টি সাধারণ আমেরিকানকে ভুলে গেলে চলবে না। ডেমোক্র্যাট দলের এই প্রভাবশালী সিনেটর বলেছেন, আইন করেই এদের ক্ষমতার ডানা ছেঁটে দিতে হবে। বিষয়টি লক্ষ রাখতে হবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও।

বারাক ওবামা যে অভিযান পরিচালনার কথা বলছেন, তা হতে হবে মানবিকতার পক্ষে। কোনো আগ্রাসনই কাম্য নয় বিশ্বের মানুষের। নেলসন ম্যান্ডেলা বলেছিলেন, আলোচনা এবং আলোচনাই একমাত্র সমাধান করতে পারে সব উদ্ভূত সমস্যার। জঙ্গিদের সঙ্গে সেই আলোচনার সুযোগ নেই। কিন্তু এদের দমনে আন্তর্জাতিক কৌশলের ঐক্য দরকার। যে ঐক্য হবে সব মানবিক বিবেচনার সোপান।
-------------------------------------------------------------------------------
দৈনিক ভোরের কাগজ ॥ ঢাকা ॥ শনিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৫
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:২৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×